২ শ্রাবণ  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০১৯ 

Menu Logo বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘তনহা দিল’ পড়ল কুড়ি বছরে। গত সপ্তাহে মুক্তি পেল নতুন অ্যালবাম। কলকাতায় ঝটিকা সফরের মাঝে শান-এর মুখোমুখি শুভঙ্কর চক্রবর্তী৷

কনগ্র্যাচুলেশনস শান্তনু মুখোপাধ্যায়।
কেন বলুন তো?

ইউটিউবে আপনার প্রথম অ্যালবামের গান, ‘তনহা দিল’ ওয়ান মিলিয়ন ভিউ পেরোল।

ওহ! থ্যাঙ্ক ইউ। উনিশ বছর কেটে গেল। ২০০০ সালে যখন ‘তনহা দিল’ রিলিজ করেছিল তখন ভাবিনি মানুষ এত বছর ধরে মনের ভিতর গানটাকে ধরে রেখে দেবে। সেদিনই একজন টুইট করেছিলেন, তখন ইমোশনাল হয়ে লিখলাম অনেক গানই করেছি, কিন্তু প্রথম গানের একটা ছাপ থেকে যায়।

সেই টুইটের রিপ্লাইয়ে পরিচালক সুজয় ঘোষ আপনার গাওয়া কয়েকটা গানের নাম পরপর লিখে ফেললেন।
হা হা। ও এসব করতেই থাকে। সুজয় আমায় ‘ঝঙ্কার বিটস’-এ অভিনয় করতে বলেছিল। করিনি। তারপর যখন অভিনয় করলাম খুব খারাপ করলাম। ওর ছবিতে অভিনয় করলেই ভাল হত। (হাসি)

[আরও পড়ুন: ‘আমার মতো পরপর হিট সিরিয়াল কোন অভিনেত্রী দিয়েছে?’, প্রশ্ন তুললেন ইন্দ্রাণী]

আপনি নাকি এ বছর ‘খতরো কে খিলাড়ি’-র পার্টিসিপেন্ট?
না না। এটা একেবারে গুজব। অফার এসেছিল, কিন্তু নাকচ করেছি। আমার জলে ভীষণ ভয়। তার উপর পিঠের সমস্যা। নতুন কিছু এক্সপিরিয়েন্স করার ইচ্ছে আছে। দেখা যাক, পরের বছর হয়তো পার্টিসিপেট করব। ফিফটি ক্রস করার আগে করে ফেলব। ফর্টিতে ডান্স করেছিলাম, ফিফটিতে ‘খতরো কে খিলাড়ি’। (হাসি)

প্রথম গাওয়া গানে আপনি নাকি শুধু একটা লাইন গেয়েছিলেন! এটা সত্যি, না গুজব?

সত্যি। ‘পরিন্দা’ ছবির একটা গানে গলা ম্যাচ করছিল না। টিনেজ ভয়েসের দরকার ছিল। তখন আমার পনেরো-ষোলো বছর বয়স। স্ক্রিনে ভিডিও দেখে একটা লাইন গেয়েছিলাম। ভাবিনি গায়ক হিসেবে ফিল্মে আমার নামও থাকবে। থ্যাঙ্কস টু বিধু বিনোদ চোপড়া। আমার জীবনের একটা মাইলস্টোন হয়ে থেকে গেল, ‘কিতনি হ্যায় পেয়ারি দোস্তি হামারি’। সবাইকে বলতে পারি একটা গানের লাইন পঞ্চমদার জন্য গেয়েছি।

গান ছাড়াও আপনার এক্স ফ্যাক্টর হাসি। এখনও অবধি হাসি নিয়ে বেস্ট কমপ্লিমেন্ট কী পেয়েছেন?
হা হা। হাসি নিয়ে কোনও কমপ্লিমেন্ট আমি সিরিয়াসলি নিই না।

কেন?
মেয়েদের বেশিরভাগ কমপ্লিমেন্ট হয় ‘কিউট’। আর ‘কিউট’ ইজ নট আ কমপ্লিমেন্ট এনিমোর।

আপনি হ্যান্ডসাম। হাসিটা সুন্দর। অভিনয় যে পারেন, মিউজিক ভিডিওগুলো তার প্রমাণ। ছবিতে অভিনয়ও করেছেন। অ্যাক্টিং আপনার অল্টারনেটিভ পেশা হল না কেন?

