Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Mahua Moitra

মহুয়া-পিকে ‘ভুয়ো’ চ্যাট ভাইরাল, যোগীরাজ্যে অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে হেনস্তার শিকার বাংলার পুলিশ!

Fake Chat Controversy: তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও ভোট কৌশলী কংগ্রেস নেতা প্রশান্ত কিশোরের মেসেজ 'চ্যাট' ভাইরাল হয়েছে স্ক্রিনশট আকারে। 'ভুয়ো' ওই চ্যাটের প্রেক্ষিতে কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সাংসদ। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্তের সন্ধান পায়। যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশে যায় কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ১৬:৪৩

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ১৬:৪৩

options
link
মহুয়া-পিকে ‘ভুয়ো’ চ্যাট ভাইরাল, যোগীরাজ্যে অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে হেনস্তার শিকার বাংলার পুলিশ! zoom
মহুয়া-পিকে 'ভুয়ো' চ্যাট ভাইরাল ঘিরে বিতর্ক।

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও ভোট কৌশলী কংগ্রেস নেতা প্রশান্ত কিশোরের মেসেজ ‘চ্যাট’ ভাইরাল হয়েছে স্ক্রিনশট আকারে। ‘ভুয়ো’ ওই চ্যাটের প্রেক্ষিতে কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সাংসদ। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্তের সন্ধান পায়। যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশে যায় কোতোয়ালি থানার পুলিশ। সেখানেই চরম হেনস্তা হতে হল বাংলার পুলিশকে! অভিযুক্তকে ধরতে সাহায্য করা তো দুরস্ত, বাংলার পুলিশকেই থানায় বসিয়ে রাখা হল বলে অভিযোগ। নয়ডায় এই ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার সূত্রপাত বেশ কিছুদিন আগে। উত্তরপ্রদেশের নয়ডার বাসিন্দা সুরজিৎ সেনগুপ্ত নামে এক ব্যক্তি এক্স হ্যান্ডেলে একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করেছিলেন। দাবি করা হয়েছিল, ওই স্ক্রিনশটটি সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও ভোট কৌশলী কংগ্রেস নেতা প্রশান্ত কিশোরের ব্যক্তিগত চ্যাটের। ওই ‘লাভ চ্যাট’ নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক মাধ্যমে। যদিও সেই চ্যাটের সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল।

Advertisement

গত ৭ ফেব্রুয়ারি কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানায় মহুয়া মৈত্র লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করে ওই চ্যাটের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা করে। দেখা যায়, ওই চ্যাটটি আসলে ভুয়ো। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই চ্যাটটি তৈরি করা হয়েছিল। 

ওই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহকে শোরগোল ছড়িয়ে পড়েছিল। এদিকে জানা যায়, সুরজিৎ সেনগুপ্ত বিজেপির মিডিয়া সেলে কর্মরত। গত ৭ ফেব্রুয়ারি কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানায় মহুয়া মৈত্র লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করে ওই চ্যাটের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা করে। দেখা যায়, ওই চ্যাটটি আসলে ভুয়ো। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই চ্যাটটি তৈরি করা হয়েছিল, এমনই অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিজিটাল ফরেনসিক বিভাগ ওই চ্যাট পরীক্ষা করে নিশ্চিত করে যে সেটি সম্পূর্ণ ভুয়ো ও মনগড়া।

এরপরই অভিযুক্ত সুরজিৎ দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে নোটিস পাঠানো হয়। তবে অভিযোগ দায়েরের পর ৯ ফেব্রুয়ারি থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি উপস্থিত হননি। এমনকী পুলিশের সঙ্গে কোনও যোগাযোগও করেননি বলে অভিযোগ। এরপর আদালতের দ্বারস্থ হয়ে কৃষ্ণনগর পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার চার সদস্যের একটি বিশেষ দল নয়ডা-য় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় ওই পুলিশের দলকে।

অভিযোগ, নয়ডার ফেজ টু থানার পুলিশ বাংলার পুলিশদের থানায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। থানায় নিয়ে গিয়ে তাঁদের কার্যত বসিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রের দাবি, নয়ডার স্থানীয় পুলিশের হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। অভিযোগ, ফেজ টু থানা এলাকার চৌকি নম্বর ১১০-এর অন্তর্গত পুলিশ সদস্যরা কৃষ্ণনগরের বিশেষ দলকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন এবং অভিযুক্তকে পালাতে সাহায্য করেন। কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রায় দেড় ঘণ্টা থানায় বসিয়ে রাখা হয় ওই দলকে!

কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার আইসি জানিয়েছেন, স্থানীয় পুলিশ নাকি জানিয়েছে যে রাজনৈতিক উচ্চমহলের নির্দেশ রয়েছে গ্রেপ্তার না করার। অভিযুক্ত ব্যক্তি নাকি ভারতীয় জনতা পার্টি-র স্থানীয় মিডিয়া সেলের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে কৃষ্ণনগরের বিশেষ দল এখনও নয়ডায় অবস্থান করছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আইসি আরও জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ মেনেই পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘটনাকে ঘিরে দুই রাজ্যের পুলিশের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.