দেওল পরিবারের অন্দরে কি ফাটল ধরেছে? ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের পর বিনোদুনিয়া থেকে সোশাল পাড়া সর্বত্র একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশেষ করে গত নভেম্বরে দুই পক্ষের স্ত্রী-সন্তানদের আলাদা করে স্মরণসভার আয়োজন চোখে আঙুল দিয়ে চিড় ধরার দিকেই ইঙ্গিত করেছিল। মুম্বইয়ে যেমন সানি-ববিরা বাবার স্মরণসভার আয়োজন করেছিলেন, তেমন দুই কন্যা এষা-অহনাকে নিয়ে দিল্লিতে নেতা-মন্ত্রীদের জন্য আলাদা করে ধর্মেন্দ্রর স্মরণসভা করেন হেমা মালিনী। তবে উভয়েই উভয় পক্ষের অনুষ্ঠানে গরহাজির ছিলেন। সেখান থেকেই একাংশের অনুমান, দেওলদের অন্দরের ‘ফাটল’ এবার স্পষ্ট! এমন আবহেই শোনা যায়, সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে সৎ ভাইবোনদের সম্পর্কও নাকি একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে! সত্যিই কি তাই? মাস খানেকের এহেন গুঞ্জনযজ্ঞের মাঝেই এবার মুখ খুললেন ববি দেওল।
“আমরা সকলেই যে যার মতো করে নিজস্ব উপায়ে এই শোক সামলানোর চেষ্টা করছি। মাঝেমধ্যে আমরা একে অপরকে ভুল বুঝি, কারণ আমরা তখন গভীর মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাই। সবারই মনে হয় যে, তার নিজের কষ্টটাই বুঝি অন্যের কষ্টের চেয়ে বেশি। কিন্তু সময় দিতে হয়। সময় তার নিজস্ব গতিতে সব ক্ষত সারিয়ে দেয়। এই বিয়োগযন্ত্রণার কিন্তু এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে…”
আরও পড়ুন:

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাবা ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের পর দেওল পরিবারের সমীকরণ নিয়ে মুখ খোলেন ববি দেওল (Bobby Deol)। সেখানেই পিতৃবিয়োগের যন্ত্রণা, মানসিক শূন্যতার কথা বলতে গিয়ে দুই সৎ বোন এষা ও অহনা দেওল প্রসঙ্গে কথা বলেন অভিনেতা। বাবার প্রয়াণের পর কঠিন সময় কীভাবে তাঁদের দুই পরিবারের মধ্যে সেতুবন্ধন করেছে সেকথাই বলছিলেন ববি। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “এখন মনে হয়, ইশ! বাবার পাশে বসে যদি আরও কিছুটা সময় কাটাতে পারতাম। যদি তাঁকে আরও বেশি প্রশ্ন করতে পারতাম। তবে পিতৃহারা হওয়ার ধাক্কাটা আমাদের ভাইবোনদের আরও অনেক বেশি পরিণত করেছে। আমরা এখন একে-অপরের সঙ্গে আরও বেশি করে সময় কাটাই। অপ্রত্যাশিতভাবে এই বিয়োগব্যথা ইশা-অহনার আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে আমাকে।” ববি দেওলের সংযোজন, “আমরা সকলেই যে যার মতো করে নিজস্ব উপায়ে এই শোক সামলানোর চেষ্টা করছি। মাঝেমধ্যে আমরা একে অপরকে ভুল বুঝি, কারণ আমরা তখন গভীর মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাই। সবারই মনে হয় যে, তার নিজের কষ্টটাই বুঝি অন্যের কষ্টের চেয়ে বেশি। কিন্তু সময় দিতে হয়। সময় তার নিজস্ব গতিতে সব ক্ষত সারিয়ে দেয়। এই বিয়োগযন্ত্রণার কিন্তু এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে, যা কঠিন সময়ে কোনও পরিবারকে আরও কাছে নিয়ে আসে।”

বাবার মৃত্যুতে বাহ্যিক জগৎ সম্পর্কেও যে তিনি আরও সচেতন হয়েছেন, সেকথাও জানান ববি দেওল। অভিনেতার মন্তব্য, “এখন আমি আমার স্ত্রী-সন্তান এবং পরিবারের সাথে সময় কাটানোর ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন। বক্স অফিস নম্বর, সিনেমার রিভিউ, চরিত্র কিংবা রোল, দিনশেষে এগুলোর কোনও মূল্যই থাকে না। কারণ আপনি আপনার প্রিয়জনদের সাথে কতটা সময় কাটাতে পারছেন- প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি এটাই। নাম-যশ, খ্যাতি, অর্থ দিয়ে কী-ই বা হবে, যদি সেটা উপভোগ করার জন্য পাশে আপনজনই না থাকে?” বাবা ধর্মেন্দ্র মৃত্যুর ছ’মাস বাদেও মাঝেমধ্যেই ইনস্টাগ্রামে বাবার রিল ভিডিওয় চোখ রাখেন ববি। অভিনেতা নিজমুখেই সেকথা জানালেন কারণ সেসব ক্যামেরাবন্দি মুহূর্তে চোখ রাখলেই তাঁর মনে হয় বাবা তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন। অতঃপর ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পরই যে সৎ বোনদের সঙ্গে সদ্ভাব হয়েছে, ধোঁয়াশা সরিয়ে সেকথা স্পষ্ট করে দিলেন ‘লর্ড ববি’।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘মাওবাদী মুক্ত’ ছত্তিশগড়ে পুরভোটে এগিয়ে বিজেপি, সমান টক্কর দিয়ে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত কংগ্রেসেরও
-
মাদ্রাসার আড়ালে বেআইনি কার্যকলাপ নয় তো? খুঁটিনাটি জানতে চেয়ে জেলাশাসকদের ‘ডেডলাইন’ নবান্নের
-
স্বপ্নের উড়ানে ‘আরোহণ ২০২৬’, মেধাকে স্বীকৃতি জানাল ডিসান হসপিটাল
-
সরকারি বালতিও চুরি! শ্রীরামপুরে গ্রেপ্তার ২ তৃণমূল নেতা
-
কাঁচামালের তীব্র সংকট! নৈহাটির জুটমিলে ‘সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক’, বিপাকে হাজার শ্রমিক