‘স্যর’ গারফিল্ড সোবার্সের অনন্যতা খুব অল্প বয়সেই উপলব্ধি করেছিলাম। ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩-১ ব্যবধানে জিতেছিল। যত দূর মনে পড়ে, অধিনায়ক সোবার্স সেই সিরিজে ৭০০-রও বেশি রান করেছিলেন, নিয়েছিলেন ২০টি উইকেট, ধরেছিলেন ১০টি ক্যাচও। এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন কেরিয়ার জুড়ে। তবে এ প্রশ্নও আসবে, সোবার্স-উত্তর ক্রিকেটবিশ্বে ‘সেরা অলরাউন্ডার’ কে? লিখছেন রামচন্দ্র গুহ। বিশেষ সহযোগিতায় দীপ্র ভট্টাচার্য।
ক্রিকেট নিয়ে আমি যে প্রথম দিকের বইগুলির একটি পড়েছিলাম, তাতে কোনও একজন লেখক স্মরণ করেছিলেন– তাঁকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ক্রিকেট ইতিহাসের ‘সর্বকালের সেরা’ অলরাউন্ডার কে? উত্তরে বলেছিলেন, নাম বলতে না-পারলেও তিনি প্রায় নিশ্চিত যে, এই সম্মানের প্রধান দাবিদার এমন একজন, যিনি বাঁহাতি বোলার, ডানহাতি ব্যাটার এবং যাঁর জন্ম কার্কহিটন গ্রামের মাটিতে।
আরও পড়ুন:
বইটির নাম এখন আর মনে নেই, তবে লেখকের নাম মনে আছে। তিনি ছিলেন এ. এ. থমসন, ইয়র্কশায়ারের ক্রিকেটারদের প্রতি প্রবল পক্ষপাতিত্বের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। ছোটবেলায় তিনি উইলফ্রেড রোডস এবং জর্জ হার্স্ট-কে ‘আদর্শ’ মানতেন। দু’জনেই ইয়র্কশায়ারের হয়ে খেলেছেন, দু’জনেরই জন্ম ইয়র্কশায়ারের ছোট্ট জনপদ কার্কহিটনে, দু’জনেই ডান হাতে ব্যাট করতেন এবং বাঁহাতে বোলিং করতেন (তফাত শুধু এই যে, হার্স্ট ছিলেন সিম বোলার, আর রোডস ছিলেন স্পিনার)। তাই ক্রিকেটের ‘সর্বকালের সেরা’ অলরাউন্ডার কে– প্রশ্নের উত্তরে– থমসনের এহেন চতুর জবাব। হার্স্ট ও রোডসের মধ্যে কাউকে বেছে নিতে তিনি চাননি; তবে তাঁর বিশ্বাস ছিল, এই খেতাবের একমাত্র ‘প্রকৃত দাবিদার’ এই দু’জনই।
আরও পড়ুন:
নিজ-নিজ ক্ষেত্রে ব্র্যাডম্যান এবং সোবার্স ছিলেন অনন্য—–ইংরেজি সাহিত্যে যেমন শেক্সপিয়রের অবস্থান।
কর্নাটক ক্রিকেটের প্রতি আমার নিজের অনুরাগের নেপথ্যেও এ. এ. থমসনের লেখার ভূমিকা রয়েছে। তিনি-ই আমাকে শিখিয়েছিলেন, ক্রীড়াপ্রীতির ক্ষেত্রে দেশ বা জাতির চেয়ে রাজ্য বা কাউন্টিকে অগ্রাধিকার দিতে। তবে তখনও বুঝতে পেরেছিলাম, এটি ছিল পক্ষপাতিত্বের বাড়াবাড়ি। কারণ, থমসন এ-কথা বলেছিলেন গত শতকের ছয়ের দশকে, যখন প্রায়
স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, ‘সর্বকালের সেরা’ অলরাউন্ডারের দাবিদার হতে পারেন মাত্র একজন। তিনি বাঁহাতে বোলিং করতেন, আর বাঁহাতেই ব্যাট করতেন, আর তাঁর জন্ম ক্যারিবিয়ানের ছোট্ট দ্বীপ বার্বাডোজে। হার্স্ট এবং রোডসের কাউন্টি ক্রিকেটে রেকর্ড ছিল দুর্দান্ত, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে তাঁদের কীর্তি ‘স্যর’ গারফিল্ড সেন্ট অউব্রান সোবার্সের তুলনায় ছিল অনেকটাই ম্লান।
কেমব্রিজের গণিতবিদ জি. এইচ. হার্ডি, যিনি ক্রিকেটের একনিষ্ঠ অনুরাগী ছিলেন, একবার মন্তব্য করেছিলেন– ‘স্যর’ ডন ব্র্যাডম্যান এমন এক স্তরের ব্যাটসম্যান, যেখানে আর কোনও ক্রিকেটার কখনও পৌঁছাতে পারেননি। হার্ডি ১৯৪৭ সালে মারা যান; তিনি যদি আরও ২০ বছর বেঁচে থাকতেন, তবে নিশ্চয়ই যোগ করতেন যে, অলরাউন্ডারদের মধ্যেও সোবার্স এমন এক উচ্চতায় অবস্থান করেন, যেখানে আর কেউ পৌঁছাতে পারেননি।
