২২ আষাঢ়  ১৪২৭  মঙ্গলবার ৭ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

হোমিওপ্যাথিতেই মুশকিল আসান, আগ্রার নৈমিনাথ কলেজে রোগমুক্তি ২২ করোনা আক্রান্তের

Published by: Subhamay Mandal |    Posted: June 2, 2020 10:06 pm|    Updated: June 2, 2020 10:06 pm

An Images

কলহার মুখোপাধ্যায়: যদিও গরিবের বন্ধু বটে। তবে অধিকাংশই তাকে একটু তফাতেই রাখে। চিকিৎসা দুনিয়ায় দুয়োরানি আখ্যা পাওয়া সেই হোমিওপ্যাথি কিন্তু কামাল দেখাল। করোনার চিকিৎসা নিয়ে বিশ্বজোড়া এই কিংকর্তব্যবিমূঢ় সময় আগ্রার নৈমিনাথ কলেজে ২২ জন COVID-19 আক্রান্তের চিকিৎসা চলছিল। তাদের প্রত্যেকেই এখন রোগমুক্তির পথে। যদিও এই চিকিৎসা এখন পরীক্ষামূলক স্তরে রয়েছে। তবুও বলা যায় এর সাকসেস রেট এই মুহূর্তে ১০০ শতাংশ। এই চিকিৎসায় শেষ পর্যন্ত কার্যকরী হল হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্রায়োনিয়া আলবা।

আগ্রার নৈমিনাথ কলেজের অধ্যক্ষ ডাক্তার প্রদীপ গুপ্ত বলেছেন, ‘২২ জনের উপর ব্রায়োনিয়া আলবা প্রয়োগ করা হয়েছিল। চিকিৎসা শুরুর দিন কয়েকের মধ্যে তাদের কোভিড ১৯ টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।’ প্রসঙ্গত এই কলেজকে করোনা চিকিৎসা করতে অনুমতি দিয়েছিল আয়ুশ মন্ত্রক। এখনও পর্যন্ত ২২ জন সুস্থ হলেও আরও ৭৮ জন আক্রান্তের ওপর ওষুধ প্রয়োগ করে তার রিপোর্ট আইসিএমআরকে পাঠাতে হবে। তারপর এই চিকিৎসা এবং ওষুধ সরকারিভাবে স্বীকৃতি পাবে। তাই আপাতত এটি গবেষণা স্তরে রয়েছে বলে জানিয়েছে নৈমিনাথ কলেজ কতৃপক্ষ।

[আরও পড়ুন: এই ওষুধেই সুস্থ হচ্ছেন করোনা রোগীরা, ‘রেমডেসিভির’ ব্যবহারের অনুমতি দিল ভারত]

কোন ওষুধে মুক্তি ঘটবে করোনার, কোনটির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিপদে ফেলবে না আক্রান্তকে, তা নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে বিতর্ক চলছিল চিকিৎসক মহলে। শেষ পর্যন্ত আর্সেনিকা অ্যালবাম, জেলসিয়াম ইত্যাদি ওষুধকে পরাস্ত করে দৌড়ে এগিয়ে যায় ব্রায়োনিয়া আলবা। ভারতবর্ষের মতো ক্রান্তীয় অঞ্চলের আবহাওয়া এই ওষুধ কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছে বলে মত চিকিৎসকদের। এই ওষুধের প্রয়োগেই রোগ মুক্তি ঘটেছে ২২ জন করোনা আক্রান্তের। করোনা চিকিৎসায় ব্রায়োনিয়ার কার্যকারিতা প্রকাশ্যে আসায় চিকিৎসক মহলে এই ওষুধ-সহ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ব্যাপক প্রয়োগের দাবি উঠছে।

কলকাতার ডিএন হোমিওপ্যাথি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ এবং বর্তমানে নাগপুরের অন্তর ভারতী হোমিওপ্যাথিক কলেজের এমিরেটাস প্রফেসর ডাক্তার অখিলেশ খাঁ বলেছেন , ”করোনা চিকিৎসা নিয়ে গোটা বিশ্বে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। সঠিক চিকিৎসা নেই। সেখানে হোমিওপ্যাথিতে রোগমুক্তি ঘটল। এই চিকিৎসা সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। আমরা সরকারের কাছে সেই আবেদন জানাব।” তিনি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতের বেশ কয়েকটি কলেজ করোনা রোগের চিকিৎসার গবেষণার ছাড়পত্রের জন্য প্রজেক্ট জমা দিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কাছে। চিকিৎসকদের দাবি, আইসিএমআর এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা সিসিআরএইচ করোনা চিকিৎসার এবং গবেষণার পরিকল্পনা করুক যৌথভাবে।

[আরও পড়ুন: হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ‘হাই ডোজ’ কমায় করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা’, দাবি ICMR-এর সমীক্ষায়]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement