দ্রুত বদলে যাচ্ছে পৃথিবী। কাল যারা জেনারেশন এক্স ছিল আজ তারাই পুরনো দিনের মানুষ। তামাম দুনিয়ার দখল নিতে চলেছে জেন জি প্রজন্ম। দিন বদলাচ্ছে, সমাজ বদলাচ্ছে। ক্রমশ পাল্টাচ্ছে দেখার চোখও। আদর্শবাদী ও বাস্তববাদী, এই দুইয়ের মধ্যে সংঘাত অবশ্যম্ভাবী। দুই প্রজন্মের এই সংঘাতকে পর্দায় তুলে এনেছেন পরিচালক পাভেল, তাঁর ‘ডাক্তার কাকু’ ছবিতে। নাম ভূমিকায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া রয়েছেন ঋদ্ধি সেন, এনা সাহা, রজতাভ দত্ত, তুলিকা বসু ও পাভেল নিজে।
পাড়ার ডাক্তারকাকু সকলের ভরসার জায়গা হলেও রোগী দেখার ব্যস্ততায় বাড়িতে বিশেষ সময় দিতে পারেন না। মার্ক্সবাদী ঋজু ব্যক্তিত্বের মানুষটিকে সকলেই সম্মান করে। যদিও নিজের ছেলের সঙ্গে সেভাবে সখ্য গড়ে ওঠেনি। ছেলে তার মায়ের মৃত্যুর জন্য বাবাকে দায়ী করে। শৈশব, কৈশোর পেরিয়ে একটা সময় ছেলে যখন ডাক্তারি পড়তে বিদেশে যেতে চায় তখন বাবার সঙ্গে তার আদর্শের সংঘাত তৈরি হয়। তার মনে হতে থাকে জীবনের প্রত্যেক মোড়ে বাবা তার জন্য নৈতিকতার বাধা সৃষ্টি করছে।

নৈতিকতা সর্বস্ব সময়ের থেকে অনেকটা এগিয়ে এসে বর্তমানে সুবিধাবাদী সময় চলছে। এ ছবিতে সেই নৈতিকতাই নায়ক। এই আদর্শহীন, সততাহীন সমাজে দাঁড়িয়ে এখনও নৈতিকতার গল্প কোথাও যেন ধাক্কা দিয়ে যায়। পিতৃস্নেহ যখন সেই নৈতিকতার সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তোলে তখন দর্শকাসনে বসে অস্বস্তি হতে থাকে। কিছু জায়গায় নীতিবোধও হয়তো বা টলে যায় বাস্তবের কাছে। তাই নিজের ছেলের জন্য ডাক্তারকাকু যা কখনও মেনে নিতেন না পচার জন্য সেই বেশি মাইনের চাকরিটাও তিনি মেনে নিলেন।
দামানি আর ডাক্তারকাকুর সন্তানস্নেহ কোথাও যেন গিয়ে এক হয়ে যায় যখন পুত্রের প্রাণভিক্ষা করতে হয় আর একজনের ত্যাগ স্বীকারের শর্তে। তবু, তফাত একটাই, সেই কার্ল মার্ক্স! বাবা ডাক্তার প্রসেনজিৎ এবং ছেলে ডাক্তার ঋদ্ধি, অভিনয়ে একে অপরকে বিনাযুদ্ধে একচুল জমিও ছাড়েননি। যে প্রসেনজিৎকে দেখে তাঁর বয়স আন্দাজ করা প্রায় অসম্ভব, তিনিই চমকে দেন যখন তিনি নিজের বয়সের চরিত্রে ফিরে যান। দৃঢ়প্রতিজ্ঞ চোখ, শক্ত চোয়াল, হার না মানা শরীরী ভাষা, এই প্রসেনজিৎ শ্রদ্ধা জাগান।

ডাক্তারকাকু তাঁর জন্যই লেখা, আন্দাজ করা যায়। একই ছবিতে দুই বয়সের চরিত্রে ঋদ্ধি দুর্দান্তভাবে মানিয়ে গিয়েছেন। তাঁর চেহারায় দুই টাইমলাইনই বিশ্বাসযোগ্যভাবে উঠে এসেছে। অভিনয়ে বরাবরের মতোই তিনি অপ্রতিরোধ্য। আর এক ডাক্তার কর্ণ ওরফে পচার ভূমিকায় পাভেল, আগামীতে অভিনয়েই পাকাপাকিভাবে থেকে যেতে পারেন। শীতলের ভূমিকায় এনা সাহা মিষ্টি ব্যক্তিত্বে চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছেন। রজতাভ তাঁর ভূমিকায় মানানসই। স্বল্প পরিসরে কাদম্বরীর ভূমিকায় ছাপ রেখেছেন তুলিকা বসু।
পচার স্ত্রীর ভূমিকায় নবাগত অভিনেত্রী যথেষ্ট সম্ভাবনাময়ী। ছোট্ট অতিথি চরিত্রে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় বেশ মায়াময়ী। চিত্রনাট্য এই ছবির একমাত্র দুর্বলতা। বাহুল্য বর্জন করা গেলে অনেক আগে ছবি শেষ করা যেত, গল্পের টান টান ভাব বজায় থাকত। কারণে-অকারণে গানের ব্যবহার ছবির দৈর্ঘ্য বাড়িয়েছে। এটুকু বাদ দিলে বাবা-ছেলের সংঘাতের কাহিনিতে ‘ডাক্তার কাকু’ রেশ রেখে যাবে।
সর্বশেষ খবর
-
ব্রাজিল ম্যাচের গ্যালারি ভরাতে ভরসা তিন প্রধান! হাজার হাজার টিকিট দিচ্ছে ফেডারেশন
-
‘উপরওয়ালার বিচার, তৃণমূল মৃত-নির্মূল’, মমতার প্রতীক হাতছাড়ায় কটাক্ষ শমীকের
-
আমেরিকায় শিখ ট্রাক চালককে ১৭ বার ছুরিকাঘাত, ট্রাম্পের ‘মিস্টার সিং’ বিজ্ঞাপনের পরেই হামলা!
-
‘সরকার সব ফ্রি-তে দিতে পারে না’, UPI বিতর্কে সাফ কথা অশোক লাহিড়ীর, বললেন, ‘অভ্যাস হয়ে যাবে’
-
পুরুষ কোচের সঙ্গে একই ঘরে প্রণতি! এশিয়ান গেমসে তুমুল অব্যবস্থার শিকার বঙ্গকন্যা