নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: দেশের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে সচল রাখতে ইতিমধ্যেই প্রথম দফার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার। দ্বিতীয় দফার আর্থিক প্যাকেজ নিয়েও সরকারের অন্দরে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে দ্রুত দ্বিতীয় দফার আর্থিক প্যাকেজের মঞ্জুরি মিলতে পারে। তবে আর্থিক প্যাকেজের কথা ঘোষণা করলেও সরকারের ভাঁড়ারেও বর্তমানে টান রয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্র সরকারি কর্মীদের বর্ধিত ডিএ আপাততভাবে একবছরের জন্য, ডিসেম্বর ৩১ পর্যন্ত স্থগিত করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে এমনটাই সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চ মাসে ৪ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র সরকারষ ফলে কেন্দ্র সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বা মহার্ঘ্য ভাতা ১৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২১ শতাংশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আপতত সংকটকালীন পরিস্থিতিতে সেই বর্ধিত ভাতা স্থগিত রাখার কথা ভাবনাচিন্তা করছে কেন্দ্র। মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত ৪৯.২৬ লাখ কেন্দ্র সরকারি কর্মী ও ৬১.১৭ লাখ পেনশনভোগীর উপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
[আরও পড়ুন : লকডাউনের লজ্জা! হাসপাতালে যাওয়ার পথে নাবালিকাকে অপহরণ করে ধর্ষণ]
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি সিসিইএ-র বৈঠক হতে চলেছে বলেই জানা গিয়েছে। যা দ্বিতীয় দফার আর্থিক প্যাকেজের জল্পনাকে আরও ইন্ধন জুগিয়েছে বলেই মত বিশেষজ্ঞমহলের। আর্থিক প্যাকেজে পরিযায়ী শ্রমিকদের এককালীন আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্র সরকার যে পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয় নিয়ে ভাবিত তা সাম্প্রতিকালে কেন্দ্রর তরফ থেকে তাদেরকে নিয়ে জারি করা নির্দেশিকা থেকেই প্রমাণ মিলেছে। রাজ্য সরকারগুলি যাতে পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজ খোঁজার বিষয়ে সহায়তা করে তার জন্য কেন্দ্র তরফ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যগুলি নিজেদের শ্রমিকদের কাজ দেওয়ার পরেই যে তা করতে পারবে। এই সমস্ত বিষয়গুলি মাথায় রেখেই কেন্দ্র সরকার আপাততভাবে যাতে পরিযায়ী শ্রমিকদের অন্ততপক্ষে কিছু এককালীন কিছু আর্থিক সাহায্য দিলে অবশ্যই তাদের খানিকটা সুরাহা হবে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের ত্রাণ শিবিরগুলিতে প্রায় ১৮ লক্ষ পরিয়াযী শ্রমিক আটকে রয়েছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দেশে লকডাউন শুরু হওয়ার আড়াই দিনের মাথাতেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ ১লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন।
[আরও পড়ুন : করোনা চিকিৎসায় বেনিয়মের অভিযোগ, উদ্ধবকে চিঠি ফড়ণবিসের]
লকডাউনের ফলে দেশের অর্থনীতি যে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেকথা মাথায় রেখে কেন্দ্র সরকার তাকে সচল রাখতে একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। যার মধ্যে লকডাউন চলাকালীন সময়েও কয়েকটি ক্ষেত্রে কাজের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি রিজার্ভ ব্যাঙ্কও ছোটো ও মাঝারি শিল্পগুলির জন্য প্যাকেজ এবং রাজ্যগুলিকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধার ব্যবস্থাও করেছে। তবে একাধিক আর্থিক প্যাকেজ দিতে গিয়ে কেন্দ্রে ভাঁড়ারে টান পড়ছে। আর্থিক জোগান সচল রাখতে বর্ধিত ডিএ আপাতত স্থগিত রাখার পথে হাঁটতে পারে কেন্দ্র সরকার।
সর্বশেষ খবর
-
‘চুপ থাকব না শেষ দেখে ছাড়ব’, বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় স্বামী-শ্বশুরের জোড়া আইনি নোটিসকে চ্যালেঞ্জ সেলিনার
-
৩০০ টাকা রোজ মাইনের চাকুরে থেকে কোটিপতি, উল্কাগতিতে উত্থান সুরেন্দ্রনাথ কলেজ কাণ্ডে ধৃত পরিতোষের
-
তোলাবাজি থেকে যৌনহেনস্তা! ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতে স্বরূপ বিশ্বাস, এজলাসে তুমুল হই হট্টগোল
-
কালীঘাটের বৈঠকে সেই ‘আদি’রাই, এলেন না ‘বিদ্রোহীরা’, দল বাঁচাতে পারবেন মমতা?
-
বিধানসভার পর ভাঙছে তৃণমূলের সংসদীয় দলও! প্রতীক-তহবিল কি হাতছাড়া হবে মমতার? জানুন নিয়ম