সোবার্সের অনন্যতা আমি খুব অল্প বয়সেই উপলব্ধি করি। রেডিওতে আমি যে প্রথম ক্রিকেট সিরিজটি অনুসরণ করেছিলাম, সেটি ছিল ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড সফর। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই সিরিজ ৩-১ ব্যবধানে জিতেছিল। যত দূর মনে পড়ে, তাদের অধিনায়ক সোবার্স সেই সিরিজে ৭০০-রও বেশি রান করেছিলেন, নিয়েছিলেন ২০টি উইকেট এবং ধরেছিলেন ১০টি ক্যাচও। পরের শীতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারত সফরে আসে, আর সেখানেও সিরিজ জয়ে সোবার্স আবারও পালন করেন মুখ্য ভূমিকা।
নিজ-নিজ ক্ষেত্রে ব্র্যাডম্যান এবং সোবার্স ছিলেন অনন্য—–ইংরেজি সাহিত্যে যেমন শেক্সপিয়রের অবস্থান। অবশ্যই সর্বকালের ‘দ্বিতীয় সেরা’ ইংরেজি সাহিত্যিক কে– তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তিনি কি ওয়ার্ডসওয়ার্থ, চসার, জর্জ এলিয়ট, চার্লস ডিকেন্স, না কি অন্য কেউ? একইভাবে, ক্রিকেট ইতিহাসের ‘দ্বিতীয় সেরা’ ব্যাটসম্যান কে, কিংবা ‘দ্বিতীয় সেরা’ অলরাউন্ডার কে—তা নিয়েও বিতর্ক হওয়া একেবারেই সংগত। এই নিবন্ধটি শেষোক্ত প্রশ্নটিকেই ছুঁয়ে যেতে চাইবে।

হ্যাডলি, ইমরান, বোথাম এবং কপিলদেব– চারজনকেই অনেক খেলতে দেখেছি এবং প্রত্যেককেই গভীরভাবে শ্রদ্ধা করেছি।
‘স্যর’ গারফিল্ড সোবার্স নিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে অভিষেক করেন ১৯৫৪ সালে। আর প্রথম টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল তারও প্রায় আট দশক আগে, ১৮৭৭ সালে। সোবার্সের আগের যুগের সেরা অলরাউন্ডারদের কথা ভাবলে, আগে উল্লিখিত হার্স্ট ও রোডস ছাড়াও মনে আসে আরও একজন ইয়র্কশায়ার ক্রিকেটার এফ. এস. জ্যাকসনের নাম, অস্ট্রেলিয়ার মন্টি নোবল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জি. এ. ফকনারের নাম– যাঁদের প্রত্যেকেরই টেস্ট রেকর্ড ছিল যথেষ্ট সমৃদ্ধ। একই সঙ্গে, চারের দশকের শেষভাগে ব্র্যাডম্যানের দুর্ধর্ষ অস্ট্রেলীয় দলের অন্যতম স্তম্ভ কিথ মিলারের পক্ষেও জোরালো যুক্তি দেওয়া যায়। তিনি ছিলেন দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান, ভয়ংকর গতির বোলার এবং অসাধারণ স্লিপ ফিল্ডার।
আর, সোবার্সের পরের যুগের মহান অলরাউন্ডারদের কথা বলতে গেলে, সবার আগে মনে পড়ে ১৯৭০ ও ১৯৮০-র দশকের সেই বিস্ময়কর চারজনের কথা, যাঁদের ক্যারিয়ার উল্লেখযোগ্যভাবে একে-অপরের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল– নিউজিল্যান্ডের রিচার্ড হ্যাডলি, পাকিস্তানের ইমরান খান, ইংল্যান্ডের ইয়ান বোথাম, এবং ভারতের কপিল দেব। এঁদের মধ্যে হ্যাডলি ছিলেন অনেক ব্যবধানে সেরা বোলার। ভারতীয় কন্ডিশনে এবং স-সময়ের দুর্বল ভারতীয় স্লিপ ফিল্ডিংয়ের মাঝেও কপিল সাহসিকতার সঙ্গে দ্রুতগতির বোলিংয়ের ভার বহন করেছিলেন। তবে অধিকাংশ বিচারক সম্ভবত এই চারজনের মধ্যে ইমরান কিংবা বোথামকেই এগিয়ে রাখবেন, কারণ তাঁরা ব্যাট ও বল– দুই ক্ষেত্রেই প্রায় সমান দক্ষ ছিলেন।
হ্যাডলি, ইমরান, বোথাম এবং কপিলদেব– চারজনকেই অনেক খেলতে দেখেছি এবং প্রত্যেককেই গভীরভাবে শ্রদ্ধা করেছি। কিন্তু তাঁরা যত মহান-ই হন না কেন, আমার র্যাঙ্কিংয়ে তাঁদেরও উপরে থাকবেন সেই শান্ত, সংযত দক্ষিণ আফ্রিকান জ্যাক কালিস। কালিসের সমসাময়িকদের মধ্যে ছিলেন শেন ওয়ার্ন, ব্রায়ান লারা এবং শচীন তেন্ডুলকরের মতো অগাধ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কিংবদন্তি। সম্ভবত, এ কারণেই বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছ থেকে তিনি তাঁর প্রাপ্য মনোযোগ ও সম্মান পুরোপুরি পাননি। কিন্তু অন্তত এই বিশেষ ক্রিকেটভক্তের মন ও হৃদয়ে তাঁর স্থান ছিল আলাদা। ২০১২ সালে একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত নিবন্ধে কালিসের অবিশ্বাস্য ব্যাটিং, দক্ষ সুইং বোলিং এবং স্লিপে তাঁর চমৎকার ক্যাচ ধরার ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তাঁকে অভিহিত করেছিলাম– ‘বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়’ রূপে। বেসবল থেকে ধার করা এই অভিধাটি। আমি লিখেছিলাম, ‘অতুলনীয় গ্যারি সোবার্সের পর এই অভিধাটি আর কোনও ক্রিকেটারের চেয়ে কালিসের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি মানানসই।’
প্রায় ২০১৯ সাল পর্যন্ত নির্দ্বিধায় বলা যেত, ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ডারের জন্ম চেশায়ারের ছোট্ট জনপদ হেসওয়ালে।
জ্যাক কালিস এক দশক আগে অবসর নিয়েছেন। তাহলে এখনকার বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় কে? আমার নিজের ভোট যাবে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোক্সের পক্ষে, যার অসাধারণ সামর্থ্য অ্যাশেজ সিরিজে বারবার উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। লর্ডসে টেস্টের শেষ দিনে তঁার ব্যাটিং দেখে আমার মনে পড়েছিল ১৯৮১ সালে হেডিংলেতে ইয়ান বোথামের সেই কিংবদন্তি ইনিংসের কথা– যদিও সেটি তঁার দলের জন্য আরও সুখকর ফল এনে দিয়েছিল। তবু আমার বিশ্বাস, বথামের চেয়েও স্টোক্স উন্নত মানের ক্রিকেটার। বিশ্বের সব দলের বিরুদ্ধে, সব ধরনের কন্ডিশনে তিনি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন; অথচ বোথামের, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে রেকর্ড ছিল খুবই দুর্বল। স্টোক্স শারীরিক সাহসিকতার দিক থেকেও বেোথামের চেয়ে এগিয়ে, টেস্ট এবং সীমিত ওভারের ক্রিকেট– উভয় ক্ষেত্রেই সমান স্বচ্ছন্দ (অন্যদিকে বোথামের একদিনের ক্রিকেটের রেকর্ড ছিল মাঝারি মানের), এবং তিনি একজন অনুপ্রেরণাদায়ক অধিনায়কও– যা বোথাম কখনও ছিলেন না, কিংবা হতে পারেননি।
প্রায় ২০১৯ সাল পর্যন্ত নির্দ্বিধায় বলা যেত, ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ডারের জন্ম চেশায়ারের ছোট্ট জনপদ হেসওয়ালে। তিনি তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটজীবনের বেশিরভাগ সময় খেলেছেন সমারসেটের হয়ে, ডান হাতে ব্যাট করতেন, ডান হাতেই বোলিং করতেন এবং অধিকাংশ সময় স্লিপে ফিল্ডিং করতেন। কিন্তু ২০১৯ সালের পরে, বিশ্বকাপ এবং সেই বছরের অ্যাশেজ সিরিজে যা ঘটল– আমার মনে হয়, সেই দাবি আর ততটা অটুট নয়। বরং ক্রমশ আমার মনে হচ্ছে, ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে চাপানো সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারের জন্ম নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণ দ্বীপের বৃহত্তম শহর ক্রাইস্টচার্চে। তিনি বাঁহাতে ব্যাট করেন, ডান হাতে বোলিং করেন, এবং মাঠের যে কোনও জায়গাতেই অসাধারণ ফিল্ডিং করতে পারেন।
