২৮ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০ 

Advertisement

রাতভর সংসদ চত্বরে ধরনায় ৮ সাংসদ, সকালে চা আনলেন খোদ রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান

Published by: Subhajit Mandal |    Posted: September 22, 2020 8:59 am|    Updated: September 22, 2020 9:00 am

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘জোর করে’ কৃষি বিল পাশ (Farm Bill 2020), এবং ‘বেআইনিভাবে’ সাসপেন্ড করার অভিযোগে রাতভর সংসদের গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ধরনায় রাজ্যসভার (Rajya Sabha) আট সাংসদ। গণতন্ত্রের পীঠস্থান সংসদের ‘মর্যাদা লঙ্ঘনের’ অভিযোগে গতকালই এদের ৭ দিনের জন্য সাসপেন্ড করেন চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নায়ডু। যার প্রতিবাদে কাল দুপুরেই গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ধরনায় বসেন বিরোধী সাংসদরা। দিনভর চলে স্লোগান দেওয়া, গান গাওয়া। সংসদীয় রাজনীতিতে এ ছবি নতুন কিছু নয়। সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গান্ধী মূর্তির নিচে বিক্ষোভ এবং ধরনা, দুটোই বহুবার করতে দেখা গিয়েছে বিরোধীদের। কিন্তু রাতভর এভাবে ধরনায় বসে থাকা, বা গান্ধীমূর্তির পাদদেশে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো এক কথায় বেনজির।

উল্লেখ্য, রবিবার রাজ্যসভায় দুটি কৃষি বিল পাশ করানো নিয়ে তুলকালাম হয়। কৃষি বিল নিয়ে বিতর্কের জেরে কংগ্রেস সাংসদ রিপুন বোরা, তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O’Brien), আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং ও ডিএমকে সাংসদ ত্রিরুচি শিবা ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশের পোডিয়ামের মাইক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। এমনকী, তাঁরা রুলবুক, কাগজপত্রও ছিঁড়ে দেন বলে অভিযোগ। তারপরই মোট আট সাংসদকে সাত দিনের জন্য সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নায়ডু। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের এই সিদ্ধান্ত পক্ষপাতদুষ্ট। এর প্রতিবাদে কালই ধরনায় বসে যান, ডেরেক, সঞ্জয় সিং, রাজু সাতাব, কে কে রাগেশ, রিপুন বোরা, দোলা সেন, সৈয়দ নাজির হুসেন এবং এলামারান করিম। এবং বেনজিরভাবে সেই ধরনা চলে রাতভর। এখনও গান্ধীমূর্তির পাদদেশেই বসে আছেন সাংসদরা।

[আরও পড়ুন: ‘প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশেই সংসদ চলছে’, রাজ্যসভায় অধীরের ঝাঁজালো আক্রমণ]

চমকপ্রদ বিষয় হল, যার বিরুদ্ধে বিরোধী সাংসদদের মূল অভিযোগ সেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং আজ সকালে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন। শুধু দেখা করতে গিয়েছেন বললে ভুল হবে সৌজন্য দেখিয়ে তিনি নিজের হাতে চা এনে খাইয়েছেন ওই সাংসদদের। অনেকে বলছেন, যার বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে পদানত করার অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিজে বিরোধী সাংসদদের সঙ্গে দেখা করে বেনজির সৌজন্যের পরিচয় দিলেন। যা নিঃসন্দেহে গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ। শাসক-বিরোধী সৌজন্যের এই নিদর্শন সংসদের অন্দরেও দেখা যাওয়া উচিত। 

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement