ঘরে ঘরে নামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সন্তানকে ভর্তির প্রবণতার কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। সাধারণ মানুষ হোক বা সেলিব্রিটি, বেসরকারি স্কুলই বাবা-মায়েদের প্রথম পছন্দ। গ্যাঁটের কড়ি খরচ করে সন্তানকে ভালো স্কুলে পাঠানোর পর যখন শিশুসুরক্ষার বিষয়টি অবহেলিত হয়, তখন ঘটতে পারে মারাত্মক ঘটনা। ঠিক যেমনটা ঘটেছে টলি ক্যুইন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের বোনপোর সঙ্গে। সোশাল মিডিয়ায় এই ঘটনায় বাবা-মাকে সতর্কবার্তা অভিনেত্রীর।
প্রসঙ্গত, পডকাস্টার স্মিতা ঘোষ, যিনি অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের দিদি হিসেবেই ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিত। দুর্ঘটনার শিকার তাঁরই সন্তান। মহেশতলার একটি নামি প্রতিষ্ঠানে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির ছাত্র স্মিতার ছেলে। একজন অভিভাবক হিসেবে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ভাগ করেছেন। এই ঘটনায় অত্যন্ত হতাশ ও উদ্বিগ্ন। আহত সন্তানের ছবি আর চিকিৎসকের প্রেসক্রপসনের ছবি পোস্ট করে জানাচ্ছেন, ‘আমার সন্তান অপ্রাপ্তবয়স্ক, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির ছাত্র। অন্য পড়ুয়ার আঘাতে চোখে গুরুতর চোট পেয়েছে। এই ঘটনাটির থেকেও বেশি উদ্বেগের বিষয়, স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকের থেকে বিষয়টি আড়াল করতে চেয়েছে। এটা জানার পর অত্যন্ত হতাশ হয়েছি।’
আরও পড়ুন:
বিশদে জানান, ‘ঘটনার পরই কিন্তু, আমাদের জানানো হয়নি। পরবর্তীতে আমরা জানতে পারি, বাবা-মাকে না জানানোর জন্য প্রভাবিত করা হয়েছিল। নিজের জন্যই আঘাত লেগেছে, এমন গল্প সাজিয়ে আমার ছেলেকে বলার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই তথ্য যদি সত্যি প্রমাণিত হয় তাহলে কিন্তু বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। কারণ একটি শিশুর নিরাপত্তা এবং তার অভিভাবকদের কাছে সঠিক ও সত্য তথ্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টির সঙ্গে কোনওভাবেই আপস করা সম্ভব নয়।’
আরও অভিযোগ, ‘ঘটনার প্রকৃত সত্য জানার জন্য আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর অনুরোধ করি। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে যে ধরনের সহযোগিতা ও স্বচ্ছতা আমরা আশা করেছিলাম তা পাইনি। বরং মনে হয়েছে, আমাদের উদ্বেগকে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বলতে চাই অভিভাবকরা বিশ্বাসের ভিত্তিতে সন্তানদের স্কুলে পাঠান। সেই বিশ্বাসের সঙ্গে স্কুলের আরও একটি গুরুতর দায়িত্ব রয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হল, শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে বা আঘাত পেলে দ্রুত অভিভাবকদের জানানো। সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা এবং বিষয়টির তদন্তে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করা উচিত। আমি কোনও বিশেষ সুবিধা বা পক্ষপাতিত্ব চাইছি না। আমি সঠিক জবাব চাই, সেই সঙ্গে স্বচ্ছতা এবং শিশুর নিরাপত্তা।’
এই পোস্টের ভিত্তিতে শ্রাবন্তীও অভিভাবকদের সতর্ক করেছেন। ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, ‘যাঁরা মনে করছেন এই বেসরকারি স্কুলে সন্তানের অ্যাডমিশন নেবেন, বিশেষ করে মহেশতলা ব্র্যাঞ্চে তাঁরা ভুলেই একাজ করবেন না। ওখানে আপনার সন্তানের কোনও নিরাপত্তা নেই। শিশুসুরক্ষার গাফিলতিতে যদি কোনও প্রতিষ্ঠান সেরা হয় তাহলে এই স্কুলটি। অত্যন্ত খারাপ ম্যানেজমেন্ট।’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
রাজস্থানের ৬১১ সরকারি স্কুলের নিজস্ব ভবনই নেই! ‘আরশোলা’দের কর্মসূচির মাঝেই প্রকাশ্যে রিপোর্ট
-
তারাপীঠের পর এবার রামপুরহাটের হোটেলে আগুন, আতঙ্কে হুড়োহুড়ি, ঘটনাস্থলে দমকল
-
মাত্র তিনদিনেই শেষ কাজ! এসআইআরের মতোই জনগণনাতেও নজির সাঁইথিয়ার শিক্ষকের
-
রাতের আকাশে বেগুনির খেলা! স্পেস স্টেশন থেকে নবরূপ দেখালেন নভোশ্চর
-
হকি বিশ্বকাপে ডাচেদের বিরুদ্ধে হার, শেষ চারে ওঠার স্বপ্ন প্রায় শেষ ভারতের