সোবার্সের পর কে– কালিস, গিলক্রিস্ট, স্টোক্স– না অন্য কেউ– এই বিতর্কের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে ক্রিকেটের সেই অদ্ভুত ক্ষমতা, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের মুগ্ধ করে রাখে।
এই আলোচনায় এতক্ষণ আমি যাঁদের কথা বলেছি, তাঁরা প্রত্যেকেই ব্যাট এবং বল– উভয়মুখী দক্ষতার জন্য পরিচিত। কিন্তু ‘অলরাউন্ডার’-এর আর-একটি ধরনও রয়েছে– যাঁরা উইকেটের সামনে যেমন সমান দক্ষ, তেমনই উইকেটের পিছনেও; ব্যাট হাতে যেমন, গ্লাভস পরেও তেমনই। এই শ্রেণিটিকেও যদি আলোচনায় যুক্ত করা হয়, তাহলে বিতর্ক আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তখন কুমার সাঙ্গাকারা এবং মহেন্দ্র সিং ধোনির নাম উঠে আসবে, আর সম্ভবত আরও কেন্দ্রীয়ভাবে উঠে আসবে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের নাম।
“গ্যারি সোবার্সের পরে (অথবা তাঁকে বাদ দিলে) ‘সর্বকালের সেরা’ অলরাউন্ডার কে?”– এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমি একডজনেরও বেশি নাম আলোচনায় এনেছি। কিন্তু এই দীর্ঘ তালিকা থেকে একজন, কিংবা দু’জনকে কীভাবে বেছে নেওয়া যায়? ক্রিকেটপ্রেমীদের পক্ষপাত অনেকটাই নির্ধারিত হয় তাঁদের দেশ এবং প্রজন্মের বিবেচনায়। শৈশবের নায়করা আমাদের চেতনায় সবসময়ই বড় হয়ে থাকেন; তেমনই আমাদের নিজের দেশ (বা রাজ্যর) ক্রিকেটাররাও। তাই এ. এ. থমসনের হার্স্ট এবং রোডসের প্রতি পক্ষপাত অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ‘স্যর’ গ্যারি সোবার্সকে বাদ দিয়ে ‘সর্বকালের সেরা’ অলরাউন্ডারের নাম বলতে গেলে নিজেকে দ্বিধাবিভক্ত অবস্থায় পাই– জ্যাক কালিস এবং অ্যাডাম গিলক্রিস্টের মধ্যে। তাঁদের কেউই ভারতীয় নন, এবং দু’জনই আমার চেয়ে অনেক কমবয়সি।
হয়তো শেষ পর্যন্ত এ প্রশ্নের কোনও নির্দিষ্ট উত্তর নেই। ক্রিকেট, পরিসংখ্যানের খেলা হলেও, তার স্মৃতি কখনও সংখ্যার মধ্যে বন্দি থাকে না। আমরা প্রত্যেকে নিজের সময়, নিজের দেখা বিকেল, নিজের প্রিয় মুখ, আর নিজের বিস্ময়কে সঙ্গে নিয়েই একজন অলরাউন্ডারকে বিচার করি। তাই সোবার্সের পর কে– কালিস, গিলক্রিস্ট, স্টোক্স– না অন্য কেউ– এই বিতর্কের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে ক্রিকেটের সেই অদ্ভুত ক্ষমতা, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের মুগ্ধ করে রাখে। কিছু প্রশ্নের ‘উত্তর’ হয় না বলেই তারা বেঁচে থাকে; ঠিক তেমনভাবেই ক্রিকেটের সবচেয়ে সুন্দর বিতর্কগুলির আসলে কোনও নিষ্পত্তি হয় না– সেগুলি কেবল আরও একটি প্রজন্মের হাতে পৌঁছে যায়। তাই, এই প্রশ্নের উত্তর বদলাবে, শুধু ‘স্যর’ গ্যারি সোবার্স নামটি অক্ষয় থাকবে তুলনার এক অনন্ত দিগন্ত হয়ে।
(মতামত নিজস্ব)
(রামচন্দ্র গুহর অনুমত্যানুসারে প্রকাশিত)
সৌজন্য স্ক্রল ডট ইন
সর্বশেষ খবর
-
স্প্যানিশ ফুটবলের নবজাগরণের নায়ক, ফুয়েন্তের কোচিং দর্শন শুধু তিকিতাকায় সীমাবদ্ধ নয়
-
উদ্বাস্তু কলোনি থেকে বিশ্বজয়, ইয়ামালের স্বপ্নের জীবনেতিহাস
-
স্পেনের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ মেসির
-
‘ঈশ্বরে’র প্রমাণ করার কিছু নেই! হেরেও চিরবিজয়ীই লিও মেসি
-
ফাইনালের হাফটাইমে জমকালো সমাপ্তি অনুষ্ঠান, শাকিরা-জাস্টিনদের সঙ্গে নজরকাড়া রোনাল্ডিনহোরা