Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Indus Treaty

মরার উপর খাঁড়ার ঘা! সিন্ধু চুক্তি স্থগিতই, এবারে ইরাবতীর জলও পাকিস্তানকে দেবে না ভারত

India Stops Water to Pakistan: গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন। এই ঘটনায় পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিদের নাম জড়ায়। তার পরেই সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে ভারত।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১৬:৫৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১৬:৫৯

options
link
মরার উপর খাঁড়ার ঘা! সিন্ধু চুক্তি স্থগিতই, এবারে ইরাবতীর জলও পাকিস্তানকে দেবে না ভারত zoom
নরেন্দ্র মোদি (বাঁ দিকে), শাহবাজ শরিফ ডান দিকে। ফাইল চিত্র

গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন। এই ঘটনায় পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিদের নাম জড়ায়। তার পরেই সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে ভারত। এবার শত্রুপক্ষকে কোণঠাসা করতে ইরাবতীর অতিরিক্ত জলও বন্ধ করতে চলেছে ভারত। জম্মু ও কাশ্মীরের জল সম্পদমন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা জানিয়ে দিলেন, কাশ্মীর-পাঞ্জাবের সীমান্তে তৈরি হচ্ছে শাহপুর কান্দি বাঁধ। ৩১ মার্চের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। এর পরেই ইরাবতীর অতিরিক্ত জল পাকিস্তানে পাঠানো বন্ধ করে দেওয়া হবে। বলা বাহুল্য, এর ফলে অস্বস্তি বাড়ল ইসলামাবাদের।

সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করার পরে কাশ্মীর-পাঞ্জাব সীমান্তে ইরাবতীর বাঁধ তৈরির বিষয়টি জানিয়েছিল ভারত। সম্প্রতি জাভেদ একটি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে দেশের স্বার্থে অগ্রাধিকার বিষয়টি বুঝিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘‘ইরাবতী নদীর অতিরিক্ত জল পাকিস্তানকে দেওয়া হবে না। এটা বন্ধ করতেই হবে।’’ এর কারণও ব্যাখ্যা করেন জম্মু-কাশ্মীরের মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘কাঠুয়া এবং সাম্বা জেলা খরা অধ্যুষিত। (সেই কারণেই) এই প্রকল্পকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’’ উল্লেখ্য, পহেলগাঁও হামলার পরেই জম্মু ও কাশ্মীরে চন্দ্রভাগা নদীর উপরে চারটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজের গতি বাড়ানো হয়। ২০২৭-২৮ সালে ওই প্রকল্প চালু হয়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

ইরাবতী নদীতে বাঁধ তৈরির প্রকল্পে জোর দেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর এই প্রকল্পে অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বরাদ্দ হয় ৪৮৫.৩৮ কোটি টাকা। বাঁধের কাজ সম্পূর্ণ হলে এতদিন পাকিস্তানি প্রবাহিত ইরাবতীর জলে পঞ্জাবে ৫,০০০ হেক্টর এবং জম্মু ও কাশ্মীরে ৩২,১৭৩ হেক্টর জমিতে সেচের সুবিধা হবে। প্রসঙ্গত, ভারতের সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করার প্রতিবাদে হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে নালিশ ঠুকেছে পাকিস্তান। মাঝে শুনানির দিন ধার্য করে দিল্লির জবাব তলব করেছিল হেগের আদালত। যদিও দিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা সিওএ-র এই আইনি প্রক্রিয়ার বৈধতা স্বীকার করে না। ফলে শুনানিতে অংশও নেয়নি তারা।

১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই চুক্তি অনুসারে, ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকবে সিন্ধুর পূর্বের তিন উপনদী— বিপাশা (বিয়াস), শতদ্রু (সাটলেজ) এবং ইরাবতী (রাভি)-র জল। এছাড়া সিন্ধু ও তার দুই উপনদী বিতস্তা (ঝিলম), চন্দ্রভাগার (চেনাব) জলের উপরে থাকবে পাকিস্তানের অধিকার। এই নদীগুলি ভারতের দিক থেকে পাকিস্তানের দিকে বয়ে যায়। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল নেহরু ও পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আয়ুব খানের মধ্যে।

চুক্তির শর্ত বলছে, ভারত বা পাকিস্তান নিজেদের প্রয়োজনে ওই জল ব্যবহার করলেও কোনও অবস্থাতেই জলপ্রবাহ আটকে রাখতে পারবে না। ভারত চুক্তি স্থগিত রাখায় পাকিস্তানের পঞ্জাব এবং সিন্ধু প্রদেশে জলসেচ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। যার প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। কারণ, সিন্ধু ও তার উপনদীগুলির জলের উপরেই পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষি নির্ভরশীল!

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.