সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: করোনা আবহে সর্বভারতীয় ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষা নেওয়া নিরাপদ নয়। বারবার এই অভিযোগ তুলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি যখন শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার তোড়জোড় করছে, সেসময় দেশের শিক্ষামহল কিন্তু বলছে ঠিক বিপরীত কথা। JEE, NEET নিতে বেশি দেরি করলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পড়ুয়াদের উপর, যা ভবিষ্যতে বড়সড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই পড়ুয়াদের স্বার্থে পরীক্ষা না পিছিয়ে যত দ্রুত সম্ভব, তা নিয়ে নেওয়া হোক। টেনশন থেকে মুক্তি পাবে পড়ুয়ারা। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Narendra Modi) একযোগে চিঠি লিখলেন দেশের ১৫০ জন শিক্ষাবিদ।
JEE, NEET নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা শিক্ষাবিদদের এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপকরাও। ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, হিব্রু ইউনিভার্সিটি অফ জেরুজালেম-সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদদেরও একই মতামত। পরীক্ষা পিছনো হলে পড়ুয়ারা বেশি সমস্যায় পড়বে। চিঠিতে তাঁদের বক্তব্য, ”ছাত্রছাত্রীরা দেশের ভবিষ্যৎ। কোভিড মহামারীতে তাদের কেরিয়ারও মেঘাচ্ছন্ন। ভরতি এবং ক্লাস করা নিয়ে এক অনিশ্চয়তা…দ্রুত এর সমাধান করে ফেলা দরকার।” তাই পরীক্ষা যাতে পিছিয়ে না দেওয়া হয়, সেই পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU), বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (BHU), আইআইটি দিল্লির (IIT, Delhi) বিশিষ্ট অধ্যাপকরা। চিঠিতে তাঁরা আরও আস্থা প্রকাশ করেছেন যে করোনা বিধি মেনেই কেন্দ্র পরীক্ষা নেবে এবং প্রত্যেক পরীক্ষার্থী নিরাপদেই পরীক্ষা দিতে পারবে।
[আরও পড়ুন: মোবাইল গেমের আবদারে বিরক্ত! নাবালকের গলা টিপে খুন করল প্রতিবেশী যুবক]
সেপ্টেম্বরে সর্বভারতীয় ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর থেকে কম জলঘোলা হয়নি। বিরোধীরা একযোগে এই সময়ে পরীক্ষা নেওয়ায় আপত্তি তুলছেন। আপত্তি পড়ুয়াদের একাংশেরও। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস এবং কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলি একযোগে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বুধবারের বৈঠকে। কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতাদের প্রতিনিধিদল রাইসিনা হিলসে গিয়ে রাষ্ট্রপতিকেও তাঁদের আপত্তির কথা জানাবেন বলে স্থির হয়েছে। এই বিরোধী আবহের মাঝেই JEE, NEET নিয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ১৫০ শিক্ষাবিদের চিঠি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।