আম আদমি পার্টিকে খাদের কিনারায় ঠেলে গত এপ্রিল মাসেই বিজেপির নৌকোয় পা রেখেছেন রাঘব চাড্ডা। যার জেরে প্রাক্তন আপ সাংসদের কপালে জুটেছে ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা। গত একমাস ধরে ‘দলবদলু’ নেতাকে নিয়ে দিল্লির রাজনৈতিকমহলেও চাপানোতরের অন্ত নেই। আপ বনাম রাঘব চাড্ডা, দলবদল ইস্যুতে কেউ কাউকে সূচাগ্র মেদিনী ছাড়তে নারাজ! সম্প্রতি আবার রাঘব-পরিণীতির বিয়ের কৃতিত্ব নিয়ে কার্যত বোমা ফাটিয়েছে আম আদমি পার্টি। সংশ্লিষ্ট দলের দাবি, আপ রাঘব চাড্ডাকে সাংসদ না করলে পরিণীতির সঙ্গে বিয়েটাই আটকে যেত! এবার পরিণীতি নিজেই জানালেন তাঁর বিষণ্ণতার কথা।
স্বামীর রাজনৈতিক কেরিয়ারে বদলের পরই কি তাহলে অবসাদে নায়িকা? প্রশ্ন অমূলক নয়! আসলে পরিণীতি জানিয়েছেন, তাঁর ‘পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’-এর কথা। সন্তানের জন্মের পর নারীদের যে শারীরিক ও মানসিক ধকলের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেকথা অজানা নয়। অতীতে এসব বিষয়ে আলোচনা না হলেও বর্তমান সময়ে গ্ল্যামারদুনিয়ার মায়েরা সচেতনতা বাড়াতে প্রায়ই এই ‘পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’ নিয়ে আলোচনা করে থাকেন। পরিণীতিও সেকথাই তুলে ধরেছেন ছেলে নীর-এর জন্মের পর কীভাবে মা হিসেবে পেশার সঙ্গে পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করছেন।
আরও পড়ুন:

“দুর্ভাগ্যবশত, নতুন মায়েদের ক্ষেত্রে বিষণ্ণ বা অবসাদ শব্দটি অনেকেই প্রায় ভুলভাবে ব্যবহার করেন। তারা হয়তো ভাবেন- ‘ওহ, ও তো মনমরা হয়ে আছে!’ কিন্তু বাস্তবটা হল, সেই নারী তখন…”
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পরিণীতি চোপড়া জোর দিয়ে বলেছেন যে, সন্তান প্রসবের পরেও মায়েদের যথাযথ চিকিৎসা পরিষেবা এবং মানসিক সমর্থনের প্রয়োজন হয়। সেটা না পেলে সেই নারী তো বটেই, এমনকী গোটা সংসারের উপর তার প্রভাব পড়ে। নায়িকার মন্তব্য, “দুর্ভাগ্যবশত, নতুন মায়েদের ক্ষেত্রে বিষণ্ণ বা অবসাদ শব্দটি অনেকেই প্রায় ভুলভাবে ব্যবহার করেন। তারা হয়তো ভাবেন- ‘ওহ, ও তো মনমরা হয়ে আছে!’ কিন্তু বাস্তবটা হল, সেই নারী তখন প্রসবপরবর্তী যন্ত্রণা, আকস্মিক শারীরিক পরিবর্তন, হরমোনের ওঠানামা, এমনকী মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়েও যেতে হয়। সে তখন হয়তো শিশুকে স্তন্যপান করাচ্ছে, তার যত্ন নিচ্ছে। তবে বিষয়টি শুধু শিশুর যত্ন নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না কিন্তু। অনেক সময় শিশুর যত্ন নেওয়াটাই বরং সহজ কাজ হয়ে দাঁড়ায়, কিন্তু একজন নারী তখন এর চেয়েও অনেক বেশি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যান। আসলে সন্তানের যত্ন নেওয়া একটি ফুল-টাইম কাজ। বলা ভালো ‘একসঙ্গে ১০টি চাকরি’ করার মতো। প্রসবের পর প্রথম কয়েক মাস সঠিক মানুষজন পাশে থাকলে একজন নারী সবকিছু সামলে নিতে পারেন। তবে সেটা না পেলে তিনি ভেঙে পড়েন। আর মা ভেঙে পড়লে- সন্তান, পরিবার এবং পুরো সংসার ভেঙে পড়ে।”
উল্লেখ্য, বিয়ের পর থেকেই লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনের দুনিয়া থেকে দূরে পরিণীতি চোপড়া। বর্তমানে মাতৃত্ব উপভোগ করছেন। এরমাঝেই স্বামী রাঘব বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় উত্তরোত্তর আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এমতাবস্থায় সন্তানের জন্মের পর অবসাদের কথা ভাগ করে নিলেন পরিণীতি চোপড়া।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘২০০২ ফাইনাল ফের খেলতে চাই’, আমেরিকার লালকার্ড বিতর্কে এবার ফিফাকে কটাক্ষ অলিভার কানের
-
ডিজে মামালায় ভয়ে সিঁটিয়ে অভিষেক! কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে গেলেনই না বিধাননগর আদালতে
-
‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রি হবে না’, ‘নাছোড়’ ট্রাম্পের দাবি নস্যাৎ করল ডেনমার্ক
-
পুলিশের রিভলভার কেড়ে গুলি চালায় প্রভাস! এনকাউন্টারের ঠিক আগের মুহূর্তে কী ঘটেছিল? প্রকাশ্যে রোমহর্ষক ঘটনা
-
নাগরিকদের ‘মুখোমুখি’ অগ্নিমিত্রা, সমস্যা শুনে প্রতিকারের আশ্বাস পুরমন্ত্রীর