শম্পালী মৌলিক: মিমি চক্রবর্তী যে নিজেকে শুধু সাংসদ বা অভিনেত্রী সত্তার মধ্যে আটকে রাখতে চান না, তা বোঝা গিয়েছিল অনেক আগেই। সাধারণ মানুষের সাহায্যে কিংবা পথের পশুদের পাশে তাঁকে সবসময় এগিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া চা-কাকু মৃদুলবাবুর দায়িত্ব নেওয়া, প্রসূতিদের নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা, সবেতেই তাঁকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছে। দেশে যখন উত্তরোত্তর করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই সময় মিমি করোনা সচেতনতায় উদ্যোগী হয়েছেন নানাভাবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দেওয়া, চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনায় বসা ইত্যাদিতে অংশ নিয়েছেন। এবার তিনিই হতে চলেছেন বাংলার প্রথম সেলিব্রিটি যিনি সরাসরি ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে COVID-19 সারভাইভার অর্থাৎ এ রাজ্যের করোনা জয়ী তৃতীয় ব্যক্তি মনামী বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলবেন ২৬ এপ্রিল, সন্ধ্যা ৬টায়।
মনামী একজন প্রতিভাবান কমবয়সি পড়ুয়া। যিনি কলকাতা থেকে স্কটল্যান্ড গিয়েছিলেন মাস্টার্স পড়তে। হয়তো ওখানেই সংক্রমিত হন। তবে দেশে ফিরেই তিনি বেলেঘাটা আইডিতে COVID-19 পরীক্ষা করান। এবং দেখা যায় তিনি করোনা আক্রান্ত। কিন্তু তিনি হেরে যাননি। সব নিয়ম মেনে চলে চিকিৎসকদের সাহায্যে তিনি করোনা সংগ্রামে জয়ী হন। সেরে ওঠার পর কাটিয়ে ফেলেছেন ১৪ দিন। এখন তিনি অন্যদের পরামর্শ দিয়ে ও প্লাজমা থেরাপিতে সাহায্য করতে ইচ্ছুক।

[ আরও পড়ুন: দশ মাসের মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে শুটিং, লকডাউনের প্রথম শর্ট ফিল্মের অভিজ্ঞতা শেয়ার কনীনিকার ]
আগামীকাল সন্ধে ৬টায় মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে ইনস্টাগ্রামে তাঁর কথোপকথনে উঠে আসবে তাঁর বেঁচে থাকার লড়াই তথা করোনা যুদ্ধের ইতিবৃত্তান্ত। মিমি এভাবেই তাঁর কেন্দ্র যাদবপুর তথা বাংলার মানুষকে সচেতনতার বার্তা দিচ্ছেন। এবং ইমিউনিটি বৃদ্ধির টিপস দিয়ে চলেছেন। প্রতিদিন প্রায় দু’হাজারের উপর পরিবারের জন্য পৌঁছে দিচ্ছেন ত্রাণ সামগ্রীও।
মনামীর সঙ্গে তাঁর আলাপচারিতা করোনা জয়ের বার্তা দেবে নিঃসন্দেহে। মিমি জানালেন, ‘আমি মনামীর সাক্ষাৎকার পড়েছি একটি বাংলা অনলাইন মিডিয়ায়। তাঁর সাহসিকতা আমাকে ছুঁয়ে গিয়েছে। আমার মনে হয়েছে ওঁর অভিজ্ঞতা এবং টিপস বাংলাকে আরও সচেতন করবে। আমাদের করোনা নিয়ে প্যানিক কম করতে সাহায্য করবে। আমি আমার কাজের মাধ্যমে সেই চেষ্টাটুকু করছি। আশা করি সকলেই তাই করবেন।’
প্রসঙ্গত, মনামী বিশ্বাস ভারতে ফেরেন ১৮ মার্চ। তারপর হাসপাতালে ভরতি হন ১৯ মার্চ। ২০ তারিখ জানা যায় তিনি পজিটিভ। কিন্তু সব আশঙ্কা নস্যাৎ করে ৩১ মার্চ তিনি করোনা যুদ্ধে জয়ী হন। ফিট সার্টিফিকেট পান। এখন দেখার মনামীর জীবনে ফেরার সত্যি ঘটনা মানুষকে কতটা অনুপ্রাণিত করে।
[ আরও পড়ুন: টম হ্যাংকসের খবর জানতে চিঠি ৮ বছরের ‘করোনা’র, খুদে ভক্তকে টাইপরাইটার উপহার অভিনেতার ]
সর্বশেষ খবর
-
আঞ্চলিক মিষ্টির জিআই ট্যাগ নিয়ে তৎপর বঙ্গ বিজেপি! ‘মিষ্টি হাব’ তৈরিরও পরিকল্পনা শমীকদের
-
এবার সপ্তাহে ৬ দিনই শান্তিনিকেতনে ‘হেরিটেজ ওয়াক’, দ্রুত টিকিট মিলবে অনলাইনেও
-
লরি চাপা পড়ে মাইকেল ক্লার্কের গাড়ি! আইপিএল শেষে বিমানবন্দর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা
-
নিজের নিরাপত্তা দিতে চেয়েছিলেন মমতা! এবার এনআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ‘মাছ চোর’ শওকত
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