(হাসি) অভিনয়টাই গোলমেলে হয়ে গিয়েছিল। বেসিক্যালি আই অ্যাম আ হোমলি গাই। পরিবারপ্রিয় মানুষ। গানের অনুষ্ঠান বড় জোর দু-তিন দিনের হয়, তাই ফিরে এসে স্ত্রী-ছেলেদের সঙ্গে থাকতে পারি। ছবির একটা কমিটমেন্ট আছে। বিশ-পঁচিশ দিন সময় দিতে হয়। অত দিন পরিবার ছেড়ে থাকাটা অসম্ভব। রাধিকা (স্ত্রী) বলছে ফিল্মে অভিনয় করতে। যদি করতেই হয় ঠিকঠাক কোনও ছবিতে অভিনয় করব।

[আরও পড়ুন: পশ্চিমি পোশাকে ভারতীয় ছোঁয়া, আধুনিকাদের মন ভোলাচ্ছে খাদি-ইক্কত]

ঠিকঠাক ছবি বলতে?
রিয়েলিস্টিক কোনও ছবি। মিকার (সিং) সঙ্গে ভীষণ মজা করে একটা ছবি করেছিলাম। মজাটাই হয়েছিল, ফিল্ম হয়ে ওঠেনি। (হাসি)

আপনি বেশ হাসিখুশি। দেখে মনেই হয় না দুম করে রেগে যেতে পারেন। কিন্তু গত বছর গুয়াহাটিতে যেভাবে রেগে গেলেন…
আসলে অনুষ্ঠান করার সময় একটা আলাদা মেন্টাল স্ট্রেস হয়। সেটা নিয়ে শো এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। সেদিন কিছু অপ্রত্যাশিত কারণে স্ট্রেস বেড়ে গিয়েছিল। আউটবার্স্ট হল। পরে দেখলাম লোকাল কেবল চ্যানেল সেটা রেকর্ডিং করেছে। এখন মনে হয় ওভাবে রিঅ্যাক্ট করা উচিত হয়নি।

কী হয়েছিল সেদিন?
যখনই বাংলা গান গাইছিলাম, লোকে প্রোটেস্ট করছিল। কেন হচ্ছিল বুঝতে পারছিলাম না। আমি যে কোনও জায়গায় গিয়ে যে কোনও ভাষায় গান গাইতে পারি। অসমে তো বাঙালিরাও রয়েছেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাৎ দু’তিনজন লোক স্টেজে দলাপাকানো কাগজ ছুড়তে শুরু করে। দ্যাট টাইম আই লস্ট মাই মাইন্ড।

তিরিশ বছর হয়ে গেল বলিউড মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে। কী বদল দেখলেন?

শুধু মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি কেন? গোটা বলিউডে অনেক কিছু পাল্টেছে। বড়-বড় স্টারের ছবি চলেনি। এটা অভাবনীয়! এখনকার দর্শক সাবস্টেন্স চাইছে। ভাল কনটেন্ট খুঁজছে। একটা সময়ে বলিউড শুধু নামে চলত। এখন সেটা অতীত। গানের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একেবারে আলাদা। শ্রোতাদের কাছে মিউজিক ফ্রি হয়ে গিয়েছে। যে জিনিসের কোনও ভ্যালু নেই, তার রিটার্ন আসে না। আমাদের সময় সিডি বিক্রি হত ৩৯৯ টাকায়। পরে ২৯৯ টাকা হয়ে গিয়েছিল। লোকজন সিডি কেনার আগে দশবার ভাবত। এখন সব ফ্রি। অথচ একটা গানকে আরও ভাল করে তুলতে আমরা খেটে মরি। আমার মনে হয় ইউটিউব একটা শর্ট টার্ম পাবলিসিটি প্ল্যাটফর্ম। না হলে এ সময়ে তৈরি ১০০ মিলিয়ন-২০০ মিলিয়ন ভিউজের গানগুলোও হারিয়ে যায়। কেউ মনে রাখে না। যে গান মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারে, আজীবন মনে রেখে দেয়, সেই গানই তো এভারগ্রিন! এখন এভারগ্রিন গানের সংখ্যা খুব কম।

আর ডি বর্মনের জন্মদিনে অনু মালিক কফিহাউস-কে বললেন, লাইভ রেকর্ডিংয়ে আর ডি সবাইকে নিয়ে যে ম্যাজিক তৈরি করতেন এখন আর তা হয় না। আপনার কী মনে হয়?

