৩ শ্রাবণ  ১৪২৬  শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯ 

Menu Logo বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

এক আইনজীবীর জীবনে জাপানি দর্শনের ছোঁয়া। লিখছেন সোমনাথ লাহা

ফর্টিন্থ সেঞ্চুরির এক ধরনের জাপানি খেলনা পুতুল ‘ওকিয়াগারি কোবসি’। এই পুতুলটির বৈশিষ্ট্য হল যে এটি পড়ে গিয়েও ফের উঠে দাঁড়ায়। অনেকটাই আমাদের এখানকার হিট মি বা পাঞ্চ মি পুতুলের মতোই। তবে জাপানি এই পুতুলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে সেখানকার জীবনদর্শন, যা তাদের জীবন সাধনার সঙ্গে যুক্ত। জাপানের এই পুতুলের কথা মাথায় রেখে এবং তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা জীবনদর্শনের মতো বিষয় ভাবনাকে নিয়েই পরিচালক শমীক রায়চৌধুরির ১৫ মিনিটের শর্ট ফিল্ম ‘ওকিয়াগারি’। মূলত অ্যাড ফিল্মমেকার শমীক ইতিমধ্যেই ‘ডি-মেজর’-এর মতো পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবির পাশাপাশি অসংখ্য শর্ট ফিল্ম, তিনটি তথ্যচিত্র এবং বেশ কিছু বিজ্ঞাপনী ছবি তৈরি করেছেন। এটি তাঁর পরিচালিত ১২তম স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি। গোটা ছবি জুড়ে রয়েছে জাপানি জীবনদর্শনের ছোঁয়া।

[আরও পড়ুন: নুসরতের বিয়েতে গিয়ে ফল চুরি করে খেলেন মিমি! দেখুন ভিডিও]

ছবিতে মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন মির ও দেবলীনা কুমার। ছবিতে মিরকে দেখা যাবে একজন আইনজীবীর চরিত্রে। ইতিপূর্বে অবশ্য অরিন্দম শীল পরিচালিত ‘ধনঞ্জয়’ ছবিতে লইয়ারের ভূমিকায় মিরকে দেখেছেন দর্শকরা। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আবার তাঁকে দেখা যাবে উকিলের চরিত্রে। তবে দুটি চরিত্রের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। ছবিতে মিরের ক্লায়েন্ট বা মক্কেলের চরিত্রে দেখা যাবে দেবলীনা কুমারকে। ‘আবার বসন্ত বিলাপ’-এর পর এই নিয়ে একসঙ্গে দ্বিতীয়বার স্ক্রিন শেয়ার করছেন মীর ও দেবলীনা। ‘ওকিয়াগারি’ জাপানি শব্দ। এর অর্থ হল ওঠো ও জাগো। মূলত এক আইনজীবীর জীবনের ওঠা পড়ার গল্পই উঠে এসেছে এই ডার্ক থ্রিলার শর্ট ফিল্মে। নয়ের দশকের প্রেক্ষাপটে আবর্তিত এই ছবির কাহিনি। সেইজন্য ছবির কস্টিউমও সেই মতোই করা হয়েছে। ক্রিয়েটিভ ওয়ার্ল্ড এন্টারটেনমেন্টের ব্যানারে নির্মিত এই ছবির প্রযোজনার দায়িত্বভার সামলেছেন শর্মিষ্ঠা ঘোষ। ক্রিয়েটিভ প্রোডিউসার মানসী সিনহা। যিনি ছোট ও বড় পর্দার অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী। এটি তাঁদের প্রযোজিত প্রথম শর্ট ফিল্ম।

