সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সিনেমাজগতে ইন্দ্রপতন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন ‘ই.টি.’র সিনেমাটোগ্রাফার অ্যালেন ডাভিয়াউ। তাঁর প্রয়াণে সিনেমা জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর চোখ দিয়েই বিশ্বের দর্শক চিনেছিল এলিয়েন ‘ই.টি.’কে। আটের দশক থেকে তিনি স্টিভেন স্পিলবার্গের তিনটি ক্লাসিক ছবির শুটিং করেছিলেন। তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় অবশ্যই ‘ই.টি.’। সহকর্মীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন স্পিলবার্গ। জানিয়েছেন, অসাধারণ শিল্পী ছিলেন অ্যালেন। তাঁকে ছাড়া ‘ই.টি.’ করা সম্ভবই হত না।
আমেরিকান সোসাইটি অফ সিনেমাটোগ্রাফারদের তরফে এই দুঃসংবাদটি প্রকাশ করা হয়। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডাভিয়াউ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। বিগত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভরতি ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়। স্টিভেন স্পিলবার্গ বলেছেন, সহকর্মীর চেয়ে অ্যালেন তাঁর বন্ধু ছিলেন বেশি। অসাধারণ প্রতিভাধর ছিলেন অ্যালেন। ছিলেন দুর্দান্ত শিল্পী। তাঁর মানবিকতাও ছিল তাঁর লেন্সের মতোই শক্তিশালী। ‘ই.টি.’তে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করা ডি ওয়ালেসও সিনেমাটোগ্রাফারের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় চিত্রগ্রাহক অ্যালেন ডাভিয়াউ COVID-19-এ আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন। সুন্দর ও প্রতিভাধর মানুষ ছিলেন তিনি। তোমাকে মনে পড়বে বন্ধু!’
[ আরও পড়ুন: ‘এমন সংকটে ওদের কথা ভুললে চলবে না’, এবার পথকুকুরদের সাহায্যে এগিয়ে এলেন শাহরুখ ]
‘ই.টি.’তে সিনেমাটোগ্রাফারের দায়িত্ব পালন ছাড়াও স্পিলবার্গের সঙ্গে আরও দু’টি ছবি করেছিলেন অ্যালেন। ‘এম্পায়ার অফ দ্য সান’ এবং ‘দ্য কালার পার্পল’। এই তিনটি ছবির জন্যই তিনি তিনবার অস্কারে সেরা সিনেমাটোগ্রাফারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। স্পিলবার্গের ‘ক্লোজ এনকাউন্টারস অফ দ্য থার্ড কাইন্ড’ ছবির গোবি মরুভূমির দুর্দান্ত দৃশ্য চিত্রায়ণের পিছনেও তাঁর হাত ছিল। ব্য্যাভি লেভিনসনের ছবি ‘বাগসি’ এবং ‘আভালন’-এ কাজের জন্যও অ্যালেন অস্কারের জন্যও মনোনীত হয়েছিলেন। ‘আভালন’-এর অভিনেত্রী এলিজাবেথ পার্কিনস জানিয়েছেন, প্রকৃতই ভদ্রলোক ছিলেন অ্যালেন। তাঁর মতো দয়ালু মানুষ তিনি দেখেননি।
১৯৪২ সালে নিউ অরলিন্সে জন্মগ্রহণ করেন অ্যালেন ডাভিয়াউ। লস অ্যাঞ্জেলেসে বেড়ে ওঠেন তিনি। সেখানেই ক্যামেরা স্টোর এবং ফিল্ম ল্যাবগুলিতে কাজ শুরু করেন। মিউজিক ভিডিও শুটিংয়ের মধ্যে দিয়ে তাঁর কেরিয়ার শুরু হয়। ১৯৬৮ সালে তিনি স্পিলবার্গের সাথে জুটি বাঁধেন। তাঁরা একসঙ্গে ‘অ্যাম্বলিন’ নামে একটি ৩৫ মিলিমিটারের ভিডিও বানান। ২৬ মিনিটের ওই ভিডিওয় মিউজিক ও সাউন্ড এফেক্টের কাজ ছিল দুর্দান্ত। এরপরই ‘ই.টি’র পরিকল্পনা। এছাড়া ‘কঙ্গো’, ‘দ্য ওয়াইফ অফ অ্যাস্ট্রোনটস’ এবং ‘ভ্যান হেলসিং’-এর মতো ছবিও বানান তিনি। ২০০৭ সালে, আমেরিকান সোসাইটি অফ সিনেমাটোগ্রাফাররা তাঁকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরষ্কারে ভূষিত করে।
[ আরও পড়ুন: ‘বৃদ্ধ কারাবাসীদের মুক্তি দিন’, করোনা পরিস্থিতিতে আরজি অস্কারজয়ী অভিনেতা জোয়াকিনের ]
সর্বশেষ খবর
-
এবার মাদ্রাসাতেও জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা, নির্দেশিকা জারি স্বাস্থ্যদপ্তরের
-
বিশ্বকাপের ‘দ্বিতীয়’ উদ্বোধনী মঞ্চে আগুন ধরালেন নোরা, কানাডা কাঁপালেন ‘বাংলাদেশি’ ডিজে
-
জুটত না থালাভর্তি ভাতও! অভাবকে পরাস্ত করে আকাদেমি পুরস্কার পাচ্ছেন ২ ছৌ শিল্পী
-
‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যেতেই পদ খোয়ালেন মালা রায়, মহিলা তৃণমূলের নতুন সভানেত্রী কে?
-
সড়কপথে ৩৫০ কিমি পাড়ি, বাংলাদেশ পৌঁছলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী