Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Samudra Manthan

সাগরে লুকিয়ে তেল-গ্যাসের বিশাল ভাণ্ডার! সংকটের মাঝে ‘সমুদ্র মন্থনে’ বিপুল বরাদ্দ কেন্দ্রের

পূর্ব ভারতের সমুদ্রে যে বিশাল জ্বালানি তেলের ভাণ্ডার থাকতে পারে বহুবার সেই ইঙ্গিত পেয়েছে কেন্দ্র। তবে নানা জটিলতার জেরে সমুদ্রতলে জরিপের কাজ চালানো যায়নি। তবে সংকটজনক পরিস্থিতি ও আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে এবার কোমর বেঁধে নামল কেন্দ্রীয় সরকার।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১, ২০২৬, ১৮:০০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১, ২০২৬, ১৮:০০

options
link
সাগরে লুকিয়ে তেল-গ্যাসের বিশাল ভাণ্ডার! সংকটের মাঝে ‘সমুদ্র মন্থনে’ বিপুল বরাদ্দ কেন্দ্রের zoom
জ্বালানি স্বনির্ভরতায় 'সমুদ্র মন্থনে' ৮৪ হাজার কোটি বরাদ্দ মোদি সরকারের।
Advertisement

পুরাণে সমুদ্র মন্থন করে অমৃতের ভাণ্ডার পেয়েছিলেন দেবতারা। এবার সেই সমুদ্র মন্থন করে জ্বালানি ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার পথে মোদি সরকার। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে দেশের জ্বালানি ক্ষেত্রের অনিশ্চয়তা কাটাতে শুক্রবার ‘সমুদ্র মন্থন’ (Samudra Manthan)(জাতীয় সামুদ্রিক অনুসন্ধান প্রকল্প)-এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ৮৪,০৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

পূর্ব ভারতের সমুদ্রে যে বিশাল জ্বালানি তেলের ভাণ্ডার থাকতে পারে বহুবার সেই ইঙ্গিত পেয়েছে কেন্দ্র। তবে নানা জটিলতার জেরে সমুদ্রতলে জরিপের কাজ চালানো যায়নি। তবে সংকটজনক পরিস্থিতি ও আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে এবার কোমর বেঁধে নামল কেন্দ্রীয় সরকার। মন্ত্রিসভার তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের অধীনে এই প্রকল্প দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ‘সমুদ্র মন্থন’ প্রকল্পের আওতায় ৬০০ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি তেল মজুত করা হবে। সমুদ্রের গভীরে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাড়বে। আভ্যন্তরীণ তেল ও গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, বাড়বে কর্মসংস্থান। যা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির অধীনে দেশীয় উৎপাদন শিল্পকে শক্তিশালী করবে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ৮৪,০৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

সরকারি নথির বরাত দিয়ে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রের ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ হাইড্রোকার্বনস (ডিজিএইচ) বঙ্গোপসাগরের নিচে লুকিয়ে থাকা তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল ভাণ্ডার অনুসন্ধানে বড় পরিসরে জরিপের কাজ শুরু করবে। পূর্ব উপকূলে চলবে এই জরিপের কাজ। প্রযুক্তিগতভাবে এই প্রকল্পকে বলা হয়, ‘টুডি ব্রডব্যান্ড মেরিন সিসমিক অ্যান্ড গ্র্যাভিটি-ম্যাগনেটিক ডেটা অ্যাকুইজিশন, প্রসেসিং, অ্যান্ড ইন্টারপ্রিটেশন’। সহজ কথায়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সমুদ্রতলের বিশাল ভূগর্ভস্থ স্ক্যান করা হবে। সমুদ্রতল জরিপের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত জাহাজগুলো সমুদ্রের মধ্য দিয়ে স্ট্রিমার নামক লম্বা, তারের মতো যন্ত্র টেনে নিয়ে যাবে। এই যন্ত্রগুলো সমুদ্রতলের নিচে শক্তিশালী শব্দ তরঙ্গ পাঠাবে এবং পাথর থেকে প্রতিফলিত প্রতিধ্বনি রেকর্ড করবে। এই ডেটা ব্যবহার করে, বিজ্ঞানীরা কয়েক কিলোমিটার নিচের সমুদ্রতলের বিস্তারিত চিত্র তৈরি করবেন। সেখান থেকেই জানা যাবে নিচে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের উৎস রয়েছে কি না।

জানা যাচ্ছে, সমুদ্রমন্থনের এই মহাযজ্ঞে বঙ্গ-পূর্ণিয়া ও মহানদীর অববাহিকায় ৪৫০০০ লাইন কিলোমিটার (LKM) পর্যন্ত জরিপ চলবে। এছাড়া আন্দামান অববাহিকায় ৪৩০০০ লাইন কিলোমিটার, কৃষ্ণা-গোদাবরী অববাহিকায় ৪৩০০০ লাইন কিলোমিটার, কাবেরি অববাহিকায় ৩০০০০ লাইন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে জরিপের কাজ চলবে।

বিজ্ঞানীদের অনুমান, দেশের ৫টি উপকূলীয় অঞ্চলে জ্বালানি তেল থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। যেগুলি হল…

  • বঙ্গীয় উপকূলীয় অববাহিকা: এখানে সমুদ্রতলে ১০ কিলোমিটারেরও বেশি পুরু পাললিক স্তর রয়েছে। এটি ইওসিন যুগ থেকে সাম্প্রতিক ভূতাত্ত্বিক যুগ পর্যন্ত হাইড্রোকার্বনের একটি সম্ভাব্য উৎস, যেখানে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্তরে গ্যাসের চিহ্ন শনাক্ত করা হয়েছে।
  • মহানদী অববাহিকা: এই এলাকাটিকে জ্বালানি তেলের উচ্চ সম্ভাবনাময় জায়গা বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। এখানে ক্রেটেশিয়াস থেকে প্লিয়োসিন কাল পর্যন্ত বিস্তৃত গভীর জলাধার এবং বায়োগ্যাস সিস্টেম রয়েছে।
  • আন্দামান অববাহিকা: বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মায়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার গ্যাসক্ষেত্রের সঙ্গে ভূতাত্ত্বিক সাদৃশ্যের কারণে এখানে বিশাল গ্যাসের মজুদ থাকতে পারে। এখানে মিথেন গ্যাসের ভাণ্ডারও রয়েছে, যা ভবিষ্যতের শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
  • কৃষ্ণা-গোদাবরী অববাহিকা: এই অঞ্চল ইতিমধ্যেই ভারতের জ্বালানি গ্যাসের অন্যতম বড় উৎস। তবে নতুন সমীক্ষা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে এর আরও গভীরে বিশাল অনাবিষ্কৃত গ্যাসের মজুদ থাকতে পারে।
  • কাবেরী অববাহিকা: এটিও দেশের বড় একটি জ্বালানি ভাণ্ডার। ভূতাত্ত্বিকরা মনে করেন গভীরতম অংশগুলিতে এখনও অনুসন্ধানের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.