প্রকাশ্যে গোমাংস খাওয়ার কথা বলে মারাত্মক বিতর্কে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। সোশাল মিডিয়ায় উত্তরোত্তর কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে বর্ষীয়ান অভিনেতাকে। ট্রোল-মিমের বন্দুকবাজির হাত থেকেও ছাড় পাননি! ভাইরাল হয়েছে বিশ্বজিৎকে (Biswajit Chakraborty) জুতোর মালা পরানো বিকৃত ছবিও। খাদ্যাভ্যাস নিয়ে একজন প্রবীণ অভিনেতাকে সোশাল পাড়ায় যেরকম কুরুচিকরভাবে ট্রোল হতে হচ্ছে, সেসব দেখেশুনে আর মুখ বুজে থাকতে পারলেন না সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, মানসী সিনহারা।
কেউ ‘তথাকথিত বুদ্ধিজীবী’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন তো কেউ বা আবার ‘ডিম হামলা’র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একাংশ আবার বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার নিদান দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে পদ্মাপাড়ের আতিথেয়তা, খাবারের প্রশংসা করেছিলেন বিশ্বজিৎ। বিশেষ করে সেখানকার গোমাংস ও ইলিশের পদের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। সেই ভিডিও সোশাল পাড়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ভয়ানক কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে প্রবীণ অভিনেতাকে। কেউ ‘তথাকথিত বুদ্ধিজীবী’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন তো কেউ বা আবার ‘ডিম হামলা’র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একাংশ আবার বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার নিদান দিয়েছেন। এহেন নানা কটাক্ষবাণের ভিড়ে প্রবীণ অভিনেতার ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশ্বজিৎকে যখন এহেন কুরুচিকর ট্রোলের মুখে পড়তে হচ্ছে, তখন টলিউড কেন চুপ? প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা।

সুরজিতের মন্তব্য, “বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী দুই বাংলার একাত্মতা নিয়ে কথা বলেছেন এবং গোমাংস খাবার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন, তার জন্য জুতোর মালা পরিয়ে তাঁর ছবি যারা পোস্ট করেছে তারা বাংলার কুলাঙ্গার। তাদের বিরুদ্ধে বাংলার সমস্ত অভিনেতা-অভিনেত্রীরা যদি প্রতিবাদে মুখর না হন, তাঁদের আমি ধিক্কার জানাই। প্রসঙ্গত, বলে রাখি বার দুয়েক আমিও বিফ রোল খেয়েছি। তারপর বেশি খাইনি কারণ আমার মাটন বেশি ভালো লাগে। তবে ভালো বিফ পেলে আবার খাব। অশিক্ষিত, আকাটগুলো জানে না হিন্দু ধর্মের নীতি নির্ধারক ঋষি বলে যাঁরা প্রতিভাত, তাঁরা সকলেই যজ্ঞের পর গোমাংস ভক্ষণ করতেন।”
“যাঁরা আজ মূক-বধির, শুধু জায়গা মতো তোষামোদে যাঁদের কথা ফোটে, তাঁরা সবাই বিফ খান। কিন্তু নির্লজ্জ চাটুকার!…”
এরপরই মৌন টলিপাড়াকে নিশানা করে তাঁর সংযোজন, “যাঁরা আজ মূক-বধির, শুধু জায়গা মতো তোষামোদে যাঁদের কথা ফোটে, তাঁরা সবাই বিফ খান। কিন্তু নির্লজ্জ চাটুকার! তাছাড়া এর জবাবদিহি কোনও সমাজ বিরোধী, নিরক্ষরদের কাছে করবো না। সাব্বাশ বিশ্বজিৎদা, তুমি দেখালে মেরুদন্ড আজও কোনও কোনও বাঙালির আছে। আর বাংলার অভিনেতাকূল এর প্রতিবাদে মুখর না হলে নিজেদের আর শিল্পী বলে জাহির করবেন না। বাবুর ইশারায় তার উঠোনে নাচা ‘ভাড়াটে পারফর্মার’ বলেই গণ্য করবেন নিজেদের।” বিশ্বজিতের সঙ্গে ছবি ভাগ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ মানসী সিনহাও। অভিনেত্রী-পরিচালকের আর্জি, ‘বাংলার সম্মানীয় অভিনেতাকে নিয়ে যে বা যারা নোংরা পোস্ট করছে, তাদের ধিক্কার জানাই। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন এদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির বন্দোবস্ত করা হোক।’ সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ করেছেন বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বৃদ্ধের খাবারে ঘুমের ওষুধের কড়া ডোজ, আলমারি ‘সাফ’ করে গায়েব পরিচারিকা!
-
পরিবর্তনের দুর্গোৎসবে শুধু ‘বড়’ নয়, ‘ছোট’দের পুজোর উদ্বোধনেও মুখ্যমন্ত্রী, তৈরি হচ্ছে তালিকা
-
কলকাতায় বিশ্বকাপারদের হ্যাটট্রিক! ব্রাজিল-উরুগুয়ের পর ফের বিদেশি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত
-
কলকাতার বধূকে চাকরির লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশে পাচার! অবশেষে সীমান্ত পেরিয়ে ফিরলেন মধুমিতা
-
৪ নেতাকে সাসপেন্ড, এক্তিয়ার মনে করিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সভানেত্রীকে শোকজ করল বিজেপি!