আমেরিকায় বসেছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের আসর। যে মহাযজ্ঞের আঁচ ভারতীয় ফুটবলের মক্কা কলকাতাতেও। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে রাত জেগে গলা ফাটাচ্ছেন টলিপাড়ার তারকারাও। তার মাঝেই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ নিয়ে নিজেদের অনুভূতির কথা জানালেন সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে। আজ কলম ধরলেন স্বস্তিকা দত্ত
ফুটবল নিয়ে বাঙালিদের মধ্যে একটা অদ্ভুত উন্মাদনা কাজ করে। সেটা ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান হোক বা আইএসএল কিংবা বিশ্বকাপ। আসলে বাংলার সেরা খেলাই ফুটবল। বাঙালি হয়ে জন্মগ্রহণ করেছি তো, তাই এটাই যেন সুরের মতো কানে গেঁথে রয়েছে। আর যদি বিশ্বকাপের কথা বলি তাহলে তো বলতেই হয়, ‘সকার’ আমার খুব প্রিয়। কারণ বাবা আর দাদু খেলতেন। আমি যখন মাতৃগর্ভে তখন মায়ের মধ্যেও ফুটবল নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছিল। মায়ের থেকেই শুনেছি রাত জেগে বিশ্বকাপ দেখত আর ঠাকুমা ততোধিক ওই অবস্থায় রাতে ঘুমানোর জন্য চাপ দিতেন।
আরও পড়ুন:
বাবার কাছে ‘মি-টাইম’ মানে ডেস্কটপে বসে খেলা দেখা। এখন আর সেভাবে খেলতে পারে না। তবে বাবা ফুটবল খেলতে প্রচণ্ড ভালোবাসে। এবার বিশ্বকাপ নিয়ে একটু বিশদে কথা বলা যাক। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে বসে খেলা দেখতাম। কোনদিন কোন দলের খেলা সেটার একটা চার্ট বানিয়ে নেওয়া হত। দাদু ছিলেন আর্জেন্টিনার সমর্থক। বাবা আর আমি ব্রাজিলের অন্ধভক্ত। আমরা খেলাটা ইগোতে নিয়ে নিই। তাই মনখারাপ, সেভাবে বিশ্বকাপ দেখছিও না।

দাদু জীবিত থাকাকালীন রাত জেগে খেলা দেখা আর বিস্কুট, নানারকমের স্ন্যাক্স দিয়ে মুখ চালানোটা একটা রীতি ছিল। আমি চিরকাল বাবার সঙ্গেই খেলা দেখেছি আর ভবিষ্যতেও দেখব। যত বড় হয়েছি কাজের পরিসর বেড়েছে। শুটিং সিডিউলের জন্য এখন রাত জেগে খুব একটা খেলা দেখা সম্ভব হয় না। তবে সাড়ে ন’টা বা এগারোটার ম্যাচগুলো দেখি। একটা বিশেষ কারণে ফুটবলটা আমার খুব প্রিয়। সেটা হল নব্বই মিনিটের টানটান উত্তেজনা, ডু অর ডাই ম্যাচ।

লাতিন আমেরিকার টিম ব্রাজিল প্রিয়। তারও একটা কারণ আছে। এই ধরনের খেলাতেই ফুটবল একদম জমে ওঠে। লাতিন আমেরিকা টিমগুলো তো সমুদ্রের বিচে খেলে অভ্যস্ত। এবছর বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিল ছিটকে গিয়েছে এটা ভেবে বা বলে নিজেকে আর কষ্ট দিতে চাই না। এবছর আমার রাত জেগে ভোরবেলা উঠে খেলা দেখা হয়নি। বাবা কিন্তু দেখেছে।

আসলে আমি দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধ। মেকআপ আটির্স্টের প্রতিও দায়িত্ব আছে। রাত জেগে যদি খেলা দেখি তাহলে যে পরিমাণ ফাউন্ডেশন চোখের নিচের ডার্কসার্কেল ঢাকতে প্রয়োজন সেটা একটু সমস্যাজনক। আমি শুটিংয়ের ফাঁকে হাইলাইটস দেখেছি। ছোটবেলার মতো আজও প্রিয় দল যখন নেই তখন আর খেলা দেখে কী হবে!

তবে এবছর কম শক্তিশালী দলগুলো অসাধারণ খেলছে। এটা সত্যিই ভীষণ অনুপ্রেরণাদায়ক। একজন সকারপ্রেমী হিসেবে খুবই গর্বিত। আমাদের পাড়ায় সামনের দিক আর্জেন্টিনা আর পিছনের দিকটা ব্রাজিল। এই দুই দল ঘিরে বাঙালির যে রেষারেষি সেটা তো চলতেই থাকে। আসলে বাঙালির মতো বিশ্বকাপ উদযাপন বোধহয় আর কেউ করে না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ফের রণক্ষেত্র মণিপুর, স্কুলের প্রধানশিক্ষক-সহ ৫ জনের রক্তে লাল হল মাটি!
-
‘বেঁচে আছে তো?’ বেড়াতে গিয়ে বিধ্বস্ত নেপালে নিঁখোজ কলকাতার ৬! উৎকণ্ঠায় পরিবার
-
মুহূর্তে ‘জলরাক্ষস’ গ্রাস করল স্ত্রী-পুত্রকে! নেপালের ব্যবসায়ীর দু’চোখে এখনও আতঙ্ক ও বিষাদ
-
ক্যামাক স্ট্রিটে ফের ঝুলল ‘বেআইনি’ হোর্ডিং! ‘যতদূর যেতে হয়, যাব’ পুলিশের সঙ্গে গাজোয়ারির পর হুঁশিয়ারি অভিষেকের
-
মহারাষ্ট্র পিএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ‘ফাঁস’! ব্যর্থ প্রেমকাহিনিতেই প্রকাশ্যে কেলেঙ্কারি
