২৭ আশ্বিন  ১৪২৬  মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দেশব্যাপী যখন হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে ধর্মীয় ভেদাভেদের ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। ঠিক তখনই কারফিউ অগ্রাহ্য করে গর্ভবতী হিন্দু মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন মুসলিম অটোচালক। ঘটনাটি ঘটেছে অসমের হাইলাকান্দিতে।

দিনকয়েক আগে একটি মসজিদে নমাজ পড়াকালীন পাথর ছোঁড়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে অসমের হাইলাকান্দি। এই ঘটনার জেরে একজনের মৃত্যু হওয়ার পাশাপাশি ১৫ জন জখমও হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ফলে ওই এলাকায় কারফিউ জারি করে জেলা প্রশাসন। এর মাঝেই রবিবার আচমকা প্রসব বেদনা ওঠে হাইলকান্দির রাজেশ্বরপুর গ্রামের বাসিন্দা নন্দিতা দাসের। গোটা এলাকায় কারফিউ জারি হওয়ার ফলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও যানবাহন বা অ্যাম্বুল্যান্স পাচ্ছিলেন না পরিবারের লোকেরা। বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনকে ফোন করলেও সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি কেউ। এদিকে প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে নন্দিতার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হচ্ছিল। এর জেরে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন তাঁর স্বামী রুবন দাস।

[আরও পড়ুন- গান্ধী হত্যাকারী গডসে দেশভক্ত, ফের বিতর্কিত মন্তব্য সাধ্বী প্রজ্ঞার]

রাজেশ্বরপুর ১ নম্বর গ্রাম থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে হাইলাকান্দির এস কে রায় সিভিল হাসপাতালে স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও যানবাহন পাচ্ছিলেন না তিনি। এই অবস্থায় তাঁর রক্ষাকর্তা হিসেবে অবতীর্ণ হন প্রতিবেশী মকবুল হোসেন। রুবনের স্ত্রী শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে দেখে তাড়াতাড়ি নিজের অটোটি বাড়ি থেকে বের করেন তিনি। তারপর রুবন ও নন্দিতাকে নিয়ে হাসপাতালের দিকে রওনা হন।

[আরও পড়ুন- মোদিকে ‘গৃহবধূ’ মন্তব্য নিয়ে সিধুকে ক্লিনচিট কমিশনের]

এপ্রসঙ্গে মকবুল বলেন, “কারফিউ-এর জেরে রাস্তা ফাঁকা ছিল। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাইলাকান্দি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। আসলে হাসপাতালে যেতে যাতে দেরি না হয়ে যায় তার জন্যই এই তাড়াহুড়ো। বিষয়টি নিয়ে টেনশনে থাকলেও রুবন আর নন্দিতাকে উত্তেজিত হতে বারণ করছিলাম। ওদের বলছিলাম সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। তবে নিজে মনে মনে প্রার্থনা করছিলাম।”

রুবনের পরিবারের কথায়, মকবুলের এই সাহায্যই জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছে নন্দিতার। তাঁর জন্যই বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে মা ও সন্তান দুজনেই সুস্থ রয়েছে। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার মধ্যে ওই শিশু জন্ম নেওয়ায় তার নাম শান্তি রেখেছেন রুবন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নতুন নজির গড়ার জন্যই এই নামকরণ বলে জানা গিয়েছে।

হাইলকান্দি সিভিল হাসপাতালের প্রশাসক ভাস্কর দাস এই ঘটনাকে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সৌভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য নজির বলে অভিহিত করেছেন। হাইলাকান্দির জেলাশাসক কেথি জাল্লি বলেন, “এটা জানতে পেরে খুবই ভাল লাগল যে শিশুটির বাবা-মা তার নাম শান্তি রেখেছে। আশা করি তাঁদের এই উদ্যোগ হাইলাকান্দিতে পুনরায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।”

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং