সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: তসলিমা নাসরিনের একটি ছবিতে স্তন নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করেছিলেন জোম্যাটোর বিতর্কিত গ্রাহক অমিত শুক্লা৷ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবার ওই গ্রাহককে একহাত নিলেন বাংলাদেশি লেখিকা৷
জব্বলপুরের বাসিন্দা অমিত শুক্লা গত বুধবার জোম্যাটোর মাধ্যমে নিরামিষ খাবার অর্ডার দেন৷ তিনি জানতে পারেন, তাঁর খাবার সরবরাহকারী একজন মুসলমান যুবক৷ শুধুমাত্র ধর্মীয় কারণে খাবারের অর্ডার বাতিল করে দেন অমিত৷ হকচকিয়ে যান ডেলিভারি বয়৷ গ্রাহকের প্রত্যাখ্যানে রীতিমতো ভেঙে পড়েন৷ পেশাগত জীবনে গ্রাহকের পদক্ষেপ প্রভাব ফেলবে কি না, এই চিন্তায় মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তাঁর৷ ঠিক সেই মুহূর্তেই তাঁর পাশে এসে দাঁড়ায় জোম্যাটো কর্তৃপক্ষ৷ শুধুমাত্র ধর্মীয় ভেদাভেদের জেরে গ্রাহকের অর্ডার বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ওই খাবার সরবরাহকারী সংস্থা সাফ জানিয়ে দেয়, ‘খাবারের কোনও ধর্ম হয় না’৷
[আরও পড়ুন: সাক্ষাৎকারে রবীন্দ্রনাথকে ‘অপমান’, বাংলাদেশি গায়ক নোবেলকে একহাত নিলেন ইমন]
এই ঘটনার পর থেকেই শিরোনামে অমিত শুক্লা৷ বিতর্কের মাঝে তাঁর এই অশ্লীল টুইট সামনে আসায় হতবাক নেটিজেনরা৷ একজন মহিলার স্তন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কীভাবে এমন জঘন্য মন্তব্য করলেন অমিত, সেই প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা৷ অমিতকে ইতিমধ্যেই জোরালো আক্রমণ করেছেন স্বস্তিকা৷ এবার সেই ঘটনায় মুখ খুললেন খোদ তসলিমা নাসরিন৷ স্বাধীনচেতা হিসাবেই বরাবর পরিচিত বাংলাদেশি লেখিকা৷ যেকোনও ইস্যুতে মুখ খোলাই তাঁর অভ্যাস৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে এমন অযাচিত মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেও তাই সরব তসলিমা৷ ২০১৩-র ১৮ এপ্রিলের সেই পুরনো টুইটটির কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘‘এই ব্যক্তি কি সেই যিনি অ-হিন্দু যুবকের হাত থেকে খাবার নিতে অস্বীকার করেন? তিনি কি আদৌ মহিলাদের সম্মান করেন? নাকি আমি মুসলমান বলেই উনি অশ্লীল মন্তব্য করেছেন?’’
Is it the man who cancelled Zomato order for being assigned a non-Hindu delivery boy? He has no respect for women? Or he showed his disrespect to me because i am a non-Hindu? pic.twitter.com/PS8tBICGU4
— taslima nasreen (@taslimanasreen) August 2, 2019
খাবারের অর্ডার বাতিল প্রসঙ্গে ক্রমশই কোণঠাসা অমিত শুক্লা৷ ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে সংবিধান অবমাননার অভিযোগও৷ কারণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যে দেশের ঐতিহ্য, সেদেশে ধর্মীয় ভেদাভেদ করার চেষ্টা আইনত অপরাধ৷ অভিযোগ তুলে জব্বলপুর থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই অমিতকে নোটিস পাঠিয়েছে৷