সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এবারের লোকসভা নির্বাচনে যে জাতিগত জনগণনাকে ইস্যু করেই এগোতে চাইছে হাত শিবির, তা আবারও পরিষ্কার হয়ে গেল শুক্রবার। এদিন সন্ধ্যায় লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময়ও হাত শিবিরের (Congress) মুখে শোনা গেল জাতিগত জনগণনার কথা। তারা ক্ষমতায় এলে যে জাতগণনা হবেই তা জানিয়ে দেওয়া হল। এমএসপির আইনি গ্যারান্টি ও যুব ন্যায়ের মতো প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি এই বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আগেই প্রশ্ন উঠেছে বিজেপির হিন্দুত্ব ইস্যুর মোকাবিলা তাহলে জাতপাতের ফ্যাক্টর দিয়েই করতে চাইছে কংগ্রেস? যা জোরালো হল এদিন। বলা যায়, পরিষ্কার হয়ে গেল।
এদিনের ঘোষিত তালিকাতেও রয়েছে সেই ইঙ্গিত। এদিন যে ৩৯ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ২৪ জন তপসিলি জাতি, উপজাতি ও ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত। বাকিরা জেনারেল। এই হিসেবও কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সাম্প্রতিক কালে রাহুল গান্ধীর মুখেও কিন্তু জাতগণনার প্রতিশ্রুতির দিকটাই উঠে এসেছে। বার বার তিনি দাবি করেছেন, দল ক্ষমতায় এলে অবশ্যই দেশজুড়ে জাতিগত জনগণনা হবে। কেবল তাই নয়, নীতীশ কুমার ইন্ডিয়া জোট ছাড়ার কারণও এই জাতগণনাই এমন খোঁচাও মারতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। আবার অখিলেশের মতো জোটসঙ্গী এই নিয়ে কংগ্রেসকে কটাক্ষও করেছে। সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো জানিয়েছিলেন, ”যখন লোকসভায় সব দলই জাতিগত জনগণনার দাবি তুলেছিল, ওরা তা করেনি। আজ কেন তাহলে ওরা এটা চাইছে? কারণ ওরা জানে ওদের চিরাচরিত ভোট ব্যাঙ্ক ওদের সঙ্গে আর নেই। দলিত, আদিবাসী-সহ সমস্ত অনগ্রসর শ্রেণির মানুষই জানেন ওরা (কংগ্রেস) কীভাবে ওঁদের সঙ্গে স্বাধীনতার পর থেকেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”
[আরও পড়ুন: রাষ্ট্রের সমালোচনা মানেই অপরাধ নয়, প্রশাসনকে বাক স্বাধীনতা মনে করাল সুপ্রিম কোর্ট]
বছরের গোড়ায় উদ্বোধন হয়েছে রামমন্দিরের। অযোধ্যার সেই মহা উৎসবের প্রধান মুখই ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi)। তার পর থেকেই আরও জোরালো হয়েছে বিজেপির হিন্দুত্বের (Hindutva) হাওয়া। এই ইস্যুকেই লোকসভা নির্বাচনে প্রধান অস্ত্র করতে চাইছে পদ্ম শিবির। আর তার মোকাবিলায় হাত শিবির যে জাতগণনাকে ইস্যু করতে চাইছে তা এদিন ফের পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। শেষপর্যন্ত তা হাত শিবিরকে ভোটে কতটা সাহায্য করবে কিংবা আদৌ সাহায্য করবে কিনা তা অবশ্য সময়ই বলবে।
এদিকে এই মুহূর্তের এক জ্বলন্ত ইস্যু কৃষক বিক্ষোভ। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি স্বীকৃতির দাবিতে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকরা আন্দোলনে নেমেছেন। এই কৃষক-ক্ষোভকে মাথায় রেখেই এদিন এমএসপির উপরেও জোর দিয়েছে কংগ্রেস।