বিশাখা পাল: এখনও শান্ত হয়নি হায়দরাবাদের পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ আর জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনায় প্রতিবাদের উত্তেজনা। নির্ভয়া কাণ্ডের ঘা এখনও শুকোয়নি। দোষীদের ফাঁসি দিতে চেয়ে আবেদন আসছে দেশবিদেশ থেকে। দেশের এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মুক্তি পেল ‘মর্দানি ২’। জ্বলতে থাকা হৃদয়ে যেন ঘৃতাহূতি। নৃশংসতা, বর্বরতা, ধর্ষণের মতো ঘটনাকে যেন আরও কাছ থেকে চেনালেন পরিচালক গোপি পুথরান।
পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার মহিলা ধর্ষিতা হন। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো প্রতি বছর যে তথ্য প্রকাশ করে তাতে অন্য অপরাধের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে থাকে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধও। ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান বলছে দেশে প্রায় ৩ লাখেরও বেশি মহিলার সঙ্গে অপরাধ ঘটেছে। তার মধ্যে ৩০ হাজারেরও বেশি ঘটনা ধর্ষণের। এই ঘটনা আটকাতেই যেন শিবানী শিবাজি রয়ের আত্মপ্রকাশ। কোটার পুলিশ সুপার তিনি। ঘটনার পটভূমি কোটা শহর। এই শহরে ঘটে গিয়েছে একটি মারাত্মক দুর্ঘটনা। বাড়ি থেকে ‘আসছি’ বলে বেরিয়ে ধর্ষিতা হয় লতিকা নামে একটি মেয়ে। ‘মর্দানি’ ছবিতেই দেখা গিয়েছিল শিবানী মেয়েদের সঙ্গে হওয়া এইসব অপরাধ শক্ত হাতে দমন করেন। এবার নিজের শহরে এমন একটি ঘটনা ঘটে যাওয়ায় গোটা পুলিশ ফোর্সকে কাজে লাগিয়ে দেন তিনি। শুরু হয় অভিযুক্তের তল্লাশি। কিন্তু শিবানীর নাকের ডগা দিয়ে ঘুরে বেড়ায় ধর্ষণকারী। শিবানী তা ঘূণাক্ষরেও জানতে পারেন না।

[ আরও পড়ুন: মুচমুচে চিত্রনাট্য, ‘পতি পত্নী অউর উয়ো’র অনন্য আবিষ্কার অনন্যা ]
ছবির গল্প কিন্তু গতানুগতির চোর-পুলিশ খেলা নয়। এখানেই সার্থকতা পরিচালক গোপি পুথরানের। শারীরিক অত্যাচারের সঙ্গে এখানে সমান্তরালভাবে চলেছে মানসিক অত্যাচারও। পরিচালক ছবির মধ্যে দিয়ে বলেছেন, নারীকে শুধু শারীরিকভাবে ধর্ষিতা হতে হয় না। প্রতিটি নারীকে প্রতি দিন সর্বত্র মানসিকভাবে ধর্ষণের শিকার হতে হয়। রাস্তাঘাটে, বাসে-ট্রামে, পথ চলতে, অফিস-কাছারিতে… সর্বত্র তাদের মনের ধর্ষণ হয়। ছবির ভিলেনের মনস্তত্ত্ব বোঝাতে সফল পরিচালক। তিনি দেখিয়েছেন, ধর্ষকের ধর্ষণ করার কারণ নারীশরীর নয়, নারীকে পায়ের নিচে দমন করা।
চেনা ছকের মধ্যে থেকেও যে অনেক কিছু বার্তা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ভারতীয় সিনেমা, তা দেখিয়ে দিলেন গোপি পুথরান। পৌনে দু’ঘণ্টার ছবি একেবারে টানটান। উত্তেজনা চেয়ার ছেড়ে উঠতে দেবে না আপনাকে। নাটক হলে বলা যেত প্রতিটি অঙ্কে যেন নয়া মোড়। কিন্তু সিনেমার ক্ষেত্রে তো আর তা হবে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও বলতে হবে চমক রয়েছে প্রতি পদক্ষেপে। সাসপেন্সে ভরপুর নয় ছবিটি। কিন্তু তাও দর্শককে ধরে রাখবে ‘মর্দানি ২’।

এর প্রথম কৃতিত্ব যদি পরিচালক ও চিত্রনাট্যকারের হয়, তবে দ্বিতীয় কৃতীত্ব অবশ্যই রানি মুখোপাধ্যায় ও বিশাল জেঠুয়ার। রানি-অনুরাগীরা মনোক্ষুণ্ণ হলেও বলতেই হবে বিশাল জেঠুয়া কিন্তু পরিচালক বা কাস্টিং ডিরেক্টরের ‘আবিষ্কার’। রানির সঙ্গে অভিনয়ে পাল্লা দেওয়া খুব একটা সহজ কাজ নয়। কিন্তু ছবিতে আগাগোড়া সেই কঠিন কাজটাই করে গিয়েছেন বিশাল। রানি তো কচিৎ কচাচিৎ চিত্রনাট্যের সাহায্য পেয়েছেন। কিন্তু বিশালের চরিত্র পুরোপুরি নেগেটিভ। আর অভিনয় যাঁরা বোঝেন, তাঁরা এটা খুব ভালোভাবেই জানেন নেগেটিভ চরিত্র ফুটিয়ে তোলা কতটা চ্যালেঞ্জিং। তার উপর এটি আবার বিশালের প্রথম ছবি। টেলিভিশনে তিনি ‘মহারানা প্রতাপ’, ‘পেশোয়া বাজিরাও’-এর মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করলেও বড়পর্দায় অভিনয় করা ছেলের হাতের মোয়া নয়। প্রথম ছবি, নেগেটিভ চরিত্র, রানির প্রতিদ্বন্দ্বী… চ্যালেঞ্জ কম ছিল না বিশালের কাছে। কিন্তু পরীক্ষায় তিনি সসম্মানে উত্তীর্ণ।
[ আরও পড়ুন: উদ্ঘাটিত ‘মার্কারি রহস্য’, চিত্রনাট্যেই বাজিমাত ‘সাগরদ্বীপে যকের ধন’-এর ]
সর্বশেষ খবর
-
জন্ম থেকে দলের ‘মালিকানা’ বদল, মমতার তৃণমূলের ২৮ বছরের ইতিবৃত্ত
-
জিনিয়াস স্পোর্টস নয়, আইএসএল আয়োজনের অধিকার খুব সম্ভবত পেতে চলেছে ক্লাবগুলি
-
ফেডারেশনের বৈঠকে রণক্ষেত্র টলিপাড়া, ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে ‘চোর চোর’ স্লোগানে ছোঁড়া হল ডিম
-
সমর্থকদের উপস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা, হোটেল আর ট্রেনিংয়ে ‘কারফিউ’ ব্রাজিলের
-
বন্ধুত্বের উপহার, প্রথমবার সংসদে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েও রাজ্যসভা আসন কংগ্রেসকে ছাড়লেন বিজয়