Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
Babita Singh Reporting Review

ঘরে-বাইরে সামলানো এক নারীর হাল না ছাড়ার গল্প, কেমন হল ‘ববিতা সিং রিপোর্টিং’?

'ববিতা সিং রিপোর্টিং'-এর বিষয়বস্তু মার্ডার মিস্ট্রি নয়, ববিতার একার লড়াইয়ের আঁধারে গল্প বুনেছেন পরিচালক। লিখছেন স্বাতী চট্টোপাধ্যায় ভৌমিক।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১০:১০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১০:১০

options
link
ঘরে-বাইরে সামলানো এক নারীর হাল না ছাড়ার গল্প, কেমন হল ‘ববিতা সিং রিপোর্টিং’? zoom
'ববিতা সিং রিপোর্টিং'- এর পোস্টার। ছবি: সোশাল মিডিয়া
Advertisement

সৃষ্টির আদি থেকে নিয়ে আজ অবধি ভারতীয় মেয়েদের, বিশেষ করে বাড়ির বউদের ইমেজের খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। এ দেশে পরিবারে পুত্রবধূ আসে সারা পরিবারের সম্পত্তি হয়ে। বাইরের দুনিয়ায় সে যতই কর্মক্ষম, স্মার্ট, সাহসী বা দক্ষ হোক না কেন, তার আসল গুণের বিচার হবে পরিবারের প্রতি তার আনুগত্যবোধ দিয়ে। আমাজন প্রাইমে মুক্তি পেয়েছে অগ্নিকা পণ্ডিত পরিচালিত ‘ববিতা সিং রিপোর্টিং’। ছবির বিষয়বস্তু মার্ডার মিস্ট্রি নয়, ববিতার একার লড়াই নিয়ে।

অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর ববিতার চাকরি খুব বেশিদিনের নয়। এরই মধ্যে অফিসের বসের রাজনীতির শিকার হয়ে প্রায় বিনা দোষে দু’সপ্তাহের জন্য সাসপেন্ড হতে হয় তাকে। তবে একদিকে সুবিধাই হয় ববিতার। এই সুযোগে টানা ছুটি তো পাওয়া গেল। এবার ননদের সাধের অনুষ্ঠান নিজে হাতে করতে পারবে ভেবে শান্তি পেয়েছিল সে। কিন্তু গ্রামে গিয়ে ছোটবেলার বন্ধু বংশীর সঙ্গে দেখা আর তারপরেই তার আচমকা মৃত্যু ববিতাকে নাড়িয়ে দেয়।

Advertisement
‘ববিতা সিং রিপোর্টিং’

পরিবারের প্রতি কর্তব্য করার সঙ্গে সঙ্গে তার মাথায় ঘুরতে থাকে বংশীর মৃত্যুর কারণ জানার ইচ্ছা। কে মারল বংশীকে? বিভিন্ন ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নিমিশা সজয়ন, রাজেশ কুমার, অংশুমান পুষ্কর, বরুণ সবতি, সুনীতা রাজওয়ার, প্রিয়াঙ্কা সেটিয়া, মুসকাল অরোরা প্রভৃতি। থ্রিলার কাহিনি ভেবে এই ছবি দেখতে বসলে হতাশ হতে হবে। রহস্য থাকলেও, গল্পে থ্রিলারের অনুষঙ্গ খুব বেশি নেই। ছবি শেষ করার পর বোঝা যায় পরিচালক থ্রিলার বানাতেই চাননি।

‘ববিতা সিং রিপোর্টিং’-এর পোস্টার

খুব স্পষ্ট করে মধ্যবিত্ত ভারতীয় পরিবারের বউদের অবস্থান জানাতে চেয়েছেন। বিয়ের পর একটি মেয়ের পবিত্র কর্তব্য হল শ্বশুরবাড়ির সেবা করা, নিজেকে সর্বদা সুন্দর করে রাখা আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সন্তানের জন্ম দেওয়া। অনেক ব্যতিক্রমী উদাহরণ দেওয়া যায় এর বিপক্ষে, কিন্তু তা ব্যতিক্রমই। কখনওই তা সর্বজনীন নয়। চাকরি করা বউ খুবই জরুরি, তবে তার জীবনে চাকরি নিয়ে উচ্চাশা থাকবে না, আরও ভালো কাজ করার খিদে থাকবে না, আর দায়বদ্ধতা তো থাকবেই না। সবটাই শুধুমাত্র শ্বশুরবাড়ির জন্য উৎসর্গীকৃত হতে হবে।

সিনেমার দৃশ্য

এর অন্যথা হলে এমনকী স্বামীও সকলের সামনেই দু’কথা শুনিয়ে দিতে পারে। চোখ ফিরিয়ে লাভ নেই, ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে আমার আপনার বাড়ির পাশেই। অম্বিকা নিজে একজন নারী বলেই এই ছবি বানিয়েছেন এ কথা চোখ বুঝে বলে দেওয়া যায়। কাহিনিকার অমিতা ব্যাস, তিনিও নারী। নাহলে এমন একটা গল্প লেখাই হত না। আর সেই গল্পকে পর্দায় অসম্ভব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন নিমিশা সজয়ন।

ঘরে বাইরে সমানভাবে সামাল দেওয়া এক অনুসন্ধিৎসু নারী, যার ভেতর ভয়, হতাশা, জেদ, কষ্ট, ভালোবাসা, মায়া সবকিছু অনেকটা মিক্সিতে ঘুরে চলার মতো নাগাড়ে ঘুরে চলেছে তবু সে হাল ছাড়ছে না। ববিতাকে অসামান্য দক্ষতায় জীবন্ত করে তুলেছেন নিমিশা। অন্যান্য অভিনেতারাও যথাযথ। নাটকীয়তা কমিয়ে পরিচালক কঠিন বাস্তবে ফোকাস করেছেন, ফলে আবেগের বাড়াবাড়ি থেকে মুক্ত এই ছবি। তবে চিত্রনাট্য আর একটু টানটান করা গেলে ছবির দৈর্ঘ্য কিছুটা কমতে পারত।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.