BREAKING NEWS

১৭ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২৭  রবিবার ৩১ মে ২০২০ 

Advertisement

রেলের মানবিক উদ্যোগ, ভবঘুরেদের খাবার দিতে এবার স্টেশনে ফ্রিজ

Published by: Sandipta Bhanja |    Posted: August 23, 2019 10:18 am|    Updated: August 23, 2019 10:19 am

An Images

সুব্রত বিশ্বাস: খাবার নষ্ট নয়! বেঁচে যাওয়া খাবার এবার দরিদ্র মানুষজনের মুখে তুলে দেওয়ার জন্য অভিনব পদ্ধতি নিল রেল। স্টেশনে রাখা হবে ‘পাবলিক ফ্রিজ’। যাতে বাড়তি খাবার যাত্রীরা ফেলে না দিয়ে সযত্নে তা রেখে দিতে পারেন সেই ফ্রিজে। শুধু যাত্রীরাই নয়, স্টেশনের ফুডপ্লাজা, জনআহার ও ভেন্ডিং স্টলগুলিও তাদের বেঁচে যাওয়া খাবার রেখে আসবে সেই ফ্রিজে। আস্তাকুঁড়ে নয়, সেই ফ্রিজে রাখা খাবারই যাতে খেতে পারেন হতদরিদ্র মানুষেরা। এমনই মানবিক এক প্রকল্প চালু করল রেল।

[আরও পড়ুন: রূপকুণ্ডের জলে রহস্যময় হাড় কার? ফাঁস করলেন বিজ্ঞানীরা]

পাইলট প্রোজেক্ট হিসাবে স্বাধীনতার দিবসে কর্নাটকের হুব্বালি স্টেশনে এমনই ‘পাবলিক ফ্রিজ’ রেখে মানবিকতার নজির রাখা শুরু করল রেল।     রেলের তরফে আবেদনে সাড়া মিলল একেবারে কল্পনাতীতভাবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিন দিনে শতাধিক মানুষ এই ফ্রিজে খাবার রেখেছেন একেবারে সযত্নে। রীতিমতো খাবার প্যাকেটে করে গুছিয়ে রেখে যাত্রীরা মানবিকতার নজির রেখেছেন। উদ্দেশ্য সফল হওয়ায় এবার অন্য বড় স্টেশনগুলিতেও এই ধরনের ফ্রিজ রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে রেল বোর্ড।

হাওড়া, শিয়ালদহের মতো রাজ্যের বড় স্টেশনগুলিতে ‘পাবলিক ফ্রিজ’ রাখলে অসংখ্য ভবঘুরে মানুষজন খেতে পারবেন। হাওড়া ও শিয়ালদহের ফুডপ্লাজার ম্যানেজার শংকর নাগের কথায়, হাওড়ায় তাঁদের প্লাজাতে দৈনিক ৩৫ থেকে ৪০ কিলো খাবার বেঁচে যায়। শিয়ালদহে ৩ কিলোর বেশি খাবার বেঁচে যায়। জন আহারে বেঁচে যাওয়া খাবারের পরিমাণ আরও বেশি। এই খাবার নিয়ে যান শূকর ব্যবসায়ীরা। সেই খাবার দরিদ্র মানুষের জন্য দেওয়া হলে অতি ভাল কাজ হবে। আমরা গুরুত্ব ও মর্যাদা দিয়ে সেই খাবার ফ্রিজে রেখে আসব।

[আরও পড়ুন: জাতপাতের লড়াইয়ে আটকাল শেষযাত্রা! ব্রিজ থেকে ঝুলিয়ে নামানো হল দলিতের দেহ]

এই ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে অতি মানবিক হলেও রেলকর্তাদের একাংশ মনে করেছেন, স্টেশনে ভবঘুরেদের আড্ডা বাড়বে। সাধারণ যাত্রীরা বিরক্ত হবেন। হাওড়ার সিনিয়র ডিসিএম রাজীব রঞ্জন বলেন, মানবিক দিক দিয়ে দেখলে এটা খুবই বড় কাজ। তবে স্টেশনে এই ফ্রিজ থাকলে ভবঘুরেরা তার আশপাশে ভিড় জমাবে। বাইরের থেকেও চলে আসবে খাবারের সন্ধানে। তখন সাধারণ যাত্রীরাই বিরক্ত হবেন। তবে স্টেশনের বাইরে হলে খুব ভাল হবে। রাজধানী এক্সপ্রেসের যাত্রী তন্ময় ও অনন্যার কথায়, রেলের এই মানবিক প্রকল্পকে স্বাগত জানানো উচিত। কারণ, আমাদের দেশে নিরন্ন মানুষের সংখ্যা অনেক। যাত্রীদের সংখ্যাও প্রচুর। ফলে তাঁদের বেঁচে যাওয়া খাবারও অনেক হবে। যা নষ্ট না করে মানুষের মুখে তুলে দিলে বহু ভবঘুরে মানুষ উপকৃত হবেন। এজন্য উন্নসিক হলে চলবে না, হতে হবে মানবিক।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement