৩১ শ্রাবণ  ১৪২৬  শনিবার ১৭ আগস্ট ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্য রাজনীতিতে গেরুয়া হাওয়ার প্রভাব ক্রমশ সুষ্পষ্ট হওয়ায় তাঁর প্রভাব পড়েছে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেও। মঞ্চ থেকেই এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো হুংকার ছাড়েন- “বারবার ইডির দপ্তরে বাংলা বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ডেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চাপ দিয়ে কিংবা ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ নেই।”

[আরও পড়ুন:  বিজেপিতে যোগ দেওয়া টলিউডের তারকাদের সুবিধাবাদী বলে কটাক্ষ অপর্ণার]

টলিউডের অন্দরে দিনে দিনে ঘাসফুল বনাম পদ্মফুলের লড়াই যে বেশ প্রকট আকার ধারণ করছে, তা বলাই বাহুল্য। একুশের মঞ্চে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের নবনির্বাচিত দুই সাংসদ মিমি চক্রবর্তী এবং নুসরত জাহান জৈন। ছিলেন ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেব-সহ টলিউডের একঝাঁক তারকা- সোহম চক্রবর্তী, রাজ চক্রবর্তী, ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, রানা মিত্র, রাজা চন্দ, অরিন্দম শীল, সৌরভ দাস, প্রিয়াঙ্কা সরকার, ভরত কল, রণিতা দাস, দোলন রায়, মানালি দে, পিয়া সেনগুপ্ত এবং আরও অনেকে। টলিউডের তারকাদের পাশে নিয়েই রবিবার ২১ জুলাই মঞ্চ থেকে মমতা ‘বিজেপি হঠাও দেশ বাঁচাও’ স্লোগান দেন।

রাজ্যের বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে গেরুয়া শিবিরের থাবা পড়তেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ার করে দেন বিরোধী দলকে। রোজভ্যালি কাণ্ডে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে ইডির দপ্তরে ডাক পাঠানোকেও কটাক্ষ করেছেন মমতা। এদিন একুশের মঞ্চে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি দাবি তোলেন, এসব করে ইন্ডাস্ট্রির কলাকুশলী, অভিনেতাদের ভয় দেখিয়ে বিজেপিতে নাম লেখানোর চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। বারবার কেন ডাকা হচ্ছে বাংলা বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতা-অভিনেত্রীদের? সেই প্রশ্নও ছুঁড়েছেন তৃণমূল দলনেত্রী। এপ্রসঙ্গে তাঁর সাফ বক্তব্য, “ইডির দপ্তরে শতাব্দী-প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণাকে ডেকে বিজেপিতে যোগ দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। বিজেপিতে নাম লেখানোর জন্য এজেন্সি মারফত চাপ সৃষ্টি করছে ওরা। ওঁদের মতো অনেক অভিনেতাদেরই ইডি ডাকছে। যাঁরা যোগাযোগ রাখছেন তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। ইডির দপ্তরে ডেকে নিয়ে গিয়ে বলা হচ্ছে, অমুক বিজেপি নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করো। এই তো সেদিন প্রসেনজিৎ ও ঋতুপর্ণাকে ডাকল। এখন শতাব্দীকে ডাকছে। সেদিনই তো শতাব্দী বলছিল, যে ওকেও ইডি ডাকছে। ভয় দেখিয়ে দলবদল করানো হচ্ছে। কারা করাচ্ছে এগুলো জানি না! কাদের নির্দেশে এসব হচ্ছে জানি না!”

[আরও পড়ুন:  বিয়ের পর প্রথম ছবির কাজ সাংসদ নুসরত জাহানের, আগস্টে শুরু শুটিং]

প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুলাই টলিউডের একঝাঁক তারকা দিল্লিতে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং মুকুল রায়ের উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে ছিলেন অভিনেত্রী পার্নো মিত্র, রূপাঞ্জনা মিত্র, কাঞ্চনা মৈত্র, মৌমিতা গুপ্ত, রূপা ভট্টাচার্য, দেবরঞ্জন নাগ, লামা (অরিন্দম হালদার), বিশ্বজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, ঋষি কৌশিক, সৌরভ চক্রবর্তী, অনিন্দ্য পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ১২ জন খ্যাতনামা টলিতারকা। মূলত লকেট, রূপার হাত ধরেই যে টলিউডে গেরুয়া শিবিরের সিঁধ কাটতে সুবিধে হল, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। রাজ্যের ১৮টি লোকসভা আসনে জিতে নিতে না নিতেই টলিউডে ইতিমধ্যেই গঠন হয়ে গিয়েছে বিজেপি ঘনিষ্ঠ দু’-দুটি সংগঠন। আর সেই হাওয়াতে গা ভাসিয়ে ইতিমধ্যেই স্টুডিও পাড়ায় শুরু হয়েছে বড়সড় রদ বদলের পালা। বিজেপির লক্ষ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট, এমনটাই মত রাজনীতিবিদদের একাংশের।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং