পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালির সিনেমা মানেই ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ সেট। সেট ডিজাইনিংয়ের বিষয়ে যে পরিচালক-প্রযোজক বেজায় খুঁতখুঁতে, সেকথা ঘনিষ্ঠদের ভালোই জানা। এবার সেটে একাধিক কর্মীর মৃত্যু নিয়ে প্রশ্নের মুখে বনশালি। গত আড়াই দশকে স্বনামধন্য পরিচালকের সেটে চার কলাকুশলীর মৃত্যু হয়েছে। কেন বার বার বনশালির সেটেই এমন ঘটনা ঘটে? ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ-এর পর এবার প্রশ্ন তুলল ‘অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন’। শুধু তাই নয়, পরিচালক-প্রযোজকের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবিতেও ‘এককাট্টা’ AICWA।
“কই কোনওদিন কোনও তারকা বা অভিনেতাকে এমন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হতে হয়নি। কেন শুধু কলাকুশলীদেরই নিরাপত্তাতেই এত অবহেলা?” বনশালির সেটের এহেন ঘটনাকে ‘খুন’ বলেও দাবি করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
ঠিক কী ঘটেছে? খবর, গত ১৭ জুন মুম্বইয়ের গোরেগাঁও ইস্টের রয়্যাল পাম্প স্টুডিওতে রণবীর কাপুর, আলিয়া ভাট ও ভিকি কৌশল অভিনীত সিনেমার শুটিং চলছিল। সেখানেই বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় এক সেট ডিজাইন শিল্পীর জানা গিয়েছে, ৪২ বছর বয়সি ওই কাঠমিস্ত্রির নাম চন্দ্রভান যাদব। এদিন ভোর ৩টে নাগাদ শর্ট সার্কিটের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে অনুমান প্রাথমিক তদন্তে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মৃতের পরিবারের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। সেই প্রেক্ষিতেই ফেডারেশনের পর এবার সুর চড়াল সর্বভারতীয় সিনে সংগঠন। অতীত ঘটনাগুলির কথা মনে করিয়ে তাদের অভিযোগ, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই বনশালির সেটে বারবার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

AICWA-র সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্ত মনে করিয়ে দিয়েছেন, “বনশালির সেটে এটিই প্রথম মৃত্যু নয়। ২০০০ সালে তাঁর ‘দেবদাস’ ছবিটি মুক্তি পায়। শুটিং চলেছিল দুই বছর ধরে। সেইসময়ে, একজন কর্মী মারা যান। এরপর ২০০১ সালে তাঁর সেটে আরও এক কর্মীর মৃত্যু হয়। ২০১৬ সালে মুক্তি পায় ‘পদ্মাবত’। আর সেই ছবির সেটেও একজন কর্মী প্রাণ হারান। এখন ২০২৬ সাল— তাঁর ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ ছবির সেটে মৃত্যু হল চন্দ্রভান সিংয়ের। একই প্রযোজকের সেটে— চার-চারটি মৃত্যুর ঘটনা। বিষয়টি কিন্তু মোটেও সাধারণ নয়।” তাঁর সংযোজন, “কই কোনওদিন কোনও তারকা বা অভিনেতাকে এমন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হতে হয়নি। কেন শুধু কলাকুশলীদেরই নিরাপত্তাতেই এত অবহেলা?” বনশালির সেটের এহেন ঘটনাকে ‘খুন’ বলেও দাবি করেছেন তিনি। AICWA-র দাবি, এবার বনশালি প্রোডাকশনস-এর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হোক। নইলে ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা ঘটবে।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ‘ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ’ এবং FSSAMU যৌথভাবে প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে চন্দ্রভানের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছে। সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে যদিও ওই কলাকুশলীর পরিবারকে ৪০ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল বনশালির প্রযোজনা সংস্থা, তবে FWICE-এর তরফে আরও ১০ লক্ষ বাড়িয়ে মোট ৫০ লক্ষ ক্ষতিপূরণের দাবি করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, মৃত কর্মীর পরিবারের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে তাঁর অল্পবয়সি কন্যাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে। তবে এবার ‘অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন’ ওরফে AICWA-এর তরফে ১ কোটি ক্ষতিপূরণের দাবি তোলা হল। এবার বনশালির সংস্থা তাতে রাজি হয় কিনা? নজর থাকবে সেদিকে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পরিত্রাতা বিষ্ণু, ইন্ডিয়ান আর্মিকে হারিয়ে ডুরান্ডের সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল
-
মেয়ের নাবালিকা বান্ধবীকে যৌন হেনস্তা! গণপিটুনির পর অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দিল স্থানীয়রা
-
দুশ্চিন্তা কিছুতেই কমছে না? ২০ মিনিট হাঁটার অভ্যাসেই মিলতে পারে সমাধান
-
এআই, সোশাল মিডিয়ায় জোর, জেন জি-র মন জিততে নয়া প্রচার কৌশল বঙ্গ বিজেপির
-
‘এই দিনটার স্বপ্ন দেখেছিলাম,’ পূজারা-দ্রাবিড়ের নজির ছুঁয়ে ২ বছরের পরিশ্রমের গল্প ফাঁস পাড়িক্কলের