Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
চাঁদ মহম্মদ দিল্লি

লকডাউনে বন্ধ রোজগার, সংসার টানতে করোনায় মৃতদের দাহ করছে স্কুলপড়ুয়া

নমাজ পড়ে রোজ কাজে যায় সে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১৯, ২০২০, ২২:৫৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১৯, ২০২০, ২২:৫৮

options
link
লকডাউনে বন্ধ রোজগার, সংসার টানতে করোনায় মৃতদের দাহ করছে স্কুলপড়ুয়া zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সংসারে অর্থাভাব। পেটের দায়ে করোনা রোগীদের মৃতদেহ দাহ করতে হচ্ছে স্কুলপড়ুয়াকে। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র চাঁদ মহম্মদ। স্কুলে নামটা লেখানো আছে বটে, কিন্তু পড়াশোনার খরচ যোগাতে নাজেহাল এই কিশোর। এই করোনা আবহে মানুষের কষ্ট তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছে। তাই ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নও দেখে সে। কিন্তু ঘিঞ্জি বসতির ঘরে ডাক্তার হওয়ার আশা তাঁর কাছে ছেঁড়া কাথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখার মতোই ঠেকে।

এইটুকু বয়সে তাঁর কাঁধে দায়িত্বও কম নয় নেহাত! মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগানো, চাঁদের তিন বোন স্কুলে পড়ে। তাদের স্কুল ফি। উপরন্তু নিজের পড়াশোনার খরচ যোগানো। পুরো সংসারের দায়িত্বটাই চাঁদ মহম্মদের কাঁধে। এই বয়সে এত দায়িত্ব সামলানোটা কি চারটিখানি কথা! এই করোনা আবহে লকডাউনের জন্য রোজগারের সব পথ বন্ধ। উপরন্তু স্কুলও বন্ধ। তাই পেটের দায়ে সংসার টানতে করোনায় মৃতদের দাহ করতে হচ্ছে তাঁকে। নমাজ পড়ে রোজ কাজে যায় সে। এমন বিপজ্জনক কাজের পারিশ্রমিক শুনলে অবাক হবেন আপনিও! মাসে মাত্র ১৭ হাজার টাকা। তবে অভাবের সংসারে বড় হওয়া চাঁদের কাছে সেটাই তো অনেক। খেয়ে-পড়ে, মায়ের চিকিৎসার খরচ দিয়ে, বোনদের পড়িয়ে কোনও মতে চলে যায়।

Advertisement

[আরও পড়ুন: ছ’মাস পরও চার্জশিট দিতে ব্যর্থ পুলিশ, জামিন পেল জঙ্গিযোগে গ্রেপ্তার DSP দাভিন্দর]

স্কুল পড়ুয়ার বাড়ি উত্তরপূর্ব দিল্লির (Delhi) সিলামপুরে। চাঁদের স্বপ্ন ডাক্তার হবেন। কিন্তু স্বপ্ন বললেই তো আর হয় না! বাড়িতে নিত্য অভাবের সঙ্গে সঙ্গী রোগভোগ। মা থাইরয়েডের রোগী। দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যায় ভুগছেন। এদিকে নিয়মিত চিকিৎসা করানোর দরকার থাকলেও উপায় নেই! পরিবারের আয় বলতে ছিল একমাত্র দাদার রোজগার। একটি দোকানে কাজ করতেন চাঁদের দাদা। কিন্তু সেই কাজটাও হাতছাড়া হয়েছে লকডাউনের জেরে। এইভাবেই কোনও মতে কাটছিল সিলামপুরের দুস্থ পরিবারটির দিন। লকডাউনের সময়ে দুই ভাইয়ের খুচরো কিছু আয় ছাড়া ভরসা বলতে ছিল শুধুমাত্র প্রতিবেশীদের সাহায্য।

লকডাউনের আর বাকি দিন চলবে কী করে? চিন্তায় চাঁদ মহম্মদের পরিবারের সকলের কপালে ভাঁজ পড়ে যায়! ঠিক এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতেই একটি কাজের সুযোগ এসে যায়। দিল্লির লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে (Jay Prakash Lok Narayan Hospital) ঝাড়ুদারের কাজ পেয়েছিল চাঁদ। দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিফট। তখনই করোনা আক্রান্ত মৃতদের দেহ নিয়ে নাড়াচাড়া করতে হত। এরপরই জুটল সৎকারের কাজ। পিপিই কিট পড়ে নেমে পড়ল চাঁদ রণক্ষেত্রে। যে কিনা ভবিষ্যতে ডাক্তারি পড়ুয়া হওয়ার স্বপ্ন দেখে তাঁকে এখন করোনা (COVID-19) সংক্রমিত ব্যক্তিদের মৃতদেহ পোড়াতে হচ্ছে।

[আরও পড়ুন: সুশান্তের মৃত্যু মেনে নিতে পারেনি, সুইসাইড নোট লিখে আত্মঘাতী আরও এক অনুরাগী]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.