নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: বিজেপির রাজ্য নেতাদের সঙ্গে সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের কয়েক ঘণ্টা বৈঠকের পর বুধবার বিকেলের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে দলের ২৭ জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। এদিন রাতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে সেই তালিকাতেই সিলমোহর দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে ও শাহ-র নেতৃত্বে দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে কমিটির ম্যারাথন বৈঠক হয়। সন্ধে থেকে শুরু হওয়া বৈঠক চলেছে গভীর রাত পর্যন্ত। এদিনের বৈঠকে মূলত পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরপ্রদেশের প্রার্থী তালিকা নিয়েই আলোচনা হয়। সেখানে দুই রাজ্যের অধিকাংশ প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হলেও এদিন রাতে আর তালিকা প্রকাশ করেনি বিজেপি।
[পরিবারতন্ত্র নয়, গণতন্ত্রে আস্থা রাখুন: নরেন্দ্র মোদি]
সূত্রের খবর, রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষকে মেদিনীপুর থেকে প্রার্থী করা হবে। দার্জিলিং আসনে বিদায়ী সাংসদ এস এস আলুওয়ালিয়ার আবার প্রার্থী হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে স্থানীয় কাউকে ওই আসনে প্রার্থী করার জন্য দাবি করা হয়েছিল। সেই বিষয়টি নিয়েও এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তৃণমূলের দুই বহিষ্কৃত সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং অনুপম হাজরা যথাক্রমে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর এবং যাদবপুর থেকে প্রার্থী হতে চলেছেন বলেই সূত্রের দাবি। ঘাটাল থেকে প্রার্থী হচ্ছেন সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রাক্তন আইপিএস ভারতী ঘোষ। আসানসোলে দাঁড়াবেন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। বারাকপুরে দাঁড়াচ্ছেন তৃণমূল থেকে আসা বিধায়ক অর্জুন সিং।
প্রার্থীতালিকা নিয়ে অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছেন বিজেপির রাজ্য নেতারা। এদিন সকালে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের বিষয়ে দিলীপবাবু বলেন, “প্রার্থীর নাম ঘোষণায় দেরি হচ্ছে বলে কোনও সমস্যা হবে না। দলের নেতা কর্মীরা চাঙ্গা রয়েছেন। নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সকলে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বেন।” প্রার্থী তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বেশ কয়েকজনকে জানিয়ে দিয়েছে তাঁদের কোন কেন্দ্রে প্রার্থী করা হচ্ছে। এরপরেই তাঁদের নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে প্রচারের রূপরেখা তৈরির কাজে নেমে পড়ার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
[কাশ্মীরে পাকা ন্যাশনাল কনফারেন্স-কংগ্রেস জোট, আসনজট কাটল বিহারেও]
লোকসভা নির্বাচনের প্রথম ও দ্বিতীয় দফার মনোনয়ন দাখিল পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। অথচ দেশের শাসকদল বিজেপিই এখনও পর্যন্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল না। কেন প্রার্থী তালিকা প্রকাশে দেরি, তা নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। উত্তর ভারতে হোলির পরেই শুভকাজ সম্পন্ন করার রেওয়াজ রয়েছে। হোলির আগের দিন হোলিকা দহনের সময়েই যাবতীয় কুপ্রভাব পুড়ে ছাই হয়ে যায় এই মতই উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে প্রচলিত ধারণা। এবার সেই ধারা মেনেই বিজেপি শুক্রবার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই গতসপ্তাহ থেকে বুধবার পর্যন্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তিনটি বৈঠক হয়েছে। সবগুলিতেই দেশের অন্যান্য রাজ্যের প্রার্থীর নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুক্রবারও আবার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি বৈঠকে বসবে। বৃহস্পতিবার হোলির জন্য দিল্লিতেও সব কাজ বন্ধ থাকবে। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বৈঠকের পরই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসবে।
সর্বশেষ খবর
-
‘স্ট্যান্ডিং কমিটির শীর্ষে কেন বিদ্রোহী সাংসদ?’ কাকলিতে আপত্তি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের
-
কেন কালীঘাট এলাকার একাধিক ব্যক্তির নামে সিম তুলেছিলেন সুমিত? নেপথ্যে বড় লেনদেন! তদন্তে পুলিশ
-
মেসি-ম্যাচে বঞ্চিত দর্শকদের শুভেন্দুর উপহার, উরুগুয়ে ম্যাচে ২২ হাজার টিকিট মিলবে বিনামূল্যে
-
ভারতের লড়াইকে ‘বাহবা’ দিলেন ব্রাজিল কোচ, হেরে খালিদ দুষলেন মনঃসংযোগের অভাবকে
-
‘লেনিন, মার্কস, হো চি মিন, এরা কারা?’ রাস্তার নাম বদল নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী