জল সংকট মেটাতে ফোয়ারা পদ্ধতিতে চাষের দাওয়াই কৃষি দপ্তরের

আসানসোলের খনি এলাকার জমিগুলিকে দোফসলি করাই লক্ষ্য৷

Sprinkler for Asansol's farmers
Published by: Sayani Sen
  • Posted:January 11, 2019 5:01 pm
  • Updated:January 11, 2019 5:01 pm

চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমানে চাষের জলসংকট মেটাতে ফোয়ারা পদ্ধতিতে চাষাবাদের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। খনি অধ্যুষিত অঞ্চলের ১৩ হাজার হেক্টর জমিকে দোফসলি করে চাষ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ২২ হাজার হেক্টর জমিকে দোফসলি করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে চাষে জলের প্রয়োজন। পূর্ব বর্ধমানে সেচের জলের জন্য ক্যানাল-সহ সাবমার্সিবেলের ব্যবস্থা রয়েছে। পশ্চিমে অবশ্য তেমন বিশেষ সুবিধা নেই। তাই ফোয়ারা সেচে জোর দিচ্ছে জেলা কৃষি দপ্তর। 

আলসারের কড়া দাওয়াই হতে পারে শীতের বাঁধাকপি

চলতি বছর ১০২৫ হেক্টর জমিতে ফোয়ারা সেচে চাষকরার কথা জানিয়েছেন জেলার প্রধান কৃষি অধিকর্তা সাগর বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বছরের তুলনায় যা প্রায় ১০০ হেক্টর বেশি। এ বিষয়ে জেলা কৃষি অধিকর্তা সাগর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রধানত খনি অঞ্চলে জলের সমস্যা আছে। অল্প জলে সরষে-ডাল-সবজি ভাল হচ্ছে। বৃহৎ সেচে এক বিঘা জমিতে এক লাখ লিটার জল লাগে। সে ক্ষেত্রে ফোয়ারা সেচে মাত্র এক বিঘা জমিতে এক হাজার লিটার জল লাগে।” তিনি আরও জানান, বাংলা কৃষি সেচ যোজনা প্রকল্পে এখানে ওই ক্ষুদ্র সেচের মাধ্যমে চাষ হচ্ছে। এছাড়াও বিনামূল্যে বীজ বিলির পাশাপাশি ফসলবিমা যোজনা করে দেওয়া হয়েছে কৃষকদের জন্য। সেচ ব্যবস্থা উন্নতিকরণের পর বছরে দুবার করে ফলন হচ্ছে। যেখানে ধান, ডালশস্য ও সবজি চাষ করা হচ্ছে। ৬০ মেট্রিক টন মুসুর বীজ, ১৪ মেট্রিক টন সরষেে, খেসারি ৪০ মেট্রিক টন ও ছোলার বীজ ৫ মেট্রিক টন কৃষকদের বিনামূল্যে বিলি করা হয়েছে জেলা কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে।

ক্যানসার রোধে ব্রহ্মাস্ত্র ভুট্টা, চাহিদা মেটাতে বাড়ছে চাষ

এবছর সাড়ে ছ’হাজার হেক্টর জমিতে খেসারি, সরষে, ছোলা ও মুসুর ডাল চাষ হচ্ছে। জেলার ছ’টি ব্লককে শস্য চাষের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। কাঁকসা ফরিদপুর পান্ডবেশ্বর বারাবনি সালানপুর ও জামুড়িয়া ব্লকে ডালশস্য চাষ হচ্ছে। এই ব্লকগুলির এক হাজার হেক্টর জমিতে খেসারি, আড়াই হাজার জমিতে মুসুর, এক হাজার হেক্টরে ছোলা, ও হাজার জমিতে সরষে চাষ হয়েছে। এতে প্রায় বারো হাজার কৃষক পরিবার উপকৃত সালানপুর পঞ্চায়েতের সহসভাপতি শ্যামল মজুমদার বলেন, “বাম আমলে আমি পঞ্চায়েতের সভাপতি পদে থেকে দেখেছি, কৃষি বলে কোনও দপ্তর ছিল মনে হত না। আর এখন বীজ, চাষের যন্ত্রপাতি, কৃষাণ ক্রেডিট কার্ড, কৃষি বিমা থেকে চাষে জল দেওয়ার পাইপও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষকদের জন্য দিচ্ছেন।” জেলা কৃষি অধিকর্তা জানান, চলতি বছর ১০২৫ হেক্টর জমিতে ফোয়ারা সেচে চাষ করা হবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