Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৮ জুন ২০২৬
ধান চাষ

উৎপাদন বাড়াতে বিকল্প ধান চাষেই জোর কৃষি দপ্তরের

লাল স্বর্ণ প্রজাতির ধান চাষ করে লাভ বাড়ছে কৃষকদের৷

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৩০, ২০১৯, ২০:২২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৩০, ২০১৯, ২০:২২

options
link
উৎপাদন বাড়াতে বিকল্প ধান চাষেই জোর কৃষি দপ্তরের zoom
ছবি: প্রতীকী

রিন্টু ব্রহ্ম, কালনা: বছরের পর বছর টানা একই ধানের চাষ আর নয়। ধানের উৎপাদন বাড়াতে বিকল্প ধান চাষেই জোর দিয়েছে রাজ্য কৃষি দপ্তর৷ যাতে কমবে পোকার আক্রমণ। পাশাপাশি বাড়বে ধানের উৎপাদনও। আখেরে লাভবান হবেন চাষিরাই। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার অধিকাংশ চাষিরই বছর বছর লাল স্বর্ণ প্রজাতির ধান চাষ করাই অভ্যাসে পরিণত করেছেন। পোকার আক্রমণ বা কম ফলন কোনও কিছুই তাঁদের এই অভ্যাস থেকে টলাতে পারে না। এমনকী, কৃষি বিশেষজ্ঞরা বারবার খাদ্যাভ্যাসের বদলের দিকে তাকিয়ে সরু ও সুগন্ধী চালের চাষ বাড়ানোর পরামর্শ দিলেও চিরাচরিত চাষ থেকে নজর ঘোরান না কেউই। কিন্তু বছরের পর বছর একই চাষে শুধু কৃষকই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জমিও। কৃষি দপ্তরের মতে, একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির ধান চাষে এক দিকে যেমন ফলন কমছে, তেমনি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমেছে। ক্রমাগত বাড়ছে চাষের খরচ। তাই এই সমস্যার হাত থেকে রেহাই পেতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আলাদা আলাদা প্রজাতির ধানের চাষই লাভের একমাত্র উপায়।

[ আরও পড়ুন: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধানের ক্ষতি ঠেকাতে ভরসা ‘সুধা’ পদ্ধতি]

কৃষি দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, আমন ধান চাষের বেশির ভাগটাই নির্ভর করে লাল স্বর্ণ প্রজাতির উপর। কৃষি বিশেষজ্ঞদের কথায়, ধানের এই প্রজাতির বয়স অনেক পুরনো হয়ে গিয়েছে। এই প্রজাতির ধানের চাষে মূলত কায়িক পরিশ্রম অনেকটাই কম লাগে। তাই স্বল্প শ্রমে এই প্রজাতির ধান চাষের এলাকা গোটা রাজ্যে ক্রমশ বাড়ছে। তবে একটানা এই প্রজাতির চাষে ফলন ক্রমশ নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন রোগ পোকার আক্রমণ। চাষের বিভিন্ন সময়ে মাজরা, ভেপু, পামরি, বাদামি শোষক, গন্ধীর মতো পোকার হামলা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। দেখা দিচ্ছে ঝলসা, খোলাপচার মতো রোগও। ফলে এক দিকে কীটনাশকের খরচ বাড়ছে, সঙ্গে কমছে ফলন।

Advertisement

মন্তেশ্বরের চাষিরা বলেন, “ফি-বছরে প্রতি বিঘা জমিতে আগে প্রায় ১৯ মণ ধান ফলত। আর এখন সেখানে ১৬ মণের মতো ফলছে।” তাঁদের আরও দাবি, গত কয়েক বছরে এই ধানের তেমন দামও মিলছে না। বিক্রি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই এই সমস্ত সমস্যা দূর করতে জেলা কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে সময় সময়ে নানা প্রজাতির ধান চাষ করতে বলা হচ্ছে। টানা বছরের পর বছর একই প্রজাতির কোনও ধান চাষ করা উচিত নয়। সেক্ষেত্রে ওই গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে। নানা ধরনের পোকার হামলাও বাড়ে।

[ আরও পড়ুন: আর্মি ওয়ার্মের সংক্রমণে কোচবিহারে আতঙ্ক, মাথায় হাত ভুট্টা চাষিদের]

এই কারণেই বছরদুয়েক আগে থেকে প্রদর্শনী বা সরকারি অনুষ্ঠান থেকে লাল স্বর্ণ ধানের বীজ বিলিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর বিকল্প হিসাবে চাষ করা যেতে পারে, রাজেন্দ্র, ভগবতী, রানি, টিআরআর-৪২, স্বর্ণ সাব ওয়ান, সহ ভাগী প্রজাতির ধান চাষ করা যেতে পারে। সাধারণত অতি প্রচলিত ধানের থেকে এই সবকটি প্রজাতির ধানের চাষের ফলন অনেক বেশি হচ্ছে বলে দাবি পূর্ব বর্ধমান জেলা কৃষি দপ্তরের৷ এই সমস্ত প্রজাতির ধানের চাষে রোগ ও পোকার আক্রমণও অনেক কম। অন্যদিকে চাষের পদ্ধতিও স্বাভাবিক ধরণেরই। বিশেষ কিছু খরচও নেই। উপরন্তু, স্বর্ণ ধানের ক্ষেত্রে নিচু জলা জমিতেও চাষ করা যেতে পারে। টানা দু’সপ্তাহ পর্যন্ত জলের ডুবে থাকলেও ধান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম। তবে, কৃষি দফতরের মতে, এই সবকটি ধানের চাষ করার পরিমাণ কম হওয়ায় বাজারে এই সব চালের চাহিদাও কম। আগামী দিনে কৃষকরা বেশি পরিমাণে এই ধান চাষ করলে বাজারে দাম বাড়বে বলে দাবি কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদের৷

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.