একদম ঠিক বলেছেন অনুজি। আমি পঞ্চমদাকে দেখেছি রেকর্ডিং স্টুডিওতে। উনি সবার কথা শুনতেন। কারও পরামর্শ মনে ধরলে চেঁচিয়ে বলতেন, “ভাল বলেছিস, এভাবেই হবে।” সত্যিই এটা এখন আর হয় না। আরেকটা ব্যাপার হল, আমাদের সময়ে প্রফেশনালদের মধ্যে একটা কম্পিটিশন ছিল। অনু মালিক ভাবছেন যতীন-ললিতের থেকে ভাল মিউজিক বানাতে হবে। যতীন-ললিত ভাবছেন অনুজির থেকে ভাল করতে হবে।  একটা ফেয়ার কম্পিটিশন। কিন্তু এখন পুরোটাই হল, কার কত ভিউজ! এখন যারা মিউজিক শুনছে বা কিনছে, তারা মিউজিক কী সেটাই জানে না। মার্কেট যত বড় হচ্ছে তত নন-মিউজিক্যাল হয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন দিয়েও ইউটিউবে ভিউজ বাড়িয়ে নেওয়া যায়।
হ্যাঁ যায় তো। পুরোটাই ঢপ চলছে। কিন্তু আমার মতো সংগীতপ্রিয় লোকজন তো চুপ করে বসে থাকতে পারে না। কিছু একটা করে যেতে হবে। এই তো আমার নতুন গান রিলিজ করলাম, ‘বাভরি’। আমার সঙ্গে গান গাইল মহাশ্বেতা। ইয়ং জেনারেশনের সঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ ইউটিউবের আশি শতাংশ ভিউয়ার ইয়ংস্টার্স।

[আরও পড়ুন: ‘আই লাভ হিম লাইক ক্রেজি’! বর নিখিলকে নিয়ে মনের দরজা খুললেন নুসরত]

একটা সময়ে ফিল্মের গানে বৈচিত্র থাকত। একটা অ্যালবামে অনেকে গান গাইতেন। কিন্তু এখন বেদনা, বিরহ, প্রেম, ক্ল্যাসিকাল, সব ধরনের গান গাইছেন একজন। অরিজিৎ সিং। অন্য কেউ কোনও গান গাইলেও অ্যালবামে একটা ‘অরিজিৎ ভার্সান’ থাকছে। এটাকে কীভাবে দেখেন?

অরিজিতের কাছে প্রচুর অপশন আছে। হি ক্যান চুজ আ সং হি ওয়ান্টস টু সিং। এটা সব শিল্পী পায় না। তা ছাড়া অরিজিৎ ভীষণ ভালভাবে গান বাছতে পারে। এমন গান সিলেক্ট করে যার জঁর আলাদা। শ্রোতাদের একঘেয়ে লাগে না। শ্রোতারা অরিজিৎকে পছন্দ করছে। ইয়ংস্টারদের অনেকেই ওর মতো করেই গাইছে। আমিও চেষ্টা করছি ওর স্টাইলে গান গাওয়ার, কিন্তু হচ্ছে না। (হাসি)

বেশিরভাগ বলিউড অ্যালবামে এখন একটা পাঞ্জাবি গান থাকে। তাতে ইংলিশ র‌্যাপ থাকে। সঙ্গে থাকে বেস মিউজিক। গানের কোনও মানে নেই, কিন্তু মানুষ তাতেই নাচছে। একটা সময় গানে মেলোডি ছিল, গানের কথার একটা অর্থ ছিল। এটাকে কীভাবে দেখছেন?
সেভেন্টিজে যখন ‘তিসরি মঞ্জিল’-এর গান ‘ও হসিনা’ রিলিজ করেছিল তখন বয়স্করা বলেছিলেন, এটা আবার কী গান! কিন্তু কমবয়সিদের দারুণ ভাল লেগেছিল। এখনও সেটাই হচ্ছে। আমি এখনকার গানগুলো সত্যিই বুঝতে পারি না। কিন্তু এখনকার প্রজন্ম নিশ্চয়ই বুঝতে পারছে, তারা অর্থও খুঁজে নিচ্ছে।

আপনি শুনতে চাইবেন এ ধরনের গান? বাদশাহ বা হানি সিংয়ের গান?
না। একটা-দু’টো শুনলেও শুনতে পারি। ব্যস। আমার নিজের একটা মিউজিকের টেস্ট আছে। মে বি আই অ্যাম ইন দ্য মাইনরিটি। বাট আই অ্যাম হ্যাপি।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং