নিট কেলেঙ্কারি ইস্যুতে গত ২৪ জুলাই ধর্মতলায় ছাত্র মিছিল থেকে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। সেই মিছিলেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘কুরুচিকর’ ছবি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র কেয়া ঘোষ আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এছাড়াও বিজেপির নেতা-কর্মীদের তরফে বিধাননগরের সাইবার ক্রাইম থানাতেও অভিযোগ দায়ের করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ‘কুরুচিকর’ কার্টুন বিতর্কে মুচিপাড়া থানাতেও দু’টি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক ফৌজদারি মামলা খারিজের আবেদন জানিয়ে শ্রীলেখা মিত্র হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে স্বস্তি পেলেন শ্রীলেখা মিত্র। শর্তসাপেক্ষ সুরক্ষাকবচ পেলেন অভিনেত্রী।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেছেন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩৫৩(২) ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সিনিয়র আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, শ্রীলেখা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে হাজির হয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও তদন্তের স্বার্থে সবরকম সহযোগিতা করবেন। তাঁর যুক্তি, অভিযোগপত্রে বর্ণিত আচরণ সত্যি হলেও ফৌজদারি অপরাধের আওতার অর্ন্তভুক্ত করা যায় না।
আরও পড়ুন:
এই মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত শ্রীলেখার সেদিনের আপত্তিকর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারকের বক্তব্য, “কেন এমন আচরণ করেছিলেন? এটা শুধু একটা কার্টুন নয়, সত্যিই রুচিহীন।” জবাবে আইনজীবীর পালটা যুক্তি, কাজটি অবশ্যই রুচিহীন কিন্তু ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের দাবি, ‘কার্টুনটির প্রকৃতি আদালতের বিবেকে বিঁধেছে।’ শ্রীলেখার আইনজীবীর পুনরায় যুক্তি, আদালতের এমন পর্যবেক্ষণ থাকলেও অপরাধ প্রমাণের প্রয়োজনীয় উপাদানগুলি যথেষ্ট নয়।

এবিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত জানায়, “আমরা যদি এই পর্যায়ে মামলাটি খারিজ করে দিই তাহলে ভবিষ্যতে এধরনের আপত্তিকর কাজ উৎসাহিত হতে পারে।” আদালতের বক্তব্য, “এটি শুধু একটি কার্টুন নয়। দেশের কোনও বিচক্ষণ নাগরিকেরই এমন কাজ করা উচিত হয়নি। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে বিএনএস (BNS)-এর ৩৫৩(২) ধারা প্রযোজ্য হবে।” আদালত রাজ্যকে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে শ্রীলেখা মিত্রকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

আদালতের অনুমতি ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। এই সুরক্ষা ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে এই সুরক্ষাকবচ শর্তসাপেক্ষ। তদন্তের প্রয়োজনে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, শ্রীলেখাকে হাজিরার নির্দেশ দিলে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষকে ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে। একটি বিষয়ে আদালতের স্পষ্ট বার্তা, শ্রীলেখা যদি সহযোগিতা না করেন তাহলে এই নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন করা যেতে পারে। পরবর্তী শুনানির দিন তদন্তকারী সংস্থাকে তদন্তে এ পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
প্রাক শিক্ষক দিবসে ১০০ কেজি মাংসে মহাভোজ! জলপাইগুড়ির স্কুলে পড়ুয়াদের ‘মিড ডে মিল’ পরিবেশন শিক্ষকদের
-
পেটের ৭ স্তর কেটে সন্তান জন্ম, চর্চায় মিস ওয়ার্ল্ডের গাউনে মায়ের যন্ত্রণার কাহিনি
-
দোকানের মাল খাঁটি হলে খদ্দের জুটবেই, বলতেন সম্পাদক শরৎচন্দ্র
-
নেপালের বিধ্বংসী বন্যার নেপথ্যে চিন! কোভিডের মতো এবারও দায় এড়াচ্ছে বেজিং
-
ক্যাম্পাসে বন্দে মাতরম যাত্রা এবিভিপির, বাইরে মিছিল এসএফআইয়ের! ফের তপ্ত যাদবপুর