হিমাচল প্রদেশের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে রাজমার স্থানীয় বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উন্নত জাত তৈরির লক্ষ্যে বড়সড় গবেষণা চলছে লাহুলের কুকুমসেরিতে। প্রায় ৪,০০০টি রাজমার জার্মপ্লাজম নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত ও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই গবেষণার মাধ্যমে একদিকে যেমন স্থানীয় রাজমার জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে তেমনই ভবিষ্যতে কৃষকদের উপযোগী উন্নত জাত তৈরির পথও খোঁজা হচ্ছে।
কুকুমসেরির হিল অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ অ্যান্ড এক্সটেনশন সেন্টার (HAREC) এবং কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (KVK)-এ এই গবেষণা চলছে। পালমপুরের চৌধরি সরবন কুমার হিমাচল প্রদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (CSK HPKV) এই কেন্দ্রের এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গবেষণার অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হল কনসোর্টিয়াম রিসার্চ প্ল্যাটফর্ম অন অ্যাগ্রো-বায়োডাইভার্সিটি অন রাজমাশ (CRP-AB Rajmash)। আইসিএআর-ন্যাশনাল ব্যুরো অব প্ল্যান্ট জেনেটিক রিসোর্সেস (ICAR-NBPGR)-এর এই বহু-প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মসূচির অধীনে রাজমার প্রায় ৪,০০০টি জার্মপ্লাজম নমুনা নিয়ে কাজ হচ্ছে। জার্মপ্লাজম বলতে মূলত কোনও ফসলের সংরক্ষিত বীজ বা জিনগত উপাদানকে বোঝায়, যা ভবিষ্যৎ গবেষণা ও জাত উন্নয়নে ব্যবহার করা যায়।
আরও পড়ুন:

এই নমুনাগুলির বিভিন্ন কৃষি-আকৃতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত ও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কোন জাতের গাছ কেমন, ফলন বা অন্যান্য কৃষি বৈশিষ্ট্য কী, প্রতিকূল পরিবেশে তার সম্ভাবনা কতটা – এই ধরনের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষকরা রাজমার বৈচিত্র্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় রাজমার জাতগুলির এই সংগ্রহ ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনগত সম্পদ।
কুকুমসেরিতে রাজমা নিয়ে গবেষণার উদ্দেশ্য শুধু জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণই নয়, অল ইন্ডিয়া কো-অর্ডিনেটেড রিসার্চ প্রজেক্ট অন MULLaRP (AICRP-MULLaRP)-এর অধীনেও রাজমা নিয়ে প্রজনন, রোগতত্ত্ব এবং কীটতত্ত্বের পরীক্ষা চলছে। অর্থাৎ, নতুন জাত তৈরির সম্ভাবনা যাচাইয়ের পাশাপাশি রোগ ও কীটপতঙ্গের মতো সমস্যার মোকাবিলা নিয়েও গবেষণা করা হচ্ছে। হিমাচলের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে কৃষি অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে পরিচালিত হয়। কুকুমসেরি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,৬৭২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এবং এই অঞ্চল উচ্চ পার্বত্য শুষ্ক নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর অন্তর্ভুক্ত। ফলে এখানকার স্থানীয় ফসলের জাতগুলির মধ্যে ওই পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। গবেষকদের কাছে এই স্থানীয় রাজমার জাতগুলি তাই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এখানকার দুই বিজ্ঞানী ড. সুভাষ কুমার ও ড. নেহা শর্মা জানান, কৃষি গবেষণার ক্ষেত্রে জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। কোনও ফসলের স্থানীয় জাত হারিয়ে গেলে তার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ জিনগত বৈশিষ্ট্যও হারিয়ে যেতে পারে। সেই কারণে রাজমার স্থানীয় বৈচিত্র্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ভবিষ্যতের কৃষি উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বাইক দাঁড় করিয়ে ফোনে কথা, পিছন থেকে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কা, বেঘোরে মৃত্যু শিশু-সহ গোটা পরিবারের
-
ভারত-চিনের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন! ইউনানের শিল্পীরা মাতালেন কলকাতার মঞ্চ
-
সম্পূর্ণ বেসরকারিকরণই কি ভবিষ্যৎ? ৯ কর্মী সংগঠনের চিঠির উত্তর দিল ইসরো
-
জল্পনার অবসান! ‘বিগ বস বাংলা’য় প্রথম ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি রাজবীরের, চেনেন এই অভিনেতাকে?
-
দিল্লিতে বাড়ি ভেঙে মৃত ৫, শোকপ্রকাশ মোদি-মুর্মুর, ‘এড়ানো যেত’, তোপ কংগ্রেসের