সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দু’বছরের শিশুই বাঁচিয়ে দিল দু’বছরের শিশুর জীবন৷ অবাক হচ্ছেন? কিন্তু এমন অবাক করা কাণ্ডই ঘটেছে চেন্নাইয়ের এক হাসপাতালে৷ বছর দুয়ের শিশুর সফল হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করে চিকিৎসকরা প্রাণ ফিরিয়েছেন এক দু বছরের শিশুর৷ দেশের মধ্যে এমন প্রতিস্থাপনের নজির প্রথম তো বটেই৷ সেইসঙ্গে দু বছরের শিশুটিও বনে গিয়েছে সর্বকনিষ্ঠ অঙ্গদাতা৷
[আরও পড়ুন : ‘বিজেপি যাত্রার চরিত্রের মতো দু’মুখো’, শ্লেষের সুর প্রাক্তন শরিক উপেন্দ্র কুশওয়ার]
তামিলনাডুর ভিল্লুপুরমের বছর দুয়েকের শিশু বিরল রোগ কার্ডিওমায়োপ্যাথিতে আক্রান্ত৷ যে কোনও সময় তার স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল৷ এই অবস্থায় চেন্নাইয়ের এক বিখ্যাত হাসপাতালে ভরতি করানো হয় তাকে৷ দীর্ঘ চিকিৎসা, ওষুধ প্রয়োগের পরও কোনও উন্নতি হচ্ছিল না৷ চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন, হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন ছাড়া উপায় নেই৷ ফলে অঙ্গদাতা পাওয়ার লাইনে নাম লেখাতে হয়৷ ওদিকে, মুম্বইয়ে একই বয়সী শিশু, ফেব্রুয়ারি থেকে যার মস্তিষ্ক বিকল হয়ে গিয়েছে, তার অভিভাবকও সন্তানের অঙ্গে অন্যকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার মতো মহান কাজের ইচ্ছা প্রকাশ করে রেখেছিলেন৷ দাতা-গ্রহীতা পরস্পরকে পেল৷ মিলে গেল রক্তের গ্রুপও৷
এভাবেই মিলে গেল চেন্নাই-মুম্বাই৷ চেন্নাইয়ের হাসপাতালের একদল চিকিৎসক উড়ে যায় মুম্বাইতে৷ সেখান থেকে শিশুর শরীর থেকে হৃদযন্ত্রটি সংগ্রহ করে বিমানে নিয়ে যাওয়া হয় চেন্নাই৷ চিকিৎসকদের অত্যন্ত দক্ষতায় খুব কম সময়ের মধ্যে কাজটি হয়ে যায়৷ চেন্নাই ফিরে শুরু হয় প্রতিস্থাপনের জন্য অস্ত্রোপচার৷ নেতৃত্বে ছিলেন হাসপাতালের ডিরেক্টর কে আর বালাকৃষ্ণণ স্বয়ং৷ সাফল্যের সঙ্গে অস্ত্রোপচারের পর তিনি নিজেই জানান, ‘কাজটি আমাদের কাছে বড়সড় চ্যালেঞ্জের ছিল৷ আমি অত্যন্ত খুশি হয়ে জানাচ্ছি, শিশু চিকিৎসার জগতে আজকের এই সাফল্য একটা মাইলস্টোন হয়ে রইল৷’ নতুন হৃদয় পেয়ে কেমন আছে ভিল্লুপুরমের শিশুটি? তাকে দেখভালের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক সুরেশ রাই জানাচ্ছেন, ‘বাচ্চাটি একেবারে ছোট হওয়ায় আমরা একটু চিন্তায় ছিলাম৷ কিন্তু বয়স এত অল্প বলেই হয়ত, নতুন সিস্টেমের সঙ্গে ওর শরীর খাপ খাইয়ে নিয়েছে৷ ও ভাল আছে৷ তবে এত জটিল একটা অস্ত্রোপচারের একটা প্রভাব তো আছেই৷ আগামী একবছর ওকে পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে৷’
[আরও পড়ুন : প্রথা ভেঙে শরবীমালায় প্রবেশের রেশ কাটেনি, ভোটের কাজেও হেনস্তার মুখে বিন্দু]
চেন্নাইয়ের হাসপাতালের এই খবর ছড়িয়ে পড়তে চিকিৎসা জগতে তো বটেই, আলোড়ন উঠেছে সাধারণ মানুষজনের মধ্যেও৷ চিকিৎসকদের এহেন সাফল্যে তাঁরা বুক বাঁধছেন, ছোট্ট সন্তানের কোনও সমস্যার ক্ষেত্রে জটিল থেকে জটিলতর চিকিৎসার মাধ্যমে নতুন জীবন দান করবেন এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা৷ আর চিকিৎসকরা পুরো কৃতিত্ব দিচ্ছেন সেই মা,বাবাকে, যাঁরা নিজের ২ বছরের সন্তানকে ব্রেন ডেথ অবস্থায় দেখে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মহান সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন৷ তাতেই এক হয়ে গিয়েছে মহারাষ্ট্র-তামিলনাডু৷
সর্বশেষ খবর
-
বৃদ্ধের খাবারে ঘুমের ওষুধের কড়া ডোজ, আলমারি ‘সাফ’ করে গায়েব পরিচারিকা!
-
পরিবর্তনের দুর্গোৎসবে শুধু ‘বড়’ নয়, ‘ছোট’দের পুজোর উদ্বোধনেও মুখ্যমন্ত্রী, তৈরি হচ্ছে তালিকা
-
কলকাতায় বিশ্বকাপারদের হ্যাটট্রিক! ব্রাজিল-উরুগুয়ের পর ফের বিদেশি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত
-
কলকাতার বধূকে চাকরির লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশে পাচার! অবশেষে সীমান্ত পেরিয়ে ফিরলেন মধুমিতা
-
৪ নেতাকে সাসপেন্ড, এক্তিয়ার মনে করিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সভানেত্রীকে শোকজ করল বিজেপি!