২৮ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২০ 

Advertisement

সাত দশকের সম্পর্কে ইতি! টাটা সন্সের সঙ্গে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত সাপুরজি পালনজি গ্রুপের

Published by: Subhajit Mandal |    Posted: September 23, 2020 9:09 am|    Updated: September 23, 2020 10:22 am

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ সাত দশকের সম্পর্কে ইতি। টাটা সন্সের (Tata Sons) সঙ্গে সবরকম সম্পর্ক ছিন্ন করছে সাপুরজি-পালনজি পরিবার। মঙ্গলবার তাঁরা সুপ্রিম করতে জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে টাটার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। সাপুরজি-পালনজি গ্রুপ (Shapoorji Pallonji Group) টাটা গোষ্ঠীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশীদার। এই মুহূর্তে তাঁদের হাতে সংস্থার ১৮.৪ শতাংশ অংশীদারিত্ব। দুটি পৃথক সংস্থার মাধ্যমে সেই অংশীদারিত্ব ধরে রেখেছে তাঁরা। মিস্ত্রি পরিবারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবার সেই শেয়ার তাঁরা বিক্রি করে দিতে চান। টাটা গোষ্ঠীও জানিয়ে দিয়েছে মিস্ত্রিদের শেয়ার কিনতে তাঁদের আপত্তি নেই। 

বেশ কিছুদিন ধরেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মনমালিন্য চলছিল। টাটার বোর্ডরুমের বিবাদ গড়িয়েছিল আদালত পর্যন্ত। সম্প্রতি মিস্ত্রি পরিবারকে শেয়ার বিক্রি করে টাকা তোলার ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে টাটা সন্সের বিরুদ্ধে। তারপরই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় মিস্ত্রিরা। মঙ্গলবার টাটার তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে,”সাপুরজি পালনজি এবং টাটার সম্পর্ক ৭০ বছরের পুরনো। পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের কারণেই এত দীর্ঘ সময় এই সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সাপুরজি পালনজি গ্রুপ সুপ্রিম কোর্টে জানিয়ে দিয়েছে, সবার স্বার্থ সুরক্ষার জন্য এই সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।” টাটা গোষ্ঠী জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে সাপুরজি পালনজি ভারাক্রান্ত। কিন্তু এর ফলে সবার স্বার্থই সুরক্ষিত থাকবে।

[আরও পড়ুন: সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করবে না কোনও দেশই, যৌথ বিবৃতিতে জানাল ভারত-চিন]

গত ৫-৬ বছর ধরেই চলছিল নরমে-গরমে। ২০১৬ সাল নাগাদ প্রথম প্রকাশ্যে আসে বিবাদ। টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় সাপুরজি-পালনজি পরিবারের সদস্য সাইরাস মিস্ত্রিকে (Cyrus Mistry)। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে টাটা সন্সের এগজিকিউটিভ চেয়ারম্যান নিযুক্ত সাইরাস। ২০১৬ সালে তাঁকে সেই পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থার বোর্ড অব ডিরেক্টর্স। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মানতে রাজি ছিলেন না সাইরাস। তিনি সিদ্ধান্ত নেন আইনি লড়াইয়ের। প্রায় তিন বছর দ্য ন্যাশনাল কোম্পানি ল অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালের নির্দেশে নিজের পুরনো পদ ফিরে পান সাইরাস। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত মানতে চায়নি টাটারা। এবারে তাঁরা সাইরাসের বিরুদ্ধে আবেদন করে সুপ্রিম কোর্টে। তারপর থেকে শীর্ষ আদালতে আইনি লড়াই চলছিল। এরই মধ্যে মঙ্গলবার আদালতে সাইরাস মিস্ত্রি জানিয়ে দিয়েছেন, টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁরা আর কোনও সম্পর্ক রাখতে চান না।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement