এমন একটা সময়ে নতুন ছবি ‘বিবি পায়রা’-র প্রচার করতে কি অস্বস্তি হচ্ছে?
– সেটাই তো স্বাভাবিক। তবে অস্বস্তির থেকেও বেশি যেটা, রাহুলের মতো শিল্পীর চলে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। শুধু মর্মান্তিক নয়, লজ্জাজনক বিষয়ও। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেফটি মেজারস, ঠিকঠাক ‘এসওপি’ কিছু না করেই এতগুলো বছর আমরা এরকম ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছি। সেদিনই মনে পড়ছিল।
“লীনাদির সঙ্গে ‘মাটি’, ‘সাঁঝবাতি’ দুটো খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছি। সব প্রযোজনা সংস্থার ক্ষেত্রেই বলব এক্ষেত্রে তাঁরাই তো আনসারেবল। উত্তর দিতেই হবে। তাঁদের অধীনেও কিছু মানুষ আছেন, প্রোডাকশন ম্যানেজার, ইপি- এগুলোও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইন্টিমেন্সি কো-অর্ডিনেটর খুঁজছি, কিন্তু শুট কো-অর্ডিনেটর রাখি না, এটা কি হয়!”
আরও পড়ুন:
কী মনে পড়ছিল?
– ‘ফ্যামিলি অ্যালবাম’-এর শুট করেছিলাম আমরা ১০-১২ বছর আগে। আমি আর ভেবলি (স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়) যখন শুট করেছিলাম, একটা শট ছিল আমার চরিত্রটা ডুবে যায়। মন্দারমণিতে শুট করেছিলাম, ড্রোন শট ছিল। সেদিনই কথায় কথায় অনিরুদ্ধদা বলছিল। শটে পাড়ে স্বস্তিকা দৌড়াদৌড়ি করছে, আমাকে খুঁজছে। ততক্ষণে জলের মধ্যে আমি হাফ গলা অবধি চলে গিয়েছি। পাড়ে দাঁড়িয়ে সবাই প্যানিক করছিল আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত। আমরা যতই সাঁতার জানি, প্রফেশনাল নই। এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় শুট হয়েছিল। ‘নাটকের মতো’-ও শুট করেছিলাম ঝুঁকি নিয়ে, তবে সেখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। সব প্রিকশন নিয়ে কিছু একটা ঘটে গেল, সেটা আলাদা কথা। আমাদের একটা অ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার থাকে না। সিপিআর দেওয়ার ট্রেনড মানুষ থাকে না, ফার্স্টেড বক্স বা বরফও চাইতে হয়। এটা বীভৎস ঘটনা। কেন আমরা এতদিন এইগুলো নিয়ে ভাবিনি! আমরা অভিনেতারা তো সিনেমার ক্ষেত্রে ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার। রিস্ক ফ্যাক্টরের এক্সপোজারে থাকি আমরা। ক্যামেরা, লাইট ডিপার্টমেন্টেরও সাংঘাতিক ঝুঁকি থাকে। সেই অর্থে তো আমাদের ইনশিওরেন্স নেই।
হুমম…
– ‘মনের মানুষ’-এর সময় বাংলাদেশে গিয়ে যে আমাদের মেজর দুর্ঘটনা ঘটেছিল, আমার হেয়ার ড্রেসারকে ফ্লাইটে করে নিয়ে আসতে হয়েছিল। স্পাইনালকর্ড অপারেশন হয় তার। এখনও সে বেল্ট পরে কাজ করে। আমার মা-ও সেই দুর্ঘটনায় পড়েছিল। তখন আমি জানতে পেরেছিলাম ইন্টারন্যাশনাল ইনশিওরেন্স বিষয়ে। সেটা প্রোডাকশন করেনি। বছরের পর বছর এভাবেই চলছে। টনক কবে নড়বে তার জন্য মানুষ চলে যাবে!
রাহুলের সঙ্গে তো অনেক কাজ করেছেন…
– কত ছবি একসঙ্গে করেছি! শেষ করলাম ‘ছাদ’ ছবিটা। বাপ্পাদার ‘কাগজের বউ’ করেছি। ‘হইচই’ বলে একটা ছবি করেছিলাম। মামদোদার ‘আজব প্রেম’ করেছিলাম। ‘কালী’ আমার ওয়েব ডেবিউ, সেখানেও আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। রাহুল আছে শুনলে আমার আনন্দ হত। কারণ, জানি ও যে অভিনয়টা করবে, সেটা আমাদের জন্য ভালো হবে। ‘ক্ষত’-তেও আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। খুব দুর্ভাগ্যজনক ওর চলে যাওয়া। ভাষা নেই আমার।

লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করেছেন ‘মাটি’ ছবিতে। এই সময়ের প্রেক্ষিতে কিছু বলতে চান?
– ভীষণ আপসেট লাগছে। লীনাদির সঙ্গে ‘মাটি’, ‘সাঁঝবাতি’ দুটো খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছি। সব প্রযোজনা সংস্থার ক্ষেত্রেই বলব এক্ষেত্রে তাঁরাই তো আনসারেবল। উত্তর দিতেই হবে। তাঁদের অধীনেও কিছু মানুষ আছেন, প্রোডাকশন ম্যানেজার, ইপি- এগুলোও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইন্টিমেন্সি কো-অর্ডিনেটর খুঁজছি, কিন্তু শুট কো-অর্ডিনেটর রাখি না, এটা কি হয়!
আপনার আসন্ন ছবি প্রসঙ্গে যাই। ‘বিবি পায়রা’ অর্জুন দত্ত-র পরিচালনা। রাজি হওয়ার কারণ?
– অর্জুন অনেক দিন ধরে আমার সঙ্গে কাজ করতে চাইছিল, আমিও চাইছিলাম। আমরা হিন্দিতে ‘বিরিয়ানি’ বলে একটা কাজ করেছিলাম। কিন্তু সেটা রিলিজ হয়নি। অ্যান্থোলজির পার্ট ছিল ওটা। তারপর ও অনেক দিন ধরে কিছু করবে ভাবছিল। আমিও অন্য ধরনের কমেডি, স্যাটায়ার জাতীয় কিছু করতে চাইছিলাম। সেখানে ‘বিবি পায়রা’য় আমার চরিত্র ‘ঝুমা’ খুব আলাদা। পুরো ছবিতেই আমার একদম সাধারণ ডিগ্ল্যাম লুক। একেবারে রিয়েল, ত্রুটিপূর্ণ চরিত্র। সিচুয়েশন অনুযায়ী সব করে। প্রচুর বুদ্ধি রাখে তাও নয়।
এই ছবি দুই নারীর এমপাওয়ারমেন্টের গল্পও। ‘ফ্যামিলি অ্যালবাম’-এর পর আপনি আর স্বস্তিকা একসঙ্গে। কেমন লাগল এত বছর পরে?
– খুব ভালো লেগেছে আমার। নিশ্চয়ই ওর-ও ভালো লেগেছে। অনির্বাণদার (চক্রবর্তী) সঙ্গে আগে কাজ করেছি। সুব্রত দত্তর সঙ্গে আগে করিনি। একসময় ‘বিবর’-এর শুটিংয়ে আমি আর তন্নিষ্ঠা সুব্রতদার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম টেকনিশিয়ানস স্টুডিওতে। বহুদিন ধরে সবাইকে চিনি। একসঙ্গে অনেক বছর পরে কাজ হল। অনিন্দ্যর (সেনগুপ্ত) সঙ্গেও কাজ হল। ছবিটা কমেডি অফ এরর্স ঘরানার কিন্তু কিছু গভীর কথা মজার ছলে বলা। স্যাটায়ারই বলব। হেসেছি, কেঁদেছি, চুলোচুলিও করেছি।

“অনুপর্ণা পুরস্কার পাওয়ার পর আমি ওকে অভিনন্দন জানিয়েছিলাম। তারপর ও আমাকে মেসেজ ব্যাক করে। সেই সময়ে সমীরণদাও বলছিল (প্রযোজক, দাস), যদি কিছু করা যায়। তারপরে অনুপর্ণার সঙ্গে আবার আমাদের কথা হয়। মুম্বইতে ওঁর সঙ্গে দেখাও হয়েছে।”
চুলোচুলি কি স্বস্তিকার সঙ্গে?
– হ্যাঁ, ওর চুল ধরতে পারিনি! ও বলেছিল চুলটা টানবি না, কারণ উইগ ছিল। বাকি যা করার করবি। আমরা ক্যামেরার সামনে চুলোচুলি করেছি। (হাসি)
অফ ক্যামেরা? প্রতিযোগিতা ছিল না?
– না, না, তার প্রয়োজন পড়েনি। আমরা নিজেদের চরিত্রে মগ্ন ছিলাম। খুব হেকটিক শেডিউল ছিল। প্রচুর চরিত্র, প্রচুর লোকেশন। অফ ক্যামেরা আর এনার্জি ছিল না। কমেডি স্পেসটা খুব ইন্টারেস্টিং।
‘লক্ষীকান্তপুর লোকাল’ আর ‘গণশত্রু’-র পরে আপনার ‘বিবি পায়রা’ আসছে। আর কী?
– ঠিকই। আর ‘পাহাড়গঞ্জ’ কবে শেষ হবে জানি না। হিন্দিতে ‘রেভোলিউশনারি’, আমাজন প্রাইমে নিখিল আডবানির শো-টা আসবে।
আর ভেনিসে শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার প্রাপ্ত অনুপর্ণা রায়ের সঙ্গে ছবিটা হচ্ছে?
– (হাসি) কোনও বাঙালির এমন স্বীকৃতিতে খুব ভালো লাগে। অনুপর্ণা পুরস্কার পাওয়ার পর আমি ওকে অভিনন্দন জানিয়েছিলাম। তারপর ও আমাকে মেসেজ ব্যাক করে। সেই সময়ে সমীরণদাও বলছিল (প্রযোজক, দাস), যদি কিছু করা যায়। তারপরে অনুপর্ণার সঙ্গে আবার আমাদের কথা হয়। মুম্বইতে ওঁর সঙ্গে দেখাও হয়েছে। আই অ্যাম লুকিং ফরোয়ার্ড টু ইট। এই কাজটা যদি হয়, প্রযোজনায় থাকবে সমীরণদা। আর অনুপর্ণাই পরিচালনা করবে। আমি অপেক্ষা করছি।