Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Underage Motherhood

বঙ্গে নাবালিকা বিয়ে ও মাতৃত্ব: সামাজিক পচন রোধে সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

নাবালিকা মাতৃত্বের নেপথ্যে যে-স্বামীরা আছে, তারা প্রত্যেকে জেলযোগ্য অপরাধী।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ১২:৩০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ১২:৩০

options
link
বঙ্গে নাবালিকা বিয়ে ও মাতৃত্ব: সামাজিক পচন রোধে সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয় zoom
প্রতীকী ছবি।
Advertisement

নাবালিকা মাতৃত্ব বাংলার সমাজে ক্রমবর্ধমান সামাজিক পচন। নাবালিকা মাতৃত্বের নেপথ্যে যে-স্বামীরা, তারা প্রত্যেকে জেলযোগ্য অপরাধী।

নাবালিকা মাতৃত্বের সংখ্যায় ২ বছর আগে ত্রিপুরা ছিল পয়লা নম্বরে। এখন সেই অগৌরবে ও সামাজিক অপরাধ ও শরমে আমাদের বাংলা। মুখ্যমন্ত্রী স্বাভাবিকভাবে উদ্বিগ্ন! তিনি পরিষ্কার বলেছেন, বাংলার হোটেল-রেস্তোরার খাদ্যে যেমন পচার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে- তেমনই নাবালিকা মাতৃত্বও বাংলার সমাজে ক্রমবর্ধমান সামাজিক পচন। নাবালিকা মাতৃত্বের নেপথ্যে যে-স্বামীরা আছে, তারা প্রত্যেকে জেলযোগ্য অপরাধী। কিন্তু সমস্যা হল, অত জেল কোথায় বাংলায়? তবে নাবালিকা মাতৃত্বের দায়ে দোষী স্বামীদের কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। শুরুতে শুধু শো-কজ পাঠানো হচ্ছে। তারপর আইনি ব্যবস্থা হবে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

কন্যে জন্মানো মানে মা-বাবার উপর বাড়তি চাপ। যত দ্রুত কন্যেকে পরের হাতে সঁপে দেওয়া যাবে, তত ভালো। আর, মেয়েকে অল্পবয়সে বিয়ে দিতে পারলে সামাজিকভাবে সুনাম মেলে। পারিবারিক স্থিতির বিজ্ঞাপন হয়। একদা ‘কুলীন ব্রাহ্মণ’দের কৌলীন্য যখন দিকে-দিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল, তখন অল্প বয়সের কন্যেকে যেনতেন উপায়ে কুলীন পাত্রের হাতে তুলে দেওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। পাত্রের বয়স যদি বেশিও হয়, সংকোচ হত না। কুলীন পাত্রেরা অগণন বিয়ের দিতে ঝুঁকে পড়ত, এবং বিয়ের দায়িত্ব নামমাত্র পালন করত। এর দায় বর্তাক: অপরিণত বয়স ও বুদ্ধির মেয়েটির জীবনে।

নাবালিকা মাতৃত্বের নেপথ্যে যে-স্বামীরা আছে, তারা প্রত্যেকে জেলযোগ্য অপরাধী। কিন্তু সমস্যা হল, অত জেল কোথায় বাংলায়? তবে নাবালিকা মাতৃত্বের দায়ে দোষী স্বামীদের কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।

মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি একটি নির্দিষ্ট স্তরে গিয়ে উপনীত না হলে, বিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এটি এমন কোনও বিদেশি আপ্তবাক্য নয়, যার হদিশ সমাজের অজানা। কিন্তু অপরিণত শরীর ও মনের অধিকারী একটি মেয়েকে যখন জোর করে পাত্রস্থ করা হয়, তার জীবনে নেমে আসে বিভীষিকা। বিয়ের সামাজিক দিক সেনা পারে সামলাতে, বিয়ের সঙ্গে জড়িত হাজার একটা পারিবারিক দায়িত্ব না পারে সম্পন্ন করতে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়: বয়সে বড় স্বামীর শারীরিক চাহিদা মেটানোর দায়। শ্বশুরবাড়ির নতুন পরিবেশে, বাবা-মা ও অন্যান্য প্রিয়জনের বৃত্ত থেকে অনেক দূরে থেকে মেয়েটি বুঝতেই পারে না, কী তার করণীয়।

১৮৬৬ সানে জন্মানো হৈমবতী সেনের ডাকনাম ছিল ‘চুনীবাবু’। পরিবার চেয়েছিল, ছেলে হোক। মেয়ে ভূমিষ্ঠ হতে ছেলের নামেই তাঁর পরিচয় তৈরির চেষ্টা করা হয়। তাঁকে একটা সময় পর্যন্ত ছেলেদের পোশাক পরিয়ে রাখা হত। পিতা প্রসন্নকুমারের প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয়ে তাঁর লেখাপড়া চলছিল একরকম। কিন্তু যেদিন ঠাকুমাকে ‘রামায়ণ’ পড়ে শোনালেন তিনি, তাঁর লেখাপড়া চিরতরে বন্ধ হল। কারণ, মেয়ে শিক্ষিত হলে বিধবা হবে দ্রুত। নিয়তির লিখনে এরপর অনেকগুলি ঘটনা ঘটে। চুনীবাবুর বাল্যবিবাহ ও অকালবৈধব্য হল। স্বামীর সম্পত্তি পেলেন না।

মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি একটি নির্দিষ্ট স্তরে গিয়ে উপনীত না হলে, বিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এটি এমন কোনও বিদেশি আপ্তবাক্য নয়, যার হদিশ সমাজের অজানা। কিন্তু অপরিণত শরীর ও মনের অধিকারী একটি মেয়েকে যখন জোর করে পাত্রস্থ করা হয়, তার জীবনে নেমে আসে বিভীষিকা।

কিন্তু হৈমবতী সেন আপন চেষ্টায় লেখাপড়া শিখে ডাক্তার হন। বাল্যবিবাহের অভিশাপ জয় করে রূপকথা প্রত্যেকে লিখতে পারে না। তবে নাবালিকা বিয়ে ও মাতৃত্ব আমরা রোধ করতে পারলে, একালের হৈমবতীরা স্বচ্ছন্দে লেখাপড়া শিখে নরম আলোর মতো জীবন গড়তে পারবে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.