Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Agriculture News

বাংলায় কৃষিবিপ্লব, এক ফসলের খরচে দুই বা তিনবার চাষে বাড়ছে আয়

স্বল্প পরিমাণ জমিতে একই ফসলের খরচে দুই বা তার বেশি ফসল ফলানোর আধুনিক পদ্ধতির নাম অন্তর্বর্তী চাষ ব্যবস্থা। তার ফলে চাষির আয় প্রায় দ্বিগুণ হওয়া সম্ভব।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২৬, ২০:১৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২৬, ২০:১৭

options
link
বাংলায় কৃষিবিপ্লব, এক ফসলের খরচে দুই বা তিনবার চাষে বাড়ছে আয় zoom
অন্তর্বর্তী চাষ ব্যবস্থা অবলম্বন করে চাষি তাঁর আয় প্রায় দ্বিগুণ করতে পারেন। ছবি: সংগৃহীত

স্বল্প পরিমাণ জমিতে একই ফসলের খরচে দুই বা তার বেশি ফসল ফলানোর আধুনিক পদ্ধতির নাম অন্তর্বর্তী চাষ ব্যবস্থা। এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হল, জমির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। অন্তর্বর্তী চাষ ব্যবস্থা অবলম্বন করে চাষি তাঁর আয় প্রায় দ্বিগুণ করতে পারেন। লিখছেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পল্লিশিক্ষা ভবনের শস্য বিজ্ঞান বিভাগের গবেষক মৌমিতা রায় ও বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ‌্যালয়ের শস্য বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বরিষ্ঠ অধ্যাপক ড. কাজল সেনগুপ্ত।

বর্তমান সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাবনার বিষয় হল প্রবল হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং এই বিপুল পরিমাণ জনসংখ্যার জন্য সুনিশ্চিত পুষ্টি জোগান। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পাশাপাশি তাদের খাবারের চাহিদাও দিন দিন দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে। এই চাহিদা পূরণের জন্য বিপুল পরিমাণ খাদ্যসম্ভারের উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ সময় ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় কৃষকের সীমিত জমির পরিমাণ। স্বল্প পরিমাণ জমিতে একই ফসলের খরচে দুই বা তার বেশি ফসল ফলানো সম্ভব একটি আধুনিক পদ্ধতিতে যার নাম অন্তর্বর্তী চাষ ব্যবস্থা। এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হল প্রতি ক্ষেত্রফল জমির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো।

Advertisement

অন্তর্বর্তী চাষ ব্যবস্থা অবলম্বন করে চাষি তাঁর আয় প্রায় দ্বিগুণ বাড়াতে পারেন। শুধু তাই নয়, প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহার এবং কৃষিতে বৈচিত্র প্রদান অন্তর্বর্তী চাষ ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভব। একই জমিতে বারবার একই ফসল চাষ করলে তা মাটির স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে; অন্তর্বর্তী চাষ মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করে। আবহাওয়া, মাটি, সেচব্যাবস্থা, তাপমাত্রা, বৃষ্টির পরিমাণ ইত্যাদি নির্ধারণ করে যে কোনও কৃষির শস্য বিন্যাস যা স্থান বিশেষে পরিবর্তিত হয়। তাই বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থানে বিভিন্ন চাষাবাদের চলন রয়েছে এবং একই কারণে অন্তর্বর্তী চাষ ব্যবস্থার শস্য বিন্যাসে তারতম্য দেখা যায়। সাধারণত দানা শস্যের সঙ্গে ডালশস্যের অন্তর্বর্তী চাষের প্রচলন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

অন্তর্বর্তী চাষ সাধারণত দু-ধরনের:
১) সংযোজিত অন্তর্বর্তী চাষ
এক্ষেত্রে একটি মুখ্য ফসল থাকে যার গাছ সংখ্যা প্রতি বর্গমিটারে একই রাখা হয় এবং একই জমিতে বাকি ফসলগুলোর গাছ সংখ্যা প্রতি বর্গমিটারে সুবিধা অনুযায়ী অবশিষ্ট জমির
জায়গা বিশেষে পরিবর্তন করা হয়। এতে মূল ফসলের ফলনের কোনও কমতি রাখা হয় না। আমাদের দেশে সংযোজিত অন্তর্বর্তী চাষের জনপ্রিয়তা বেশি।
২) প্রতিস্থাপিত অন্তর্বর্তী চাষ
এক্ষেত্রে সমস্ত ফসলকে একই প্রাধান্য দেওয়া হয়। সমস্ত ফসলের প্রতি বর্গমিটারে গাছ সংখ্যা সুবিধা মতো নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। অন্তর্বর্তী চাষের মাধ্যমে সাফল্য পেতে হলে কিছু বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে–
প্রথমত, এমন ধরনের শস্য নিতে হবে যাদের শারীরিক বৃদ্ধির চূড়ান্ত পর্যায় যেন আলাদা সময়ে হয়। দুই বা তার বেশি ফসলের শাখা প্রশাখা অথবা শিকড় বৃদ্ধি একই সময়ে হলে বিভিন্ন ফসলের মাঝে জল ও সার আহরণের প্রতিযোগিতা চলবে; ফলস্বরূপ সম্পদের সদ্ব্যবহার ব্যাহত হয় যা পরবর্তীকালে ফলনে বাজেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। দুটি ফসলের শিকড়ের দৈর্ঘ্য ভিন্ন হলে মাটির স্তরবিন্যাস থেকে গাছ জল এবং সার গ্রহণ করতে পারবে নির্দ্বিধায়।
দ্বিতীয়ত, যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে সেটি হল ফসলগুলির পরিপক্বতার সময় যেন আলাদা হয়। তাহলে ফসল তোলার সময় নির্ণয় সুবিধাজনক হবে এবং বিভিন্ন অন্তর্বর্তী পরিচর্যা সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হবে।
তৃতীয়ত, এমন কম্বিনেশনের সবজি নিতে হবে যাদের মধ্যে কোনও অ্যালিলোপ্যাথিক বা ক্ষতিকারক এফেক্ট নেই, তা নাহলে একটি
ফসল চাষ আর একটি ফসলের জন্য ভয়াবহ হতে পারে এবং অপর ফসলের ফলনে প্রভাব ফেলতে পারে।
চতুর্থত, প্রতি বর্গমিটারে গাছের সংখ্যা যথাযথ ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অতিরিক্ত পরিমাণে চারা লাগালে একদিকে যেমন পর্যাপ্ত সূর্যালোক
পৌঁছবে না, অপরদিকে চারাগুলির মাঝে অপুষ্টি দেখা যাবে। মূলত যে সুবিধাগুলি অন্তর্বর্তী চাষ এর মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব তা নিম্নরূপ–
১) আয় ও লাভের হার বৃদ্ধি
অন্তর্বর্তী কৃষিতে একটি ফসলের খরচে একের অধিক ফসল ফলানো সম্ভব। উপরন্তু বাড়তি ফসলের মাধ্যমে আয় বাড়ানো সম্ভব। এতে কৃষকের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে।
২) সম্পদের সদ্ব্যবহার
এই পদ্ধতি অবলম্বন করে মূল্যবান সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় সার ও জলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের অপচয় হয়, কিন্তু অন্তর্বর্তী চাষে বিভিন্ন স্তর থেকে গাছ জল ও সার গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখে।
৩) আগাছা নিয়ন্ত্রণ
জমিতে একের বেশি ফসল থাকায় আগাছা বেড়ে ওঠার জন্য তুলনামূলক অনেক কম জায়গা বেঁচে থাকে। এতে আগাছা নিয়ন্ত্রণে সুরাহা পাওয়া যায়।
৪) মাটির স্বাস্থ্যরক্ষা
দানাশস্যের সঙ্গে ডাল জাতীয় শস্য চাষ করলে একদিকে যেমন ইউরিয়ার খরচ কমবে, অপরদিকে মাটির উর্বরতাও বজায় থাকবে। মাটিতে জল ও সার ধারণ করার ক্ষমতা বাড়বে।
৫) রোগব্যাধি ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ
কোনও একটি মাত্র ফসল চাষের বদলে যখন অন্যান্য ফসলের সঙ্গে চাষ করা হয় তখন তার রোগব্যাধি ও পোকামাকড়ের পরিমাণ অনেক কম দেখা যায়। ভুট্টা যখন ডাল শস্যের সঙ্গে চাষ করা হয় তখন তার রোগব্যাধি ও পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেক কম থাকে। সুতরাং, অন্তর্বর্তী চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করলে আমাদের কৃষক বন্ধুরা নির্দিষ্ট পরিমাণ বা স্বল্প পরিমাণ জমি থাকা সত্ত্বেও একের অধিক ফসল ফলিয়ে নিজের আয় বাড়াতে পারেন। দানা সশ্য, ডাল শস্য বা সব্জি একই সঙ্গে চাষ করলে তাঁরা নিজেদের খাদ্যাভ্যাস আরও পুষ্টিকর বানাতে পারবেন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.