ছবির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে সাদামাঠা, নম্র, ভদ্র, বিনয়ী ও লাজুক প্রকৃতির একজন জুনিয়র লইয়ার দাইচি দত্ত (মীর)-কে কেন্দ্র করে। পিতৃদত্ত এই নাম নিয়ে সে গর্ব অনুভব করলেও তার একটা দুঃখ রয়েছে। কারণ কেউই তার নাম সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে না। আর সেই কারণেই সে সকলের কাছে পরিহাসের পাত্র হয়ে দাঁড়ায়। ফলে তার আত্মবিশ্বাস তলানিতে এসে ঠেকে যায়। এমতাবস্থায় তার কাছে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের একটি কেস আসে। সিনিয়রদের কাছ থেকে কেসটির দায়িত্ব পায় দাইচি। এক মহিলা (দেবলীনা) তার দুই সন্তানের কাস্টডি পাওয়ার জন্য তার দারস্থ হয়। এই কেসটি নিয়ে লড়তে লড়তে দাইচি তার নিজের জীবনের সাথে ঘটনাটির মিল খুঁজে পায়। সবচেয়ে বেশি মিল খুঁজে পায় দর্শনে। আর সেই দর্শন হল জাপানি ওকিয়াগারি। পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোর, নিজের ভুল শুধরে নিয়ে আবার এগিয়ে চলা। এই দর্শনেই দাইচির সঙ্গে জুড়ে যায় ওই মহিলা ও তার দুই সন্তানের জীবন। তার পর কী হয়? উত্তর মিলবে এই ছবির শেষে। ছবির কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক স্বয়ং। সংগীত পরিচালনায় রূপম ইসলাম। সিনেমাটোগ্রাফার প্রসেনজিৎ কোলে। ছবির শুটিং হয়েছে কলকাতা ও তার আশেপাশের অঞ্চলে।

সম্প্রতি সল্টলেকস্থিত একটি বাড়িতে ছবির শেষদিনের শুটিংয়ে প্রেসমিটে উপস্থিত ছিলেন ছবির পরিচালক, প্রযোজক সহ অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলীরা। মূলত বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালের কথা মাথায় রেখেই ছবিটি তৈরি করেছেন নির্মাতা। তবে আগামিদিনে ছবিটিকে রিলিজ করারও পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। ছবি প্রসঙ্গে শমীক জানান “ওকিয়াগারি’ মানে ওঠো ও জাগো। নিজে যা ভুল করেছি তাকে শোধরানো, এই দর্শনের উপর ভিত্তি করেই এই ছবিটা তৈরি করেছি। পুরো ছবি জুড়েই জাপানি প্রভাব দেখা যাবে। তার কারণ দাইচি দত্ত (মীর)-র চরিত্রটায় জাপানি বিভিন্ন পুঁথি, নিদর্শনগুলো বিভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি এই ছবি ভারতীয় বিচার ব্যবস্থায় ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের কেসে মহিলাদের প্রতি পক্ষপাতিত্বের মতো বিষয়টিকে নিয়ে দ্বিমতও পোষণ করে।”

[আরও পড়ুন: অতনু ঘোষের ফ্রেমে জয়া-ঋত্বিকের সম্পর্ক বাঁধা ‘বিনিসুতোয়’]

মীরের কথায়, “এই ছবিটা করার আগে অবধি আমি ওকিয়াগারি কোবসি বলে যে একটা জাপানি পুতুল রয়েছে, যেটা পড়ে গিয়েও উঠে দাঁড়ায় এটার সম্পর্কে জানতাম না। আর এটা যে জাপানের একটা দর্শন আর তাদের জীবন সাধনার মধ্যে পড়ে এটা জেনে আমার বেশ আকর্ষণ লেগেছিল এই গল্পটার প্রতি। এখানে আমাকে কমেডি করতে বলা হয়নি। শমীক ঠিক যেভাবে চেয়েছে আমি সেই ভাবেই দাইচি দত্তকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। তবে চরিত্রটির মধ্যে যে আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে সেটা ফুটিয়ে তুলতে আমাকে বেশ সাধ্যসাধনা করতে হয়েছে। কাজটা করে বেশ ভাল লেগেছে।” দেবলীনার মতে, “অত্যন্ত টাইট শিডিউলে মাত্র তিনদিনে আমরা এই ছবির কাজটা করেছি। স্বল্পবাজেটে নির্মিত ছবি হলেও এই ছবির চিত্রনাট্যটা এতটাই ভাল লেগেছিল যে না করতে পারিনি। এই ছবির ইউএসপি এর চিত্রনাট্য। আমার চরিত্রটাও বেশ বলিষ্ঠ। নয়ের দশকের এরকম একজন মহিলা যিনি তার বাচ্চার কাস্টডির জন্য আইনের সাহায্য প্রার্থী এটা এখনও বেশ কমন চিত্র সমাজে। কাজটি করে ভীষণ ভাল লেগেছে। সেইজন্য পরিশ্রম হলেও আনন্দ করে কাজটা করেছি।”

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং