শ্রীকান্ত পাত্র, ঘাটাল: ফের পরিত্রাতার ভূমিকায় দেব। কিছুদিন আগে তিনি নেপাল থেকে ঘরে ফিরতে সাহায্য করেছিলেন বাংলার শ্রমিকদের। এবার জম্মু ও কাশ্মীর থেকে পর্যটকদের ফিরিয়ে আনলেন তিনি। লকডাউন জম্মু কাশ্মীরে বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন ৩৯ জন বাঙালি। নেপালের পরিযায়ী শ্রমিকদের যে ঘরে ফেরাচ্ছেন সাংসদ দেব, সেই খবর সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে জানতে পারেন তাঁরা। এরপর তাঁরা নিজেরাই ঘাটালের সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সোমবার দেবের সহায়তায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা।
লকডাউনের আগে দাসপুরের ৩৯ জন গ্রামবাসী জম্মু ও কাশ্মীরে গিয়ে আটকে পড়েন। লকডাউনের জেরে জম্মু ও কাশ্মীরের ভ্রমণও বন্ধ হয়ে যায়। আটকে থাকেন হোটেলে। এক সময় টাকা পয়সাও শেষ হয়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে প্রশাসনের যোগাযোগ করেও ব্যর্থ হন তাঁরা। হতাশ হয়ে গত ৫ জুন ঘাটালের সাংসদ দেবের প্রতিনিধি রামপদ মান্নার সঙ্গে যোগযোগ করতে সমর্থ হন তাঁরা। দেবের উদ্যোগে নেপালের প্রায় হাজারেরও বেশি পরিযায়ী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার বাড়ি ফেরার খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় জানতে পারেন তাঁরা। তারপরই দেবের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগযোগ করেন।
[ আরও পড়ুন: তৈমুরকে নিয়ে মাস্ক ছাড়াই মেরিন ড্রাইভে ঘোরাঘুরি, সইফ-করিনার সমালোচনা নেটদুনিয়ায় ]
শুক্রবার জম্মু থেকে ফোন পেয়েই রামপদবাবু সাংসদের সঙ্গে কথা বলেন। গোটা বিষয়টি রামপদবাবু বিস্তারিত বলেন তাঁকে। একটি ছবির শুটিং নিয়ে দেব সেইসময় ব্যস্ত ছিলেন। তারই মাঝে দেব জম্মু কাশ্মীরের প্রশাসনের সঙ্গে যোগযোগ করেন। জম্মু কাশ্মীরের লক্ষ্মণপুরের পুলিশের ডিসি’র সঙ্গে ইমেল মারফৎ কথা বলেন তিনি। সেখানকার ডিসি ইমেলটি ফরোয়ার্ড করে দেন জম্মু কাশ্মীরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের কাছে। অজিত দোভাল বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছেন রামপদবাবু। তারপরই আটকে পড়া পর্যটকরা ছাড়পত্র পেয়ে যান।
সাংসদ দেব বলেন, “আমার মোবাইল নম্বর অনেকের কাছেই ছড়িয়ে গিয়েছে। আমি প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে থাকা রাজ্যের মানুষের অসহায় অবস্থার কথা জানতে পারছি হোয়াটসঅ্যাপে। আমার ক্ষমতাও সীমিত। দাসপুরের এই আটকে পড়া পর্যটকরা চারদিন আগে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রশাসনিক বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করার পর ফেরার একটা ব্যবস্থা করা গিয়েছে। তাঁরা রওনা দিয়েছেন। ভাল লাগছে।” প্রায় তিনমাস জম্মু কাশ্মীরে আটকে থাকার পর মুক্তির আনন্দে ভেসে গিয়েছেন রাজনগর গ্রামের বাসিন্দারা। পূজা মাজি, আদিত্য মণ্ডল, সুজয় জানারা বলেন, “আমরা প্রায় তিনমাস জম্মু কাশ্মীরে আটকে পড়েছিলাম। অনেক চেষ্টা করেও আমরা বাড়ি ফিরতে পারছিলাম না। শেষমেশ আমরা ঘাটালের সাংসদ দেবের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগযোগ করতে সমর্থ হই। দেবের উদ্যোগে আমরা বাড়ি রওনা দিয়েছি। আমরা দেবের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।”
[ আরও পড়ুন: প্রথম ভারতীয় হিসাবে রিচার্ড ডকিন্স পুরস্কার পাচ্ছেন গীতিকার জাভেদ আখতার ]
সর্বশেষ খবর
-
নিজের নিরাপত্তা দিতে চেয়েছিলেন মমতা! এবার এনআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ‘মাছ চোর’ শওকত
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ
-
‘কলাকুশলীরা বেশি ভুগেছেন…’, স্বরূপের গ্রেপ্তারিতে কী বলছেন ‘বাজিগর’ অনির্বাণ?
-
তামিলনাড়ুতে বিজেপিতে মহাভাঙন! আন্নামলাই, নাগার্জুনের পর দল ছাড়লেন সুমতি
-
অস্তাচলে তৃণমূলের সূর্য! ২৮ বছর পর ‘ছুটি’ পেলেন মমতার ‘বক্সীদা’