২৭ আশ্বিন  ১৪২৬  মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: এনডিএ-র নৈশভোজেও এল বাংলার প্রসঙ্গ। সরকার গঠনের তোড়জোড় চালাতে মঙ্গলবার শরিকদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা। সেখানে মোদির সরকারের পাঁচ বছরের সাফল্য নিয়ে একটি প্রস্তাব আনা হয়। সেই প্রস্তাবেই উঠে আসে বাংলার রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ। প্রস্তাবে এক লাইনে নিন্দা করা হয় বাংলা ও কেরলের রাজনৈতিক হিংসার।

সরকার গঠনের তোড়জোড়ের সঙ্গে সঙ্গে বিজেপির অন্দরে চলছে শপথগ্রহণের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াও। আপাতত এই আলোচনাতেই সরগরম দিল্লির রাজনৈতিক মহল। ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার দুপুরে পিএমও-র জনসংযোগ দপ্তরের একটি ফোনকে কেন্দ্র করে। এদিন সেখান থেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ফোন করে সংস্থার কোন প্রতিনিধি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ‘কভার’ করবেন তার জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশপত্র চেয়ে পাঠানো হয়। তারপর থেকেই শপথ গ্রহণের দিনক্ষণ নিয়ে জল্পনা চরমে ওঠে। ২০১৪-র ২৬ মে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। এরপরেই এবারেও সেই একইদিনে তিনি প্রধানমন্ত্রিত্বের শপথ নিতে পারেন বলে সব মহলে আলোচনা শুরু হয়ে যায়। তার আগে ওইদিনই, অর্থাৎ আগামী রবিবার সকালে মোদি বেতারে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান করবেন বলে শোনা গিয়েছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এবিষয়ে কেউই একটি শব্দও খরচ করেননি। সেই সঙ্গে ভোটের ফল প্রকাশের দু’দিন আগেই জোটের ঐক্যবার্তা দিয়ে রাখল বিজেপি।

[ আরও পড়ুন: রেকর্ড গড়ে ফের নিম্নমুখী সেনসেক্স-নিফটি, বাজারে তুঙ্গে জল্পনা]

বুথ ফেরত সমীক্ষায় কেন্দ্রে মোদি সরকারই ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে আভাস মেলার পর থেকেই বিজেপির অন্দরে সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার সেই কাজেই ব্যস্ত ছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। এদিন বিকেলে দলের সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। বিজেপি-সহ শরিক দলের মন্ত্রীরাও সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন। পাঁচ বছর দেশের কাজ করার জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতেই শাহ বৈঠকটি ডেকেছিলেন বলে বিজেপির তরফ জানানো হয়েছিল। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে ‘চায়ে পে চর্চা’ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। রাতে শাহ-র ডাকা এনডিএ-র শরিকদলের নেতাদের নিয়ে দিল্লির একটি পাঁচতারা হোটেলে নৈশভোজেও হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নৈশভোজের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানিত করা হয়। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, শিবসেনার প্রধান উদ্ধব ঠাকরে, শিরোমণি অকালি দলের সুপ্রিমো প্রকাশ সিং বাদল-সহ এনডিএ—র সব শরিক দলের নেতারাই নৈশভোজে হাজির ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন এআইএডিএমকে নেতা ই পালানিস্বামী এবং ও পন্নিরসেলভম, আপনা দলের নেতা অনুপ্রিয়া প্যাটেল এবং রামদাস আতাওয়ালে।

[ আরও পড়ুন: দেশের মধ্যে প্রথমবার স্তন্যদানের ঘর পেতে চলেছে তিনটি প্রত্নতাত্ত্বিক সৌধ ]

এনডিএ শরিক দলের বেশিরভাগ নেতাই এদিন সকালে রাজধানীতে পৌঁছে যান। বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার করা ১৪টি বুথ ফেরত সমীক্ষার মধ্যে ১২টিতেই এনডিএ কেন্দ্রে ক্ষমতায় ফিরতে পারে বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে। সমীক্ষায় দাবি এনডিএ ২৮২ থেকে ৩৬৫ আসন পেয়ে সংখ্যা গরিষ্ঠতায় থাকবে বলে দাবি করা হয়েছে। গড়পড়তা সমীক্ষার হিসাবে এনডিএ পেতে পারে ৩০২-এর আশেপাশে আসন। ষষ্ঠ দফা নির্বাচনের পর বিজেপি সভাপতি অমিতা শাহ দাবি করেছিলেন, এনডিএ ৩০০-র বেশি আসন পাবে। এদিন এনডিএ-র নৈশভোজে একটি প্রস্তাব পাস করানো হয়েছে। গত পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কীভাবে এনডিএ সরকার শক্তিশালী হয়েছে তার উপরেই এই প্রস্তাব পাশ করানো হয়েছে। বৈঠকের পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং শরিক দলের নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ান সাংবাদিক বৈঠক করে প্রস্তাব পাসের কথা জানান। রাজনাথ বলেন, এনডিএ সরকারের কাজে অনেক অসম্ভব সম্ভব হয়েছে । গত পাঁচ বছরে সরকার যে সমস্ত কাজ করেছে তার বিশদ বিবরণ এদিনের প্রস্তাবে তুলে ধরেছেন পাসোয়ান। তাতে মুদ্রা যোজনা থেকে শুরু করে উজালা যোজনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে সরকারের পদক্ষেপ, আর্ন্তজাতিক ক্ষেত্রে দেশকে তুলে ধরা, সন্ত্রাসবাদ রোখা, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছ প্রস্তাবে। পশ্চিমবঙ্গ ও কেরল যে রাজনৈতিক হিংসা হয়েছে তার নিন্দা করা হয়েছে। রাজনাথ জানান, এনডিএ-র ৩৬টি শরিক দলই নৈশভোজে উপস্থিত ছিল। যে দুই দল উপস্থিত থাকেনি, তারাও লিখিত সমর্থন জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং