মধ্য পঞ্চাশের রাগী তরুণ মুম্বইকর অনুরাগ কাশ্যপের চিত্রনাট্য ও ক্যামেরা এখনও সমাজের অন্ধকার দিকেই ফোকাস করে। প্রেম, প্রতারণা, ‘মি-টু’ ইত্যাদির বাণিজ্যিক মশলা নিয়েও তিনি দর্শকের শিরদঁাড়ায় অমোঘ শীতলতা প্রবাহিত করে দিতে পারেন তার প্রমাণ এই নতুন ছবি ‘বান্দর’ অর্থাৎ বঁাদর। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুদীপ শর্মার সাজানো গল্পে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে পুলিশ শান্তিরক্ষা করার নামে বা শান্তি স্থাপনের পরিবর্তে যেভাবে অশান্তির পরিবেশ কায়েম করেন, নিরপরাধ মানুষদের সঙ্গে শুধু উর্দির জোরে অভিযুক্ত মানুষের সঙ্গে কেমন অমানবিক ব্যবহার করেন, অশ্লীল বাক্য প্রয়োগেও কোনও রকম রাখঢাক করেন না, উলটে নৃশংস-অত্যাচারির ভূমিকা নেন, এবং বিচারাধীন বন্দিদের সংশোধনাগারের জানালাহীন চার দেওয়ালের মধ্যে বঁাদর করে তোলেন সেটা খোলাখুলি ভাবে তুলে এনেছেন তঁার ক্যামেরাম্যান শাহ রিজভি।
ছবির দ্বিতীয় পর্বে সরকারি সংশোধনাগার নামের জেলখানায় কাদের রাজত্ব কীভাবে চলে প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেটা তুলে এনেছেন অনুরাগ। যে কুঠুরিতে কুড়ি জনের শোওয়ার জায়গা হবে কি না সন্দেহ, সেই ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় শ’খানেক বিচারাধীন বন্দিকে। কোনও ফারাক নেই ধর্ষক থেকে খুনি, চোর থেকে ডাকাত সবাই মিলে এক নব্য গণতন্ত্রের কারখানা হয়ে ওঠে সেই ঘর। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, প্রাতঃকৃত্য ও স্নানের আলাদা কোনও ঘর নেই, খাবারের অবস্থাও ডাস্টবিন থেকে কুড়ানো খাবারের মতো। এবং সেটুকু নিতেও লাইন নিয়ে মারামারি। এই সব দেখানো নিয়ে দেশের দারিদ্র বিক্রির অভিযোগ কেউ করতেই পারেন, কিন্তু তাতে জীবনের বাস্তব বদলায় কি? কিংবা সরকারি প্রশাসনের টনক নড়ে? নড়ে না! বরং দীর্ঘ সময় জেলে থাকা বন্দিদের মানসিকতাই বদলে যায়, মানুষ যেন ফিরে যায় পূর্বপুরুষের নতুন রূপে– ‘বান্দর’ হয়ে।
আরও পড়ুন:

বাণিজ্যিক মশলা নিয়েও তিনি দর্শকের শিরদঁাড়ায় অমোঘ শীতলতা প্রবাহিত করে দিতে পারেন তার প্রমাণ এই নতুন ছবি ‘বান্দর’ অর্থাৎ বঁাদর।
জীবনের চলমান এই অস্বস্তিকর বাস্তবকে ধরার জন্য অভিষেক-সুদীপ-অনুরাগের ত্রিভুজ অবশ্যই একটি নিটোল গল্প বলেছেন। গল্পের নায়ক মাঝবয়সি তরুণ ছোট পর্দার গায়ক-অভিনেতা সমর (ববি দেওল)। তখন তার পড়তি সময়। নিঃসঙ্গ। প্রায় একাই থাকে। বন্ধু খুঁজতে ডেটিং অ্যাপ সার্ফ করতে করতে পেয়ে যায় গায়ত্রী নামের এক (স্বপ্না পাব্বি) তরুণীকে। কয়েক রাত কাটিয়ে শারীরিক মোহভঙ্গ হলে আবার নতুন বান্ধবী খুশিকে (সাবা আজাদ) পেয়ে ব্লক করে দেয় গায়ত্রীকে।
প্রতিশোধ নিতে গায়ত্রী সমরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনে। গ্রেফতার হয় সমর, স্থান হয় সংশোধনাগার নামের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতায় সমর জামিন পায় না। বোন (সানিয়া মালহোত্রা) ও উকিল (ঋদ্ধি সেন) বহু চেষ্টা করেও আইনের গেরো খুলতে পারে না। অতএব সমরও ধীরে ধীরে জেলখানায় ‘বঁাদর’ হয়ে পড়ে। সমাপ্তি দৃশ্যটি অনুরাগ অত্যন্ত নির্লিপ্তির সঙ্গেই তুলেছেন। ‘বঁাদর পিজঁরা’ গানটির মধ্য দিয়ে এমন সমাপ্তির ইঙ্গিতও তিনি দিয়েছেন।
অনুরাগ ও সাক্ষী মেহতার ছবির বড় গুণ প্রিচিং নয়, রূঢ় বাস্তবটাকে দেখানো। এই ছবিতে জেলখানার কুঠরি মনমোহন দেশাই বা প্রকাশ মেহরাদের ছবির মতো সাফ-সুতরো নয়। কারণ ফুর্তি, মারামারি, খেলাধুলো, ভোজন, প্রাকৃতিক ক্রিয়াকর্ম সবই একই ছাদের তলায়। অনুরাগের ‘রাগ’ প্রকাশে তঁার প্রধান হাতিয়ার ক’জন অভিনেতা। প্রথম নাম অবশ্যই ববি দেওল। তঁার অভিনয়ে হতাশা, ক্রোধ দুটো সুন্দরভাবে এসেছে।
জীবনের চলমান এই অস্বস্তিকর বাস্তবকে ধরার জন্য অভিষেক-সুদীপ-অনুরাগের ত্রিভুজ অবশ্যই একটি নিটোল গল্প বলেছেন। গল্পের নায়ক মাঝবয়সি তরুণ ছোট পর্দার গায়ক-অভিনেতা সমর (ববি দেওল)।
কিন্তু শারীরিক গ্ল্যামার একটু ভাঙা প্রয়োজন ছিল। স্বপ্না, সানা এবং সানিয়া তিনজনই চরিত্রগুলোর দ্বন্দ্ব ও জটিলতাকে প্রকাশ করেছেন। স্বল্প পরিসরে নজরে পড়েন ঋদ্ধি সেন। পুলিশ অফিসারের চরিত্রে জিতেন্দ্র যোশি, এবং জেলখানার সহবন্দিদের মধ্যে ইন্দ্রজিৎ ও রাজের অভিনয় চোখে পড়ে। তবুও বলতেই হয় ‘নিশাঞ্চি’ ও ‘কেনেডি’র পর ‘বান্দর’ কিন্তু সিনেমার কৃৎ কৌশলে অনেক বেশি সহজ-সরল। ন্যারেটিভে কোনও ভাঙচুর নেই, যা অনুরাগ কাশ্যপের বেঞ্চমার্ক! সেটায় আতঙ্কবোধ করতে পারেন অনেকেই!
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
গরমে কোল্ড ড্রিঙ্কস ভুলে যান! এই রাজস্থানি পানীয় খেলেই শরীর থাকবে ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল
-
মধ্যরাতে যাদবপুরে জবরদখল হটাল রেল, প্রতিবাদে কী বলছেন টলিপাড়ার ‘বাম’ সেলেবরা?
-
যাদবপুরে ‘জবরদখলে’ বুলডোজার অ্যাকশন, হাই কোর্টের দ্বারস্থ দোকানদাররা
-
ফের অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি, হাজিরা এড়িয়ে দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদ
-
এবার হৃদরোগে আক্রান্ত ১৪ বছরের মেয়ে! গুজরাটে খেলতে খেলতে মৃত্যু কিশোরীর, প্রকাশ্যে ভিডিও