মাইলেজ সমস্যায় জর্জরিত ই-২০ পেট্রল। অভিযোগ উঠেছে, এই পেট্রলের জেরে খারাপ হচ্ছে গাড়ির ইঞ্জিন। দেশজুড়ে চলতে থাকা বিতর্কের মাঝেই এবার এই ইস্যুতে মুখ খুললেন কেন্দ্রের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরণ ও আকাশ পূজারি। পুরনো গাড়ির জন্য ই-১০ পেট্রল ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, দেশে খাদ্য এবং জ্বালানির ভারসাম্য খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
পুরনো দু’চাকার গাড়িগুলির জন্য ই-১০ পেট্রলের পক্ষে সওয়াল করে অনন্ত নাগেশ্বরন বলেন, ভারতে আনুমানিক সাড়ে ৭ থেকে ৮ কোটি ২ চাকার যান রয়েছে। যেগুলি বিএস-৪ মডেলের। এর পুরনো কার্বুরেটর মডেলগুলি ইথানল মিশ্রণে থাকা অতিরিক্ত অক্সিজেনের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বালানির পরিমাণ সমন্বয় করতে পারে না। ফলে ইঞ্জিন কম জ্বালানি পায় এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত গরম হয়। পুরনো গাড়ির রাবার সিলগুলিও ইথানল সহনশীল নয়। দীর্ঘসময় সেগুলি ইথানলের সংস্পর্শে থাকলে নষ্ট হওয়ার সমস্যা রয়েছে। তিনি বলেন, ইথানল নীতিতে এই সমস্যা সমাধানে কম ইথানল মিশ্রিত পেট্রলের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে পাম্পগুলি থেকে কম ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি কার্যত উধাও হয়েছে। তাই সরকারের উচিত ই-২০র পাশাপাশি ই-১০ পেট্রলের যোগান রাখা।
আরও পড়ুন:
ইথানল নীতিতে এই সমস্যা সমাধানে কম ইথানল মিশ্রিত পেট্রলের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে পাম্পগুলি থেকে কম ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি কার্যত উধাও হয়েছে।
তবে দেশজুড়ে ই-২০ পেট্রল নিয়ে যেভাবে ভয় ছড়ানো হচ্ছে সোশাল মিডিয়ায় তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন নাগেশ্বরন। বলেন, দাবি করা হচ্ছে, এটি মাইলেজ কমিয়ে দেয় এবং যন্ত্রাংশের ক্ষতি করে। এই দাবি সম্পূর্ণ ঠিক নয়। এই বিষয়ে বেশকিছু পরীক্ষার কথা উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, এটা ঠিক যে পেট্রলের তুলনায় ই-২০ জ্বালানিতে মাইলেজ কিছুটা কম, কিন্তু তার মানে এটা নয় যে এতে ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে। যেহেতু ই-২০তে ২০শতাংশ ইথানল থাকে, তাই মোট শক্তি ক্ষয় হয় প্রায় ৬ থেকে ৭ শতাংশ। সোশাল মিডিয়ায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষয়ের যে পরিসংখ্যান দেওয়া হচ্ছে, তা সঠিক নয়।
তবে এসবের পাশাপাশি এই প্রতিবেদনে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছেন নাগেশ্বরন। তা হল খাদ্য এবং জ্বালানির দ্বন্দ্ব। নাগেশ্বরনের মতে, ভারত সরকারের উচিত এই বিষয়টি সঠিকভাবে মূল্যায়ণ করা। ই-২০ পেট্রলের বিকল্প, আমদানি কমিয়ে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে এর ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু আসল প্রশ্ন হল, ভুট্টায় পেট্রলের ট্যাঙ্ক ভরবে, নাকি মানুষের পেট? ইঞ্জিন নিয়ে বিতর্কের মাঝে আসল লড়াই হল জমি ও জল নিয়ে। কারণ একবার তা জ্বালানি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলে, খাদ্যের জন্য ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না। বেশি পরিমাণে মিশ্রণের জন্য আরও ইথানল প্রয়োজন, এবং বেশি ইথানলের জন্য আরও কাঁচামাল প্রয়োজন। ভারত আখের পাশাপাশি ভুট্টা, চাল এবং অন্যান্য শস্য থেকেও ইথানল উৎপাদন করে। ইথানলের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই খাতে শস্যের চাহিদা ব্যাপক বাড়বে। দেশে খাদ্য এবং জ্বালানির ভারসাম্য খতিয়ে দেখা উচিত সরকারের।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ফের হানিমুন হরর, ঋতুস্রাব হওয়ায় হোটেলেই নববধূকে বেধড়ক মার! খুনের চেষ্টা স্বামীর
-
স্লিপারের টিকিটে এসিতে, বিবস্ত্র হয়ে আরপিএফ-কে ব্লেড চালিয়ে বিতর্কে অন্তরা! অভিনেত্রী বললেন…
-
‘চুপচাপ ব্যাট করো’, টেস্ট জয়ের আগে স্মিথের চোখে চোখ রেখে কথা বাংলাদেশের লিটনের
-
বেনারসি থেকে পাটোলা, শাড়িপ্রেমী হলে আমলারিতে এই ৫ জিআই-ট্যাগ পাওয়া কাপড় থাকবেই!
-
টাটায় ‘গৃহযুদ্ধ’ তুঙ্গে! সরকারি কর্তাদের সঙ্গে চন্দ্রশেখরন ও নোয়েলের পৃথক বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা