৭ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২৬  মঙ্গলবার ২১ মে ২০১৯ 

BREAKING NEWS

Menu Logo নির্বাচন ‘১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও #IPL12 ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার
নির্বাচন ‘১৯

৭ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২৬  মঙ্গলবার ২১ মে ২০১৯ 

BREAKING NEWS

ফেসবুকে নয়। একেবারে সামনাসামনি কফিহাউস-এর পাতায়। রেকর্ডার হাতে শুভঙ্কর চক্রবর্তী।

লোকসভা নির্বাচন চলছে। কিন্তু এটা যে একেবারে অরাজনৈতিক সাক্ষাৎকার। বাইরে তখন পাঁচটা অ্যালসেশিয়ান মনিবের পাশাপাশি ঘোরাঘুরি করছে। জনাচল্লিশ দলকর্মী ঘিরে রয়েছেন প্রিয় জননেতাকে। তাঁদের ডিঙিয়ে ধরা গেল না তাঁকে। ঘন্টা তিনেক বাদে  ডাক আসামাত্র গেলাম তাঁর ঘরে। টেবিলে রাখা গ্রিন টি আর মুড়ি। ক্লান্তি নয় একরাশ হাসি মদন মিত্রের মুখে। “চলুন এবার কফিহাউস লাইভে যাওয়া যাক।” অন হল রেকর্ডার।

ফেসবুক লাইভে এতটা জনপ্রিয় একজন নেতা! ভার্চুয়াল ভাষায় যাকে বলে ‘ট্রেন্ডিং’। ভেবেছিলেন কখনও?

মদন মিত্র: আমি শুনেছি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এক দিনে পঁচাত্তর হাজার লাইকস পেয়েছিল! সে দিক থেকে প্রিয়াঙ্কা অনেক বেটার পজিশনে আছে। (হাসি) ইংরেজিতে একটা কথা আছে ‘বেগার্স হ্যাভ নো চয়েস’। ঠিক সে রকম আমার কোনও চয়েস নেই। রাজনীতিতে আগের মতো প্রাণবন্ত নই। সেলুলয়েডে আমি নেই। শুধু ডিজিট্যালে লাইভলি আছি। তাই মানুষ একরকম দয়া করে আমার ভিডিও লাইক কিংবা শেয়ার করছে। তাদের দয়াতেই আমার পেজের ফলোয়ার এখন এক লক্ষ পাঁচ হাজার। (হাসি)

আপনার নতুন ফেসবুক প্রোফাইল পিকচার আগের থেকে আলাদা।

মদন মিত্র: কেন? আরও হ্যান্ডসাম দেখাচ্ছে?

সেটা তো আছেই। চোখে হলুদ সানগ্লাস কিংবা চশমা নেই।

মদন মিত্র: হা হা! আমার প্রথম ডিপিতে লাল জামা আর চোখে সানগ্লাস ছিল। হাজার-হাজার লাইক পড়েছিল। তার পর একবার তারা মায়ের সঙ্গে একটা ছবি ডিপি করলাম। তিন হাজারের উপর লাইকস! তখন বুঝলাম ওটা মায়ের টিআরপি, আমার নয়। পরেরটা ছিল দক্ষিণেশ্বরে মায়ের মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে চশমা পরা একটা ছবি। তেরো হাজার লাইকস। বুঝলাম, এবারও আমি মায়ের টিআরপি খাচ্ছি। এটাও মনে হল, সানগ্লাসের টিআরপি হতে পারে। তাই এবার সানগ্লাস, চশমা, তারা মা, মন্দির, মসজিদ ছেড়ে শুধু একা মদন মিত্র। কাল দেখলাম চোদ্দো হাজার লাইকস পেরিয়েছে!

১৪,০০০ লাইকস! আপনি তো উঠতি অভিনেত্রীদের টেক্কা দিয়ে দেবেন!

মদন মিত্র: ওই যে বললাম না, মানুষ দয়া করে। সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনও প্রতিহিংসা নেই। প্রতিহিংসার চিন্তাধারা থাকে রুলারদের মধ্যে। কারণ ‘রুলার’ আর ‘কিলার’ দুটোই এক। সাধারণ মানুষ ভাবছে বেচারাটা কিছুই করেনি, বাইশ মাস হ্যারাস হয়ে এল। বলি কা বকরা হল। ‘প্রভাবশালী’ ছাড়া আর কোনও উল্লেখ যার বিরুদ্ধে নেই। সে লাইভে আসছে, ভাল-ভাল কাজ করছে, দিয়ে দিই লাইক। এটা দয়া ছাড়া আর কিচ্ছু নয়। আর একটা কী জানেন তো, ভারতে সিবিআই যদি না ধরে তা হলে কোনও স্টেটাস থাকে না। আরে সিবিআই নেয়নি? তা হলে কোনও নেতা হল?

দিনে অন্তত পাঁচবার আপনি ফেসবুক লাইভে আসেন। চার-পাঁচটা স্টেটাস পোস্ট করেন। মনীষীদের জন্মদিন-প্রয়াণ দিবসের পোস্ট করেন। তার উপর ভোটের মরশুমের প্রচার। এত কিছু সামলান কীভাবে?

মদন মিত্র: প্রথমেই বলি, আমার অ্যাকউন্টটা কিন্তু ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট। পশ্চিমবঙ্গে দু’তিনজন তৃণমূল নেতা ছাড়া কারও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট কিন্তু ভেরিফায়েড নয়। আমি যদি এত কিছু না করতাম তা হলে কিন্তু এটা হত না। আমি খেপে-খেপে লাইভ করি। কোনও ইভেন্টে গেলে একাধিকবার লাইভে আসি। লাইভগুলোর ভিউয়ার্স মেলালে দেখা যাবে প্রায় পাঁচ লক্ষ। এত বার লাইভে আসি কারণ কিছুক্ষণ দেখার পর লোকজনের ভাল লাগে না। তারা আর দেখে না। তাই পাঁচ মিনিট পর আবার আসি। তারা তখন আবার লাইভে জয়েন করে। এত কিছু জানতাম না। আস্তে আস্তে সব শিখে গেছি। (হাসি) বহু লোক আমায় মেসেজ করে বলে, এত লাইভ করলে কীভাবে দেখব? আমরা কি অন্য কোনও কাজ করব না? আমিই বা কী করব? আমার লাইভে এসে ন্ট্যারাকশন করতে ভাল লাগে।

[ আরও পড়ুন: খুলল ‘মোতি মহল’-এর দ্বার, ইতিহাসের বিখ্যাত বাটার চিকেন এখন কলকাতায় ]

আপনার সানগ্লাস ভীষণ চর্চায়। লাইভ কমেন্টে সানগ্লাস নিয়ে বারবার দুটো প্রশ্ন উঠে আসে। এক- মদনদা সানগ্লাসটা কোত্থেকে কেনা? দুই- রাতে কেন সানগ্লাস পরেন মদনদা?

মদন মিত্র: (টেবিলে রাখা হলুদ সানগ্লাস চোখে পরে) অনেকে ভাবে মদন মিত্রর সানগ্লাস মানেই কার্টিয়ের বা আরমানির হবে। কিন্তু বিশ্বাস করুন এটার দাম মাত্র ২০০-৩০০ টাকা। যেমন রাস্তার কুকুরকে রোডেশিয়ান বলে, এটা ইটালিয়ান স্যালোঁর মতো, ইটালিয়ান চশমা। রাস্তায় রাখা ইটের উপর বিক্রি হয়। যখন প্রথম পরেছিলাম, এত টাইট ছিল যে চোখের পাশে দাগ হয়ে গিয়েছিল। তাই দু’সাইড দিয়ে টেনে চওড়া করে নিয়েছি। এখন ফুল ফিটিং। আসলে আমার চোখে কিছু সমস্যা আছে। শুধু পোকা ঢুকে যায়। আর একটা সমস্যা, জোরালো আলো চোখে খুব এফেক্ট করে। তাই ডাক্তারের কথায় চশমা নিয়েছি। সানগ্লাস আর চশমা, দুটোই ফোটোক্রোম্যাটিক। রাতেও পরা যায়। লোকজন ভাবে রাতে সানগ্লাস পরে মদনদা কি কিছু আড়াল করতে চাইছে? কিন্তু আমার লাইভ হচ্ছে বইয়ের খোলা পাতার মতো। কোনও বাইন্ডিং নেই। আমি এমন কিছু করি না যা লুকোতে হয়। সে যাই হোক, আমি ভেবেছি ১লা মে আটটা থেকে দশটা, দু’ঘণ্টার জন্য লাইভে আসব। জিজ্ঞেস করব সানগ্লাস পরে লাইভ করব না খালি চোখে? যে দিকে পাল্লা ভারি, আমি সে দিকে চলে যাব! ব্যাপারটা হয়ে গেছে ‘পথ ভাবে আমি দেব, রথ ভাবে আমি, মূর্তি ভাবে আমি দেব, হাসেন অন্তর্যামী।’ কে বড়? সানগ্লাস, না মদন মিত্র! (হাসি)

‘মদন মিত্র অ্যাট আনইউজুয়াল প্লেসেস- উই লাভ মদন স্যর’। এই ফেসবুক পেজে আপনাকে যে কত রকম ভাবে দেখা যায়, তা নিশ্চয়ই জানেন। কখনও বাংলা ক্যালেন্ডারে আপনার মুখ, কখনও লিওনেল মেসির পাশে আপনি। প্রথম যখন দেখলেন এরকম একটা পেজে আপনার ছবি, আপনার প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

মদন মিত্র: এই পেজের সম্বন্ধে প্রথম খবর পেয়ে আমি লাইভে আসি। এসে বলি, ভাই আমি জ্ঞানত কোনও দিন কারও ক্ষতি করিনি। কেউ যদি মনে করেন আমার বিরুদ্ধে কিছু বলার আছে, গালি দিন। কিন্তু আমায় নিয়ে এমন কোনও নোংরামি করবেন না যে, আমার নিজেকে অপরাধী মনে হয়। এটাও তো হতে পারে, কোনও দিন আমিও আপনার কাজে আসতে পারি। এটা বলার সঙ্গে সঙ্গেই সেই পেজে একটা স্টেটাস পোস্ট হয়। একেবারে ‘চার্চিল’-এর মতো ইংরেজি ভাষায় লেখে যে আমরা ইঞ্জিনিয়ারিং করা সব ছাত্র। আমরা আপনার মতো সেলিব্রিটিকে নিয়ে মিম তৈরি করে স্রেফ মজা করার জন্য পেজটা করেছি। এতে আপনার কোনও অপমান হয়ে থাকে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা আপনাকে নিয়ে এমন কোনও মিম বা ট্রোল করব না, আনলেস ইট হ্যাজ বিন অ্যাপ্রুভড বাই ইওর পেজ অ্যাডমিন। তারা আমার সঙ্গে দেখাও করে। ওদের বলি, এমন কিছু কোরো না হুইচ ইজ স্পোর্টস টু ইউ বাট ডেথ টু আদার্স। তার পর থেকে ওরা এটা করেনি। কিছুদিন আগে আমার বাড়িতে গানবাজনা চলছিল। আমি বসে আছি। তার একটা ভিডিও আছে। হঠাৎ অন্য এক ভিডিওতে দেখি আমার পিছনে একটা মেয়ে অশ্লীলভাবে নাচছে। আর আমি ‘অসাধারণ’ বলছি। ‘অসাধারণ’-এর পার্টটা কিন্তু আমার বাড়ির সেই ভিডিওর ক্লিপিং থেকে নেওয়া। মানুষ তো বুঝতে পারছে যে মেয়েটা নাচছে রাস্তায় আর আমি বসে আছি ঘরে। আমি সাইবার ক্রাইমে রিপোর্ট করি। ভিডিওটা আর সোশ্যাল মিডিয়ায় নেই। কিন্তু যেহেতু শেয়ার হয়, কেউ ডাউনলোড করেও রেখে দিতে পারে।

madan-mitra-1

‘মদন মিত্র অ্যাট আনইউজুয়াল প্লেসেস…’ পেজের ফলোয়ার লিস্টে আপনি আছেন?

মদন মিত্র: আমি ফলোয়ার নই। কিন্তু খবর পাই। 

কী খবর?

মদন মিত্র: যিশু খ্রিস্টের পাশে মদন মিত্র। মেসির পাশে মদন মিত্র। আমি ভেবে দেখেছি, ঈশ্বরকে আমরা কোথায় না বসাই? নালার ধারে। মন্দিরে। যেখানে যখন খুশি বসিয়ে দিচ্ছে। ঈশ্বরকে বসাতে পারছে, আমায় বসালে কীই বা আসে? আমি কি ঈশ্বরের থেকে বড়? আমার কিন্তু ওই পেজের মিমগুলোর মধ্যে আমিষ কিছু চোখে পড়েনি। সব নিরামিষই লেগেছে। (হাসি)

নিজের কোনও মিম দেখে নিজে বেদম হেসেছেন?

মদন মিত্র: একটা মিম দেখে বেশ মজা লেগেছিল। গান্ধীজির পাশে মদন মিত্র! পাশে আবার জওহরলাল নেহরু, সরোজিনী নাইডু। মহাত্মা গান্ধী আর মানস সরোবরের শিব প্রায় কাছাকাছি। তাদের পাশে আমি। আর মালাটা এমন ভাবে সরোজিনী নাইডু হাতে ধরেছেন, যেন আমাকেই পরিয়ে দেবেন! (হাসি) আমাকে অনেকে বলে যে দাদা আপনাকে বেচে খাচ্ছে, কিছু করুন। তার উত্তরে আমি বললাম মা কালী-শিব-জগন্নাথকে বেচে কতজন খাচ্ছে। তারাও তো নীরব মোদি হয়ে গেছে। আমি আর সরব কী ভাবে থাকব?

নিজের কোনও মিম ফরওয়ার্ড করেছেন কখনও?

মদন মিত্র: (হাসি) না না। ফুটবল খেলায় ফরওয়ার্ড করি। ব্যাডমিন্টন-টেনিসে প্লেসিং করতে পারব। পলিটিক্সেও চান্স পেলে ঠিক সময় প্লেসিং-ফরওয়ার্ড করে দেব। কিন্তু মিমে পারব না।

‘দিওয়ার’ ছবির ‘মেরে পাস মা হ্যায়’ কিংবা ‘শোলে’-র ‘ইয়ে হাত হাম কো দে দে ঠাকুর’ ডায়ালগের মতোই জনপ্রিয় এখন আপনার ডায়ালগ। ‘দশ মিনিটে লাইভে আসছি’, ‘সরি ফর দ্য ইনকনভিনিয়েন্স’ আর ‘ফাটাফাটি’। সোশ্যাল মিডিয়া স্টেটাস-কমেন্টে ভাইরাল। প্রথম যখন লিখলেন বা বললেন, এ রকম হতে পারে ভেবেছিলেন?

মদন মিত্র: হা হা। ভদ্রতার খাতিরে এই দুটো কথা বলা। ‘দশ মিনিটে লাইভে আসছি’, ‘সরি ফর দ্য ইনকনভিনিয়েন্স’। মানুষ আমার জন্য অপেক্ষা করে। যে সময়ে বলেছি সে সময়ে যদি লাইভে আসতে না পারি, তখন বলি ‘সরি ফর দ্য ইনকনভিনিয়েন্স’। আর লাইভে আসার ঠিক দশ মিনিট আগে আপডেট দিই যেন তারা তৈরি হয়ে থাকে। আমি মানুষকে প্রতারিত করতে চাই না। আই ডোন্ট লাইক টু প্লে উইথ দেয়ার ইমোশনস। এটাও বলছি, ঈশ্বর যদি আমায় অবকাশ দেন, আমি মৃত্যুর আগেও আপডেট দেব। লাইভে আসছি মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে। ভীষ্মের কেন শুধু ইচ্ছামৃত্যু হবে? আমার ভগবত গীতায় লেখা ইচ্ছামৃত্যু আমারও হবে।

আর ‘ফাটাফাটি’ বললেন না?

মদন মিত্র: আজকেই দেখলাম ‘মদন মিত্র ফাটাফাটি’ বলে একটা গ্রুপ তৈরি হয়ে গেছে! কী বলব! (হাসি) আমার লাইভে আসা এত মানুষকে কিছু দিতে পারব না। শুধু এটা বলতে চাই, ‘তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান; গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়’।

এবার আপনার সবচেয়ে জনপ্রিয় লাইভ ভিডিওর প্রসঙ্গে আসি। ‘সলমন মাছ’। মাছটা কি জগুবাজার, লেক মার্কেট, মানিকতলা বাজারে বিক্রি শুরু হল?

মদন মিত্র: সলমন নয় কিন্তু এস-এ-এল-এম-ও-এন। সলমন। একটু কস্টলি। এই মাছটা দুবাইতে বেশি উৎপাদন হয়। কলকাতার দু’চারটে নামকরা রেস্তরাঁতেও পাওয়া যাচ্ছে। হলুদ-তেল মাখিয়ে মাছটাকে হালকা ফ্রাই করতে হয়। রোস্ট বা গ্রিল করলে আরও ভাল। এটা ক্যানসার এবং হার্ট অ্যাটাকের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। আমি বন্ধুর বাড়িতে এটা প্রথম খেয়েছিলাম।

[ আরও পড়ুন: সেলুলয়েডের সিরাজদৌল্লা হয়ে ওঠার জার্নি কেমন? গল্প শোনালেন শন ]

অশেষ পাল?

মদন মিত্র: ইয়েস। ও কাতারের একজন ইঞ্জিনিয়ার। ও-ই আমায় এটা খাইয়েছিল।

এখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সলমন মাছ নিয়ে কথা হল?

মদন মিত্র: এখানকার মাছ বিক্রেতাদের অনেকেই যোগাযোগ করেছে। দেখা যাক! আমি চাইছি ভবানীপুর থেকেই শুরু হোক। তার পর বেলঘরিয়া, জগুবাজার, লেক মার্কেট, মানিকতলায় সাপ্লাই করা হবে।

ভোটের সময়ে প্রার্থী এবং ভোটারদের ‘ওমেগা থ্রি’ তো খুব জরুরি!

মদন মিত্র: একেবারে। সব সময় তো ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই ঠিকঠাক থাকে না। ডিমান্ড থাকলে সাপ্লাই ঠিক আসবেই। ‘খায় যে চিনি, জোগায় চিন্তামণি’। একটু অপেক্ষা করুন। খাওয়ার পর বলবেন, মদন মিত্র ভুল কথা বলেননি। কারণ এটা তো নয় যে আমি মাছ ধরি এবং সে মাছ জোর করে লোকেদের খাওয়াতেই হবে। আমাদের কাছে পৃথিবী একটা পুকুর। যারা মাছ ধরে তারা মাছের শিকারি। আমরা মানুষের শিকারি। ভাল খাইয়ে আমরা মানুষ ধরার চেষ্টা করছি। তাই হয়তো রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন– ‘বিশ্বজোড়া ফাঁদ পেতেছ, কেমনে দিই ফাঁকি– আধেক ধরা পড়েছি গো/আধেক আছে বাকি।’ (হাসি)

আচ্ছা মদনবাবু আপনিও আর পাঁচটা মানুষের মতোই। তাদের মতো আপনারও রাগ-খারাপলাগা-কষ্টগুলো এক। এরকমও হয় যে, এমন কোনও বিষয় নিয়ে লাইভে এসেছেন যা একেবারেই রাজনৈতিক নয়। যেমন কিছু দিন আগে ঝড়ের রাতে সল্টলেকে লাইভ ভিডিও করলেন। কিন্তু সেখানেও আপনাকে বলতে হল, ‘গালাগাল করবেন না।’ কোথাও কি খারাপ লাগে? কোনও রাজনৈতিক রং নির্বিশেষে জিজ্ঞেস করছি, এখনকার মানুষ কি একটু বেশি ইনসেন্সিটিভ হয়ে যাচ্ছে?

মদন মিত্র: ঝড়ের আরেকটা ঘটনা বলি, তারাপীঠে একটা ধাবায় খেতে বসেছি। হঠাৎ দারুণ ঝড় উঠল। আমাদের সামনে হুড়মুড়িয়ে গাছ ভেঙে পড়েছিল। একটুর জন্য বেঁচে গিয়েছিলাম। গান আর ঠাকুরের নাম ছাড়া আর কী-ই বা করতে পারতাম? তাই গেয়েছি। এসবে আমার রাগ হয় না। আমি মনে করি এই পৃথিবীটা বিরাট এক জঙ্গল। তাতে জন্তু-জানোয়ার থাকবে। আর এদের  মধ্যে দু’একটা ডাইনোসরও দেখা যায়। তাদের তো বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাই জন্তু-জানোয়ার কী বলছে সে কথা গায়ে মাখি না। এরকম সময়ে ছোটবেলার একটা কথা খুব মনে পড়ে। ‘কুকুরের কাজ কুকুর করে/কামড় দেয় পায়ে। তা বলে কি কুকুরকে কামড়ানো/ মানুষের শোভা পায়।’ (হাসি)

অনেক ফেসবুক সেলব্রিটি হা-হুতাশ করেন আপনার ভিডিওর মতো লাইক আর ভিউ পাওয়ার জন্য। ভাইরাল হতে গেলে কোন তিনটে জিনিস মাথায় রাখতে হবে?

মদন মিত্র: ফেসবুক লাইভের নির্দেশিকা দিয়ে গেছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর?

মদন মিত্র: ইয়েস। তিনিই বলেছেন, ‘আজি হতে শতবর্ষ পরে’। তিনি জানতেন কী হতে চলেছে। বলেছেন, ‘তুমি কি কেবলই ছবি, শুধু পটে লিখা’। অর্থাৎ ছবির ব্যাপারে সব সময় সচেতন থেকো। কারণ এই ছবিতেই তোমার লাইকস পড়বে। তাই লাইভে নিজের মুখ নিয়ে সচেতন থাকতে হয়।

madan-mitra-2

বাকি দু’টো?

মদন মিত্র: যতটা সম্ভব সৌজন্য, ভদ্রতা এবং ভাষার উপরে যথেষ্ট উদার হতে হয়। সংস্কৃতি নিয়ে সচেতন থাকতে হয়। আমি যখন ছাত্র রাজনীতি করতাম একবার মহিলাদের সম্পর্কে কিছু ভুল কথা বলে ফেলেছিলাম। আমাকে এক সুন্দরী সাংবাদিক বলেছিলেন, “মহিলাদের সম্পর্কে এমন কিছু বোলো না, যা তাদের খারাপ লাগে।” তার পর থেকে এটা আমি করিনি। কোনও মহিলা যদি খারাপ কিছু বলেও থাকে, আমি বলি উনি খারাপ হতে পারেন, তবে আমার চোখে নয়। তাই মহিলাদের সম্বন্ধে আমি কোনও দিন মন্তব্য করিনি।

কিন্তু অভিনেতা হিরণের স্ত্রীকে নিয়ে যে বললেন, ‘রূপে তোমায় ভোলাব না… গান দিয়ে দ্বার খোলাব।’

মদন মিত্র: মহিলাদের সম্পর্কে কটূক্তি করি না। কিন্তু তাঁদের প্রশংসা তো করতে পারি? মানুষের আঘাতে লুটিয়ে পড়া সাপটাকে শ্রীকৃষ্ণ জিজ্ঞেস করেন, তোর গায়ে এত ক্ষত কেন? সাপ বলে, তুমি ছোবল মারতে বারণ করেছিলে। কৃষ্ণ বলে, ছোবল মারতে বারণ করেছিলাম, ফোঁস করতে তো করিনি। কটূক্তি আমি করি না, কিন্তু ভালবাসার কথা বলব না কেন?

আচ্ছা, একটা ভিডিওতে আপনি বলেন, ১৯৭১ সালে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ইংরেজি অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করেন। তার পর আশুতোষ কলেজে কেমিস্ট্রি অনার্স। এটা কীভাবে সম্ভব?

মদন মিত্র: ধন্যবাদ, এই প্রশ্নটা করার জন্য। এটা ক্লিয়ার করার খুব দরকার ছিল। ফিফটি ফোরের ডিসেম্বর মাসে আমার জন্ম। সিক্সটি নাইনে আমি ক্লাস নাইন কি টেনে পড়তাম। অনেকেই অবাক হবেন এটা শুনে। এর কারণ, আমি পরপর ডাবল প্রোমোশন পাই। সেভেন্টিওয়ানে হাই-সেকেন্ডারি (হায়ার সেকেন্ডারি) দিই। নির্বেদও (রায়) আমার ব্যাচে ছিল। ইংরেজি অনার্স নিয়ে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি হই। ঠিক সেই সময়ে আমার কাকা মারা যান। আমি মুখাগ্নি করি। সবাই তখন বলল তুই বাড়িতে একমাত্র বেকার, আর কলেজ করতে হবে না। তখন আমাদের বাড়িতে থাকতেন হাইকোর্টের বিচারপতি নিখিলচন্দ্র তালুকদার ও অমিত তালুকদার। এখন তাঁরাই বাড়িটি কিনে নেন। নিখিলবাবু তখন আশুতোষ গ্রুপ অফ কলেজের চেয়ারম্যান। উনি বাবাকে একদিন বললেন, কী করছে ও? বাবা বলল, “পার্ক স্ট্রিটে জেভিয়ার্সে দিয়েছি, কিন্তু এখন যাচ্ছে না।” তখন খুব বাজে অবস্থা শহরের। সবে নকশাল পিরিয়ড শেষ হচ্ছে, কারফিউ, হুলুস্থুল কাণ্ড চারিদিকে। শুনে নিখিলবাবু বললেন, “পার্ক স্ট্রিটে কী অবস্থা জানো? ওকে ওখানে পাঠিও না। ছেলে বখে যাবে ওই পাড়ায় গেলে।” তার পর যা হয়। বাড়ির পাশের আশুতোষ কলেজে ভর্তি!

[ আরও পড়ুন: সমুদ্রতটে বিকিনি বিপ্লব, বাঙালি এখন টু-পিস প্রেমী ]

আপানার ভিডিওতে প্রচুর কমেন্টের জবাব আপনি দেন না। আমি কয়েকটা কমেন্ট বেছেছি। যদি তার রিপ্লাই দিতে হত, কী দিতেন?

মদন মিত্র: হ্যাঁ, লাইভ চলাকালীন কোনও কমেন্ট দিতে পারি না। পরে ভুলে যাই। এটা দারুণ! শুরু করুন।

এক, আচ্ছা দাদা, গোলপোস্ট গোল হয় না কেন?

মদন মিত্র: এটা আমারও প্রশ্ন। টি, ও-তে ‘টু’ হয় কিন্তু জি আর ও তে ওইটা হয় না। (হাসি)

দুই, আমার কি কিছু হয়েছে, সব কিছুতে খালি মদনদাকে দেখতে পাচ্ছি কেন?

মদন মিত্র: এটা একটা রোগ। মেগ্যালোম্যানিয়া।

তিন, মদনদা মহাকাশে যান পাঠাচ্ছে। আপনি যাবেন?

মদন মিত্র: মহাকাশে তো যেতে হবেই। আজ নয় তো কাল। যান লাগবে না।

চার, মারব এখানে লাশ পড়বে শ্মশানে ডায়ালগটা একটু বলবেন?

মদন মিত্র: আসলে ওরা চায় এই ডায়ালগ লাইভে দিই। আমি বরং একটা চুটকি বলি? জাপান, আমেরিকা, ভারতের প্রধানমন্ত্রীরা আলোচনা করছে কোন দেশের বুলেট ট্রেন কত স্পিডে চলে। জাপান বলছে এত ফাস্ট। আমেরিকা বলছে আমাদের এত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলছেন, আমাকে আমার বান্ধবী সি অফ করতে এসেছে স্টেশনে। ট্রেন ছাড়ার সময় তাকে একটা চুমু খেতে গেছি, সঙ্গে সঙ্গে একটা চড় খেলাম। বাকি প্রধানমন্ত্রীরা প্রশ্ন করলেন কেন? তিনি বললেন, কারণ আমি ততক্ষণে ডেস্টিনেশনে পৌঁছে গেছি। ওটা অন্যের বান্ধবী ছিল!

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং