Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Kerala Assembly Elections 2026

তৃতীয়বারের স্বপ্নে আত্মবিশ্বাসী বাম, তবুও ভোটের ময়দানে প্রশ্নে ঘেরা তিরুবনন্তপুরম

ঔপনিবেশিক যুগের আগেই এই অঞ্চল ছিল ত্রাভাঙ্কোর রাজ্য-এর রাজধানী। ত্রাভাঙ্কোর ছিল দক্ষিণ ভারতের অন্যতম প্রগতিশীল দেশীয় রাজ্য, যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং প্রশাসনিক সংস্কারের সূচনা হয়েছিল অনেক আগেই। এই ঐতিহ্য পরবর্তীকালে কেরলমের রাজনৈতিক চেতনার ভিত তৈরি করে। ১৯৪৯ সালে ত্রাভাঙ্কোর-কোচিন সংযুক্ত হওয়ার পর এবং ১৯৫৬ সালে কেরল রাজ্য গঠনের সঙ্গে সঙ্গে তিরুবনন্তপুরম রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১৫:১৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১৫:১৫

options
link
তৃতীয়বারের স্বপ্নে আত্মবিশ্বাসী বাম, তবুও ভোটের ময়দানে প্রশ্নে ঘেরা তিরুবনন্তপুরম zoom
শুক্রবার ভোটের প্রচারে সিপিএম প্রার্থী ভি শিবানকুট্টি। নিজস্ব চিত্র।

“লিখে নিন, তৃতীয়বার এলডিএফ ক্ষমতায় আসতে চলেছে। আবার রেকর্ড হবে।” অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে চেয়ারে হেলান দিলেন ডঃ সুকুমারান ভিআই। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বোঝার চেষ্টা করলেন, আমাকে বিশ্বাস করাতে পারলেন কি না। আসলে, স্বাধীনতার পর থেকে এই রাজ্যে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সরকার বদল হয়েছে। বাম নেতৃত্বের এলডিএফ ও কংগ্রেস নেতৃত্বের ইউডিএফ পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় এসেছে। সেই ট্র্যাডিশনে ছেদ পড়ে ২০২১ সালে। টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতা দখল করে রেকর্ড গড়ে এলডিএফ। বামেরাও ড. সুকুমারানের মতোই তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।

সবচেয়ে বড় কথা, কেরলমের বামেরা এখনও পর্যন্ত ভূমি সংস্কারের মাইলেজ নেয়। সুকুমারান বললেন, “আপনাদের রাজ্যে ভূমি সংস্কার হয়েছে তো?”

Advertisement

আমি মাথা নেড়ে বললাম, “হয়েছে, ১৯৭৭-এর পর।”

সুকুমারান বললেন, “এখানে ১৯৫৭-তে…।”

কেরলম পর্যটনের পাশাপাশি প্রথাগত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা এবং পঞ্চকর্ম থেরাপির জন্য বিশ্বখ্যাত। তেমনই একটি তিরুবনন্তপুরমে তেমনই একটি ক্লিনিক চালান ড. সুকুমারান।

রাজধানী তিরুবনন্তপুরম ভোটের উত্তাপে টগবগ করছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, শহরের রাস্তা থেকে উপকূলবর্তী গ্রাম- সব জায়গাতেই চোখে পড়ছে তীব্র রাজনৈতিক প্রচার, মিছিল, পোস্টার আর চায়ের দোকানের তর্ক। এবারের ভোটে এখানে মূল লড়াই এলডিএফ, ইউডিএফ এবং এনডিএ- এই তিন শক্তির মধ্যে, ফলে ভোটের অঙ্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে। নেমম, পারাসালা-সহ একাধিক কেন্দ্রে লড়াই জমে উঠেছে। নেমমে বিজেপির সক্রিয়তা যেমন নজর কেড়েছে, তেমনই পারাসালায় বাম ও কংগ্রেসের ঐতিহ্যগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবারও স্পষ্ট। বিভিন্ন কেন্দ্রে পরিচিত রাজনৈতিক মুখের পাশাপাশি নতুন প্রার্থীরাও ভোটের ময়দানে নেমেছেন, যার ফলে ভোটারদের মধ্যে কৌতূহলও বেড়েছে।

শহরের ভিতরে ঘুরলে বোঝা যায়, ভোটারদের মন একেবারেই একমুখী নয়। টেকনোপার্কের কাছে এক আইটি কর্মীর কথায়, “চাকরির সুযোগ বাড়েনি, অনেকেই বাইরে চলে যাচ্ছে। উন্নয়নের কথা শোনা যায়, কিন্তু সেটা আমাদের জীবনে কতটা আসছে, সেটাই প্রশ্ন।” আবার কোভালাম উপকূলের এক মৎস্যজীবী বললেন, “আমাদের জন্য স্থায়ী কোনও সমাধান হয়নি। সমুদ্র ভাঙন, ডিজেলের দাম সব মিলিয়ে কষ্ট বাড়ছে।” এখানে গালফে কর্মরত পরিবারের সংখ্যাও কম নয়। সেই কারণে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। শহরের উপকণ্ঠে এক গৃহবধূ কবিতা মানোজ বলছিলেন, “ওদিকে কিছু হলে এখানে সংসার চালানো মুশকিল হয়ে যাবে। তাই ভোট দেওয়ার সময় এই বিষয়টাও ভাবছি।”

বর্তমান সরকার উন্নয়নের নানা প্রকল্পের কথা তুলে ধরলেও, মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্ব বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। এলপিজি সিলিন্ডারের দাম থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের খরচ, সবই সাধারণ মানুষের আলোচনায়। পুঝায়ুরা এলাকার এক অটোচালকের কথায়, “রাস্তা ঠিক করা আর কাজের সুযোগ, এই দুটো হলে তবেই আমাদের সুবিধা। শুধু প্রতিশ্রুতি শুনে আর লাভ নেই।”

ঔপনিবেশিক যুগের আগেই এই অঞ্চল ছিল ত্রাভাঙ্কোর রাজ্য-এর রাজধানী। ত্রাভাঙ্কোর ছিল দক্ষিণ ভারতের অন্যতম প্রগতিশীল দেশীয় রাজ্য, যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং প্রশাসনিক সংস্কারের সূচনা হয়েছিল অনেক আগেই। এই ঐতিহ্য পরবর্তীকালে কেরলমের রাজনৈতিক চেতনার ভিত তৈরি করে। ১৯৪৯ সালে ত্রাভাঙ্কোর-কোচিন সংযুক্ত হওয়ার পর এবং ১৯৫৬ সালে কেরল রাজ্য গঠনের সঙ্গে সঙ্গে তিরুবনন্তপুরম রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর থেকেই এখানে বামপন্থী রাজনীতি এবং কংগ্রেস-এই দুই ধারার শক্তিশালী প্রভাব দেখা যায়। ই এম এস নাম্বুদিরিপাদ-এর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালে বিশ্বের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকার গঠনের ঘটনাও কেরলমের রাজনৈতিক ইতিহাসে যুগান্তকারী, যার প্রভাব তিরুবনন্তপুরমে বিশেষভাবে অনুভূত হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিরুবনন্তপুরমে ফল নির্ধারণ করবে মূলত শহুরে মধ্যবিত্ত এবং প্রথমবারের ভোটারদের মনোভাব। পাশাপাশি সংখ্যালঘু ও ঐতিহ্যগত দলীয় ভোটব্যাঙ্কও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। কেরলে ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলেছে, ফলে উন্নয়ন ও কল্যাণের প্রশ্নই ভোটের কেন্দ্রে থাকছে। এই ইস্যুভিত্তিক রাজনীতিই এলডিএফের পক্ষে যাচ্ছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.