সংবাদ প্রতিদি ডিজিটাল ডেস্ক : CAA ও NRC বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়েছে রাজধানী দিল্লি। দু’সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা সেই অশান্তির দায় বিরোধীদের ঘাড়ে চাপালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার দুপুরে দিল্লির এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই ইস্যুতে কংগ্রেস ও আন্দোলনকারীদের তুলোধনা করেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, “দিল্লির ‘টুকরে-টুকরে’ গ্যাংয়ের একটা শিক্ষা হওয়া উচিত। দিল্লির মানুষই তাঁদের সেই শিক্ষা দেবেন।”
#WATCH Home Minister Amit Shah: Congress party ke netritva me tukde-tukde gang jo Dilli ke ashanti ke liye zimmedar hai, isko dand dene ka samay aa gya hai. Dilli ki janata ne dand dena chahiye. pic.twitter.com/3qJKEHlE9h
Advertisement— ANI (@ANI) December 26, 2019
নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল সংসদে ওঠার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পরই সেই বিল আইনে পরিণত হয়েছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রতিবাদের ঝাঁজও। পড়ুয়া থেকে বর্ষীয়ান নাগরিক, খেটে খাওয়া মজদুর থেকে রূপালি পর্দার তারকা-একসঙ্গে সকলে পথে নেমেছেন। বির্তকিত আইন প্রত্যাহারে দাবিতে গলা মিলিয়েছেন সকলেই। তবে সেই প্রতিবাদী স্বর রোধ করতে পুলিশ-প্রশাসনও আগ্রাসী হয়েছে বলে অভিযোগ। আন্দোলনে নেমে গোটা দেশে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২৬ জন। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আক্রান্ত হয়েছে পড়ুয়ারাও। তাও প্রতিবাদ চলছে। বিক্ষুব্ধ জনতার অভিযোগ, ধর্মের উপর ভিত্তি করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভেদাভেদের চেষ্টা চলছে। দেশের ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক চরিত্র বদলের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। বিক্ষোভে আঁচে জ্বলেছে রাজধানী দিল্লিও। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও আন্দোলন চলছে। সেই অশান্তি রুখতে দিল্লি পুলিশের ঘুম ছুটেছিল।
[আরও পড়ুন : স্বৈরাচারী! কিরণ বেদিকে উপরাজ্যপাল পদ থেকে সরাতে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রী]
এদিন সেই আন্দোলন প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দিল্লির হিংসায় বিরোধীদের উসকানি আছে। তারাই জনগণকে ভুলপথে চালিয়েছে। দিল্লির টুকরে-টুকরে গ্যাংয়ের একটা শিক্ষা হওয়া উচিত।’ প্রসঙ্গত, ‘টুকরে-টুকরে ‘শব্দটি ডানপন্থী শিবিরের একটা অস্ত্র, যা তারা বিরোধীদের আক্রমণ করতে ব্যবহার করে। বিরোধীদের নিশানা করে এদিন অমিত শাহ বলেন, “সংসদে যখন নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে বিতর্ক হচ্ছিল, সেইসময় কেউ কিছু বললেন না। সংসদ থেকে বেরিয়ে মানুষকে ভুল বোঝাতে শুরু করে দিলেন।”
[আরও পড়ুন : জেজেপিতে বড়সড় ভাঙন, এবার সংকটে হরিয়ানার বিজেপি সরকার!]
প্রসঙ্গত, রবিবার দিল্লিতে নির্বাচনী প্রচারে এসে কংগ্রেস ও শহুরে নক্সালদের নিশানা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তাঁর অভিযোগ ছিল, “কংগ্রেস ও শহুরে নক্সালরা মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে।”এদিন সেই একই সুর শোনা গেল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গলাতেও।