২৩ চৈত্র  ১৪২৬  সোমবার ৬ এপ্রিল ২০২০ 

Advertisement

সুনীলের স্ত্রীয়ের সঙ্গে কী শর্তে ছবি তুলতে রাজি হলেন অমিতাভ?

Published by: Bishakha Pal |    Posted: December 5, 2018 6:56 pm|    Updated: December 5, 2018 6:56 pm

An Images

মুম্বইয়ের অভিজাত হোটেল। রাত দেড়টা। ডান্স ফ্লোরে অমিতাভ ও জয়া বচ্চন। আড্ডা মারছেন ধোনি-ঐশ্বর্য-হৃতিকরা। দীপিকা রণবীরের স্মরণীয় বিয়ের রিসেপশনে সুনীল ছেত্রী। সঙ্গে হাজির স্ত্রী সোনম ভট্টাচার্য। পার্টির ধারাবিবরণী তাঁর কাছে শুনলেন দুলাল দে

ফোনে টানা ট্রাই করছিল রণবীর আর দীপিকা। কিন্তু সুনীলের ফোন তো বন্ধ। ঘরের মাঠে দিল্লির বিরুদ্ধে আইএসএল খেলছিল। যখন মোবাইল অন করার সুযোগ পেল, তখন আবার কোচ চলে এসেছেন। ছোট্ট মিটিং। সুনীল দেখছে, মোবাইলের স্ক্রিনের উপর ভেসে উঠছে একবার রণবীর, আরেকবার দীপিকার নাম। সমস্যা হল কোচের সঙ্গে মিটিং থাকায় ধরতে পারছে না। যদিও বুঝতে পারছে, কেন বারবার কল আসছে দু’জনের। ততদিনে যে বাড়িতে নেমন্তন্ন কার্ড চলে এসেছে। মুম্বইয়ের গ্র্যান্ড হায়াতে রণবীর সিং আর দীপিকা পাড়ুকোনের বিয়ের পার্টির। এর পর ফাঁকা হতেই দীপিকার ফোন ধরে সুনীল। দ্রুত প্রমিস করল, শনিবার ঠিক মুম্বই পৌঁছে যাব আমরা।

সুনীল আর আমি দু’জনেই মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে বড় হয়েছি। তবু আমি বাবা আর ভাইয়ের জন্য টলিউডের সেলিব্রিটিদের হাতের কাছে দেখেছি। কিন্তু তার সঙ্গে বলিউড পার্টির কোনও তুলনাই চলে না। এর আগে আমাদের জমকালো পার্টি বলতে বিরাট-অনুষ্কার বিয়েতে যাওয়া। বিরাট আর সুনীল এমনিতে দু’জনেই খুব কাছের বন্ধু। একজন ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিমের ক্যাপ্টেন। অন্যজন ফুটবল। প্রায় সারাদিন একে অপরকে হোয়াটস অ্যাপে জোকস শেয়ার করে। মজার মজার ভিডিও পাঠায়। সঙ্গে সারা পৃথিবীর আলোচনা। একবার বিরাট আর অনুষ্কা মিলে ওদের বাড়িতে আমাদের লাঞ্চে নিয়ে গেল। ভাবলাম, ঘন্টা দুই থেকে চলে আসব। কিন্তু বিরাট-অনুষ্কার সঙ্গে এমন গল্প জমে গেল, ফিরলাম সন্ধেবেলা। তাই কোনও পার্টিতে এই কাপল থাকলে আমার সমস্যা হয় না।

সুনীল এমনিতে পার্টিতে যেতে চায় না। প্রথমত কিছু খেতে চায় না। তার উপর লজ্জা লজ্জা মুখ করে এক কোণে বসে থাকে। বিয়ে হওয়ার পর আমাকে নিয়ে অবশ্য সব জায়গায় যাচ্ছে। বলা ছিল, রাত ৯টা থেকে শুরু হবে পার্টি। বেঙ্গালুরু থেকে আমরা যখন মুম্বইয়ের গ্র‌্যান্ড হায়াতে রণবীর-দীপিকার পার্টিতে পৌঁছলাম, তখন রাত সাড়ে এগারোটা। পার্টি থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন শাহরুখ খান। ইনভিটেশন কার্ডে উল্লেখ ছিল, ‘ব্ল্যাক টাই ডিনার।’ তাই বরুণ দাহেলের ডিজাইন করা একটা কালো শাড়ি পরেছিলাম। বরুণ দাহেল সুনীলের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমাদের বিয়ের সময় সুনীলের সব ড্রেস বরুণ দাহেলই ডিজাইন করেছিল।

বিয়েতে ‘নো গিফট প্লিজ’, এমন অবস্থায় নবদম্পতিকে কী উপহার দেবেন? ]

পার্টিতে ঢোকা মাত্র অতিথি আপ্যায়নে এগিয়ে এলেন প্রকাশ পাড়ুকোন। কী অমায়িক ব্যবহার দীপিকার বাবার। সঙ্গে সঙ্গেই এল দীপিকা আর ওর ছোট বোন। রণবীর তখন ব্ল্যাক স্যুট পরে ডান্স ফ্লোরে ঝড় তুলেছে। বরাবরের মতো সুনীল আমাকে নিয়ে একটু কোণার দিকে বসে আমার সঙ্গেই গল্প করছিল। দূর থেকে দেখে এগিয়ে এল সাক্ষী আর মহেন্দ্র সিং ধোনি। সুনীলকে বলল, কেন আমরা আলাদা বসে আছি। তারপরেই দুম করে সুনীলকে ধোনির প্রশ্ন, “আচ্ছা চেন্নাইয়ের খবর কী?” মানে আইএসএলে ধোনির নিজের দলের খবর জানতে চাইছে সুনীলের থেকে। আমি আর সাক্ষী ভাবছি, উফ্, এখানেও সেই খেলা। ওরা ওদের মতো। আমরা আমাদের মতো। হঠাৎ দেখি, গুটি গুটি পায়ে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছেন অমিতাভ বচ্চন! অমিতজিকে দেখে আমার তো হাত পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। জয়া বচ্চন একটু দূরেই ছিলেন। অমিতাভ পরেছিলেন নীল রঙের স্যুট। অমিতজির সঙ্গে ছিলেন ঐশ্বর্য রাই বচ্চন। ওঁকে দেখে আমার স্কুল লাইফের একটা কথা মনে পড়ে গেল।

তখন কলকাতায় একটি সফট ড্রিঙ্ক কোম্পানি থেকে কম্পিটিশন হয়েছিল। আমার এক বন্ধু জিতেছিল সেই কম্পিটিশন। জানানো হয়েছিল, সেই সংস্থার ব্র‌্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে দুপুর একটার সময় আসবেন ঐশ্বর্য রাই। আমি তো একটার অনেক আগে থেকেই বন্ধুর বাড়ির দরজায়। পরে ঐশ্বর্য যখন এলেন, বিকেল পাঁচটা বেজে গিয়েছে। সেই ঐশ্বর্য যখন কাছে, এসে আমাকে হাগ করে জিজ্ঞাসা করলেন, কেমন আছি, ভাবছিলাম, সেই ঐশ্বর্য? স্বপ্নের নারী? আর মিস্টার অমিতাভ বচ্চনের কথা কী বলব। কী ডাউন টু আর্থ। সুনীলকে এত ভালবাসেন জানতাম না।

একজন ফটোগ্রাফার ধোনির পরিবারের সঙ্গে আমাদের পরিবারের ছবি ক্যামেরাবন্দি করতে চাইলেন। সঙ্গে সঙ্গে অমিতজি, “এই ছবিটায় আমিও কি থাকতে পারি?” আমি তখন কী বলব সত্যিই ভেবে উঠতে পারছি না। অমিতাভ বচ্চন বলছেন আমাদের সঙ্গে ছবি তুলবেন? আমি তখন সুনীলকে কানে কানে বললাম, শুধু একা আমি অমিতজির সঙ্গে একটা ছবি তুলতে চাই। একটু অনুরোধ করা যাবে ওঁকে? সুনীল গিয়ে অমিতাভ বচ্চনকে বললেন, “স্যর, আমার ওয়াইফ আপনার সঙ্গে একটা ছবি তুলতে চায়।” সঙ্গে সঙ্গে অমিতজি এক মুখ হাসি এনে বললেন, “তোমার স্ত্রী আমাকে ছবি তোলার জন্য সারা রাত দাঁড় করিয়ে রাখলেও আমি দাঁড়িয়ে থাকব। তুমি যার যার সঙ্গে বলবে, আমি ঘুরে ঘুরে সবার সঙ্গে ছবি তুলব। কিন্তু তোমাকেও আজকের পার্টিতে একটা প্রমিস করতে হবে।” সুনীল তো ঘাবড়ে গিয়ে লজ্জিত ভাবে বলল, “আদেশ করুন স্যর।” এবার অমিতজি, “কথা দাও, আইএসএলে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে গোল করবে না।” বলে নিজেই হাসতে লাগলেন আমার স্বপ্নের পুরুষ অমিতাভ বচ্চন।

ডান্স ফ্লোর থেকে হঠাৎ আমাদের সামনে হাজির রণবীর সিং। দাবি, আমাদের তাঁর সঙ্গে আবার গ্রুপ ছবি তুলতে হবে। ফের ফটো সেশন। এবার সবাইকে টানতে টানতে রণবীর নিয়ে গেল ডান্স ফ্লোরে। চালানো হল জুম্মা চুম্মা দে দে…। ব্যস ডান্স ফ্লোরে আগুন লাগিয়ে দিলেন অমিতজি। সঙ্গে জয়া বচ্চনও। সুনীল ডান্স ফ্লোরে বরাবর একটু লাজুক। কোমর দোলাল। আমি তো ফাটিয়ে নাচলাম। কে নেই তখন ডান্স ফ্লোরে! ঐশ্বর্য, করিনা, সইফ, মালাইকা অরোরা, হৃত্বিক রোশন…. পুরো বলিউড ভেঙে পড়ছে। পার্টিতে। আর স্পোর্টসের লোকজন বলতে আমরা আর ধোনির বাইরে শুধু হার্দিক পান্ডিয়া। অনুষ্কা বেশ কয়েকবার আমার ডান্স পার্টনার হল। প্রায় ৩০০ জনের মতো তখন ডান্স ফ্লোর মাতাচ্ছে। আর যে ডান্স ফ্লোরের বাইরে যেতে চাইছে, সঙ্গে সঙ্গে রণবীর জোর করে তাকে ডান্স ফ্লোরে টেনে আনছে। রণবীর কাপুরকে কিন্তু পার্টিতে দেখলাম না।

অদম্য সাংবাদিকের গল্প ফুটে উঠল ‘আ প্রাইভেট ওয়ার’-এর পর্দায় ]

রাত তখন দুটো। সুনীল গিয়ে রণবীর-দীপিকাকে বলল, এবার বেরিয়ে যাবে। কেন না, ভোরেই গুয়াহাটি চলে যেতে হবে আইএসএল ম্যাচের জন্য। রণবীর তো ছাড়তেই চাইছে না। সুনীলকে দেখে সতি্যই গর্ব বোধ হচ্ছিল। যে তারকাদের দেখার জন্য আমরা অপেক্ষার পর অপেক্ষা করে থাকি, সেই তারকারা সুনীলকে কী ভালবাসেন। মনে হচ্ছিল, সুনীল যেন প্রতে্যকের কাছে ডার্লিং। আসলে কষ্ট করে বড় হয়েছে বলে সুনীলের পা এখনও মাটিতে।

রাত আড়াইটে। যখন আমরা গ্র‌্যান্ড হায়াত ছেড়ে বেরিয়ে আসছি, তখনও কিন্তু ডান্স ফ্লোর কাঁপাচ্ছেন অমিতাভ বচ্চন। হ্যাঁ, এই বয়সেও!

Advertisement

Advertisement

Advertisement