মুসলিম হওয়ার ‘অপরাধে’ কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে কম্বল বিলি করে ফের তা কেড়ে নিলেন বিজেপি নেতা। প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সুখবীর সিং জৌনাপুরিয়ার সেই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই বিতর্ক চরম আকার নিয়েছে। জানা গিয়েছে, এই ঘটনা রাজস্থানের টঙ্ক এলাকার। নাম ধরে ধরে মুসলিম মহিলাদের চিহ্নিত করে তাঁদের থেকে কেড়ে নেওয়া হয় বিলি করা কম্বল। এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতার স্পষ্ট বক্তব্য, ‘যারা মোদিকে গালি দেন তাঁদের এই কম্বল নেওয়ার কোনও অধিকার নেই।’
সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সুখবীর এক অনুষ্ঠানে কম্বল বিলি করছেন। এক মহিলার হাতে কম্বল তুলে দেওয়ার পর তাঁর নাম জিজ্ঞাসা করেন ওই নেতা। তিনি নাম বলার পর বিজেপি নেতা বুঝতে পারেন মহিলা মুসলিম সম্প্রদায়ের এরপরই সুখবীর এক কর্মীকে কম্বল ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “যারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে গালি দেন তাঁদের কম্বল নেওয়ার কোনও অধিকার নেই। এই পদক্ষেপে কেউ আহত হলে আমার কিছু করার নেই।” এরপর মুসলিম মহিলাদের কম্বল ফেরত দিয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এই ঘটনায় গ্রামবাসীদের তরফে প্রতিবাদ জানানো হলেও নিজের বক্তব্যে অনড় থাকেন বিজেপি নেতা। বলেন, ”আমি আমার নিজের টাকায় কম্বল কিনে বিলি করছি। এটা কোনও সরকারি ফান্ড নয়। ফলে আমার যাকে ইচ্ছা তাঁকেই এগুলো (কম্বল) দেব।” বিজেপি নেতার এহেন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে সভাস্থল থেকে চলে যান সকল মহিলা।
আরও পড়ুন:
‘যারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে গালি দেন তাঁদের কম্বল নেওয়ার কোনও অধিকার নেই। এই পদক্ষেপে কেউ আহত হলে আমার কিছু করার নেই।’
সুখবীরের এহেন আচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাত। ঘটনার ভিডিও এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘রাজস্থানের টঙ্কে বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ সুখবীর সিং কম্বল বিতরণ করছিলেন। সেখানে মুসলিম হওয়ার অপরাধে এক দরিদ্র মহিলাকে অপমান করে তাঁর থেকে কম্বল কেড়ে নিয়েছেন। ঘৃণ্য মানসিকতার এই লোকটির মন ও চিন্তাভাবনা সত্যিই অত্যন্ত নিচ। তাঁর আচরণের প্রতিবাদ করে সাধারণ মানুষ ঠিক কাজ করেছেন। কম্বলটি ওই নেতার মুখে ছুড়ে মারা উচিত ছিল ওনাদের।’
आज टोंक जिले की निवाई विधानसभा के ग्राम करेडा बुजुर्ग में भगवान के मंदिर पर पूर्व सांसद सुखबीर सिंह जौनापुरिया द्वारा मुस्लिम रोजेदार महिलाओं से किया गया व्यवहार न केवल निंदनीय है बल्कि इस देश के सामाजिक ताने बाने को नष्ट करने वाली विघटनकारी सोच का परिणाम है।
गरीब और असहाय… pic.twitter.com/Nhxrp12Wnf— Harish Chandra Meena (@HC_meenaMP) February 22, 2026
এই ঘটনায় বিতর্ক চরম আকার নিতেই মুখ খুলেছেন বিজেপি নেতা সুখবীর। নিজের আচরণের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে ওই নেতা বলেন, “মোদি বিরোধী একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষ তাঁর সম্পর্কে ভিত্তিহীন মন্তব্য করে চলেছেন। কিন্তু এটাও সত্য নয়, যে সমস্ত হিন্দু বিজেপিকে সমর্থন করেন। আমার প্রশ্ন হল, ওই নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষ কি কখনও মোদির সমাবেশে আসবেন?”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
গভীর রাতে আবাসনের সুইমিং পুলে ছাত্রীর দেহ! ‘খুন’ নাকি অন্য কিছু? তদন্তে পুলিশ
-
এবার শত্রুকে ‘অন্ধ’ করে আক্রমণ! ভারতীয় সেনার রণকৌশলে বিরাট বদল
-
সাগরেই লুকিয়ে ইউরেনিয়াম খনি! পরমাণু শক্তি বৃদ্ধিতে চিনের ‘কেমিক্যাল ফাঁদ’, টেক্কা আমেরিকাকে
-
ডেলিভারির আড়ালে বাইক চুরি! সিসিটিভি দেখে বেলঘরিয়ার ‘বান্টি-বাবলি’কে ধরল পুলিশ
-
পুলিশ হেফাজতেই সোমনাথের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার! ফের হাজতে নির্মল ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা