১৯ চৈত্র  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল ২০২০ 

Advertisement

ঝুলিতে বাংলাদেশের পাঁচটি জাতীয় পুরস্কার, এপারের দর্শকের মন কাড়বে ‘একটি সিনেমার গল্প’?

Published by: Bishakha Pal |    Posted: November 30, 2019 12:31 pm|    Updated: November 30, 2019 3:51 pm

An Images

বিশাখা পাল: বাংলাদেশে পাঁচটি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে ‘একটি সিনেমার গল্প’। ছবির পরিচালক আলগমীর বাংলাদেশে ভূষিত হয়েছেন লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট জাতীয় পুরস্কারে। ছবিতে অভিনয় করেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, আরফিন শুভ ও আলগমীরের মতো অভিনেতা। সেই হিসেবে অসাধারণ হওয়ার কথা ছিল ছবিটি। কিন্তু অত্যন্ত চড়া দাগের অভিনয় বারবার মনে করিয়ে দিল এপার বাংলার হরনাথ চক্রবর্তী, স্বপন সাহা, অঞ্জন চৌধুরীর মতো পরিচালকের কথা। এই ছবির ঋতুপর্ণাকে দেখলে দর্শকের ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’, ‘বাবা কেন চাকর’ বা ‘বসতির ময়ে রাধা’র মতো ছবিগুলোর কথা মনে পড়বে।

ছবির গল্প একেবারে সাদামাটা। ছবির নায়িকা কবিতা পরিচালক আকাশের প্রেমে হাবুডুবু খায়। এদিকে পরিচালকের আলাদা সংসার আছে। স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে সে নেহাত অসুখী নয়। কিন্তু নায়িকার অমোঘ টানও সে অস্বীকার করতে পারেন না। এদিকে তার সাদাসিধে স্ত্রী সব বোঝে। কিন্তু স্বামীর প্রেম সে পায় না এমন নয়। ফলে তার অভিযোগও মাঠে মারা যায়। এদিকে নায়ক সজীবও আবার কবিতার প্রেমে পাগল। তাঁর সারা ঘর জুড়ে কবিতার ছবি। অশোকের সঙ্গে কবিতার কেমিস্ট্রি তার অজানা নয়। কিন্তু তাও সে কবিতাকে ছাড়া কাউকে তার জীবনে ভাবতে পারে না। এদিকে অশোককে পাওয়ার জন্য কবিতা মরিয়া। কিন্তু সজীবের প্রেম তাকে বাস্তবে ফেরায়। সে বুঝতে পারে অশোকের সঙ্গে কোনও ভবিষ্যৎ নেই তার। এমন সময় তার ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়ে। এবার কী করবে কবিতা? হাতে তার অসমাপ্ত ছবির কাজ। সজীবের প্রেমও তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। কবিতার জীবনের এই টানাপোড়েনের গল্পই উঠে এসেছে ‘একটি সিনেমার গল্প’ ছবিতে।

[ আরও পড়ুন: বাংলা সিনেমায় ‘প্রতিবাদী স্বর’ এখনও আছে, প্রমাণ করল ‘সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে’ ]

ছবির কাহিনি খুব যে অন্যরকম, তা নয়। এমন গল্প বহুবার সেলুলয়েডে উঠে এসেছে। গল্প বলার কায়দা, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, সিনেমাটোগ্রাফি… কোনওটাই অসাধারণ নয়। তবে ছবির সেট আর গান দর্শকের মন্দ লাগবে না। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সেরা আর্ট ডিরেকশনের জন্য উত্তম গুহ, সেরা লিরিসিস্ট রুনা লায়লা, সেরা প্লে-ব্যাক সিঙ্গার আখি আলগমীর, সেরা নেগেটিভ চরিত্রের অভিনেতা সাদেক বাচ্চু, সেরা কোরিওগ্রাফার মৌসম বাবুল জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু ছবিটি ধাক্কা খায় অভিনয়ে। ক্যামেরার সামনে ছবির দুই মাইলস্টোন ঋতুপর্ণা আর আলগমীর যেন মঞ্চাভিনয় করে গিয়েছেন। অপেক্ষাকৃত আরফিন শুভ অনেক সাবলীল। সব মিলিয়ে ওপার বাংলার ছবি ‘একটি সিনেমার গল্প’কে এপারের দর্শক কতটা পছন্দ করবে, তা নিয়ে সত্যিই সন্দেহ আছে।

[ আরও পড়ুন: চুল নিয়ে চুলোচুলির মন ভাল করা গল্প ‘টেকো’ ]

Advertisement

Advertisement

Advertisement