সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মহামারীকে হারাতে ভারতে শুরু হল টিকাকরণ প্রক্রিয়া। এর মাঝেও স্বদেশি টিকা কোভ্যাক্সিনের (CoVaxin) কার্যকারিতা নিয়ে আতঙ্ক রয়েই গেল। আর এই আতঙ্কের জেরে কোভ্যাক্সিন নিতে অস্বীকার করলেন দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। কোভিড যোদ্ধাদের সাফ কথা, ট্রায়াল শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোভ্যাক্সিন তাঁরা নেবেন না। টিকা হিসেবে কোভিশিল্ড-ই (Covishield) তাঁদের প্রথম পছন্দ।
এ বিষয়ে সুপারকে চিঠিও দিয়েছেন দিল্লির ওই হাসপাতালের রেসিডেন্ট চিকিৎসকরা। চিঠিতে জানিয়েছেন, ট্রায়াল প্রক্রিয়া শেষ করার পরই কোভ্যাক্সিন নেবেন তাঁরা। আপাতত কোভিশিল্ড-ই দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। জানা গিয়েছে, আতঙ্কে অনেক চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী টিকাকরণ প্রক্রিয়ায় অংশই নিচ্ছেন না। ভ্যাকসিন নেওয়ার তালিকায় নাম-ই লেখাননি বহু চিকিৎসক। এ প্রসঙ্গে নীতি আয়োগের সদস্য ভি কে পল জানান, “কোভ্যাক্সিন সম্পূর্ণ নিরাপদ। চিকিৎসকদের সরকারের উপর ভরসা রাখা উচিৎ।”

[আরও পড়ুন : ‘করোনার শেষের শুরু’, দেশজুড়ে টিকাকরণ প্রক্রিয়ার সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি]
এদিন কোভ্যাক্সিন নিয়ে এই আতঙ্ক বাড়িয়েছে আরও একটি ঘটনা। ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন টিকা নেওয়ার একটি ‘কনসেন্ট ফর্মে’ স্বাক্ষর করতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, কোভিশিল্ড টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনও ফর্মে স্বাক্ষর করতে হচ্ছে না। ফলে বিশ্বের বৃহত্তম টিকাকরণ প্রক্রিয়া শুরুর দিনও স্বদেশি ভ্যাকসিনের সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেল।

কোভ্যাক্সিনের কনসেন্ট ফর্মে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলা হয়্ছে। উল্লেখ করা হয়েছে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর কারোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তাঁকে সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো হবে। ভ্যাকসিন নেওয়ার কারণে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণে দেওয়া হবে।
যদিও এই স্বদেশি টিকার কার্যকারিতা ও সুরক্ষা নিয়ে এদিনও সুনিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। তিনি জানিয়েছেন, “দুটি টিকার মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। কোভ্যাক্সিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। প্রচুর পরীক্ষা-নীরিক্ষা করেই বিশেষজ্ঞ কমিটি কোভ্যাক্সিনকে ছাড়পত্র দিয়েছে।”
[আরও পড়ুন : টিকাকরণ শুরুর দিনই দেশের করোনা পরিসংখ্যানে স্বস্তি, অনেকটা কমল দৈনিক মৃতের সংখ্যা]
এইটুকু বিপত্তি বাদ দিলে এখনও পর্যন্ত সারাদেশে নির্বিঘ্নেই চলছে টিকাকরণ প্রক্রিয়া। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশে, উত্তরাখণ্ডের মতো একাধিক রাজ্যে টিকাকরণ শিবিরে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীরা। প্রথমদিনই ভ্যাকিসন নিয়েছেন সেরাম ইনস্টিটিউটের ভারতীয় শাখার প্রধান আদর পুনাওয়ালাও। তবে এদিন গোল বাঁধে কো-উইন অ্যাপ নিয়েও। বাংলায় টিকাকরণের প্রথমদিন এই অ্যাপে কোনও নথি আপডেট করা যায়নি। বরং খাতায়-কলমে তথ্য রাখা হয়েছে। সবমিলিয়ে কোভিড টিকাকরণের প্রথমদিন একটু হলেও অস্বস্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার।
সর্বশেষ খবর
-
সার্কিট হাউসে মহুয়াকে ঘর ছাড়তে ‘চাপ’, বাইরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান! উত্তেজনা কৃষ্ণনগরে
-
স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণপত্রে ছত্তিশগড়-মধ্যপ্রদেশের কারুকাজ, মাওবাদীমুক্ত রাজ্যের শিল্পচর্চায় জোর
-
স্বাধীনতা দিবসের রাতে ৭টি গাড়িতে মাংস পাচার! পুলিশি অভিযানে খড়্গপুরে গ্রেপ্তার ১৮
-
এই প্রথম! স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডের নিরাপত্তায় পুলিশের সঙ্গী কেন্দ্রীয় বাহিনী
-
টুলুর কারবারের সঙ্গে যোগ? বীরভূমের ভূমি দপ্তরের হেড ক্লার্কের বাড়িতে পুলিশি হানা