সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ইতিহাসে প্রথমবার, পুরীতে জগন্নাথ দেবের রথ টানবে হাতি! সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে রাজ্য প্রশাসনের কাছে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। তবে রাজ্য সরকার সেই প্রস্তাবে মান্যতা দেবেন কিনা তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
করোনার জেরে জেরবার বিশ্ব। তাই আগে থেকেই রথযাত্রায় (Rathyatra) পুরীতে ভক্তদের প্রবেশে নিষেধজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কেবলমাত্র নিয়ম বহাল রাখতেই কোনক্রমে অনুষ্ঠিত হবে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। ফলে ভক্তদের থেকে ভগবানকে দূরে রাখলেও রথ টানবে কে? এই প্রশ্ন ভাবিয়ে তুলেছিল মন্দির কর্তৃপক্ষকে। তাই মুশকিল আসানে ওড়িশা হাই কোর্ট রাজ্য সরকারের কাছ প্রস্তাব পেশ করে যে, পুরীতে এই বছর রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হলে কোনও যন্ত্র বা হাতিদের দিয়ে টানার ব্যবস্থা করতে হবে। দুটি জনস্বার্থ আবেদনের উপর রায় দিতে গিয়ে শনিবার এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন ওড়িশা হাই কোর্টের বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ। তবে রাজ্য সরকার এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
[আরও পড়ুন:ফের কড়া লকডাউনের পথে দেশ! কী চাইছে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত রাজ্যগুলি?]
আগামী ২৩ জুন রথযাত্রা। উলটো রথ অনুষ্ঠিত হবে ১ জুলাই। কারফিউ (Cerfew) জারি করেও স্নানযাত্রায় সময় কিছুক্ষণের জন্য ভিড় করে ফেলেছিলেন মন্দিরের সেবাইতরা। তবে রথযাত্রার দিন মন্দিরের নিয়ম আরও কড়া হাতে পালন করা হবে বলে জানানো হয়। পুরীর মন্দির অঞ্চল জুড়ে জারি থাকবে ১৪৪ ধারা। ভক্তদের বাদ দিলে সেদিন কারা জগন্নাথ দেবের রথ টেনে নিয়ে যাবেন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দফায় দফায় বৈঠক করা হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, ৫ হাজার সেবাইতরাই জগন্নাথ দেবের রথ টানবে। ২৩ জুন সকাল ১১ টা থেকে দুপুর বারোটার মধ্যে মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেবে জগন্নাথ দেবের রথ।
[আরও পড়ুন:পতঞ্জলির ওষুধ খেলে ৫ থেকে ১৪ দিনে সুস্থ হবে করোনা রোগী! দাবি আচার্য বালকৃষ্ণের]
প্রভু জগন্নাথ দেবের মন্দির থেকে মাসির বাড়ি পর্যন্ত অঞ্চল জুড়ে বলবৎ থাকবে ১৪৪ ধারা। আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন থাকবে ওই অঞ্চলে। মন্দিরের মুখ্য দ্বৈতাপতি রাজেশ দ্বৈতাপতি জানান, “প্রতিবার প্রভু জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয় পুরীতে। এবারের পরিস্থিতি অন্যরকম, একেবারে নতুন। রথযাত্রায় সামিল হতে পারবেন শুধুমাত্র সেবাইতরা। তিনটি হাতি রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ১৬ জুন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মন্দির সোসাইটির সদস্যরা।”ইতিমধ্যেই পর্যটকদের কথা ভেবে পুরীর সমুদ্র সৈকতে হোটেল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পর্যটকরা তিন দিনের বেশি হোটেলে থাকতে পারবেন না। এমনকি রথযাত্রার দিন পর্যটকরা আসতে পারবেন না পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দির চত্বরে, বলেও জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
সর্বশেষ খবর
-
সাগরেই লুকিয়ে ইউরেনিয়াম খনি! পরমাণু শক্তি বৃদ্ধিতে চিনের ‘কেমিক্যাল ফাঁদ’, টেক্কা আমেরিকাকে
-
ডেলিভারির আড়ালে বাইক চুরি! সিসিটিভি দেখে বেলঘরিয়ার ‘বান্টি-বাবলি’কে ধরল পুলিশ
-
পুলিশ হেফাজতেই সোমনাথের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার! ফের হাজতে নির্মল ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা
-
‘ট্রিপল ইঞ্জিনেও বিপর্যয়’, দিল্লিতে বাড়ি ভাঙার ঘটনায় ‘দায়বদ্ধতা’ নিয়ে প্রশ্ন রাহুলের
-
মুসলিম হয়েও দোকানের নামে হিন্দুত্বের ছোঁয়া! মালিকের ধর্ম পরিচয় লেখার ‘নিদান’ সনাতন জাগরণ মঞ্চর