সোমনাথ রায়, নয়াদিল্লি: বাংলার পঞ্চায়েত ভোটে অশান্তির অভিযোগ তুলে বারবার সুর চড়িয়েছে বিজেপি। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই বাংলায় এসেছে বিজেপির মহিলা প্রতিনিধি দল। পাঁচলায় বিজেপির মহিলা প্রার্থীর হেনস্তার কথা বলতে গিয়ে কেঁদে আকূল হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়।
মণিপুরের ঘটনায় সর্বত্র জোর চাপানউতোর। এই ইস্যুতে ইতিমধ্যেই সুর চড়িয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। পালটা বাংলায় নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে চাপ তৈরির চেষ্টা বিজেপির। নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন লকেট। বলেন, “মণিপুরের ঘটনা খুবই সংবেদনশীল। এই ঘটনা খুবই দুঃখের। মণিপুররে মেয়েটি দেশের মেয়ে। কিন্তু আমরা বলতে চাই বাংলার পঞ্চায়েত ভোটের নামে খুনের নির্বাচন হয়েছে। এই ভোট সন্ত্রাসের ভোট। মহিলাদের উপর নৃশংসভাবে নির্যাতন, অত্যাচার করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে একজন মহিলা। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও ১২ বছরে বহুবার মহিলাদের উপর নির্যাতন হয়েছে।”
[আরও পড়ুন: প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মা! দেখে ফেলায় ছেলেকে ‘খুন’ মহিলার]
এরপরই হাওড়ার পাঁচলায় মহিলা বিজেপি প্রার্থীর হেনস্তার কথা বলতে গিয়ে কেঁদে আকূল লকেট। চোখের জল মুছতে মুছতে হুগলির বিজেপি সাংসদ বলেন, “৮ জুলাই পঞ্চায়েত ভোটের দিন এক বিজেপি প্রার্থীকে বুথের ভিতর বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হয়। তাঁর গোপানাঙ্গে হাত দেওয়া হয়। এফআইআর করা হয়েছে। সেই ঘটনার কোনও ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি। কেউ ভিডিও করতে পারেনি। কারণ ওখানে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অনেকে দাঁড়িয়েছিলেন। এই ঘটনার কী কোনও বিচার হবে না? কংগ্রেসও এখন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মাধ্যমে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত। সোনিয়া বা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এখনও কেন এই নিয়ে কথা বলছেন না? আমরাও তো মহিলা। এই অত্যাচারের মধ্যে আমরা এখন কোথায় যাব? আপনারাই বলুন।” তবে লকেটের কান্নাকাটিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ঘাসফুল শিবির।